Published : 29 Jun 2026, 01:12 AM
বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোথায় কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, কারা করেছে, তা দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন কক্সবাজার-১ আসনের এই সংসদ সদস্য।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, আজকে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের ১৮ মাসের সকল কিছুর জন্য আপনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেন, করাপশন কোথায় হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কারা করেছে, সবকিছু ‘ফাইন্ড আউট’ হোক।”
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন বাংলাদেশ-টিআইবির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতিও ছাড় পাওয়া উচিত নয়।
জুলাই সনদে স্বাক্ষর নিয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্যেরও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা নির্বাচনের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করে জুলাই সনদে সবাই মিলে সমঝোতায় এসেছি এবং স্বাক্ষর করেছি। আমরা ওই সমস্ত পয়েন্টে একমত নাও হতে পারতাম, কিন্তু জাতির স্বার্থে আমরা সেটা করেছি। এটা কেন মিসইন্টারপ্রেট করা উচিত?”
সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচন না হয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা চলতে পারে, এমন পরিকল্পনাও তাদের নজরে রাখতে হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চ্যালেঞ্জের জবাব
ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প বা আরডিএসের অর্থ বিতরণ নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের জবাবও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে তিনি আগে সংসদে বলেছিলেন; সেই বক্তব্যের প্রমাণ চাওয়া হয়েছিল।
চ্যালেঞ্জের জবাবে সরকারি দলের এই সদস্য বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৪৮ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৫৩৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
“টোটাল ডিসবার্সমেন্ট ফ্রম আগস্ট ২৪ টু জানুয়ারি ২০২৬, ১০ হাজার ৫২৭ কোটি। আমি ১১ হাজার বলেছিলাম।”
ইবনে সিনা ট্রাস্ট ও ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেনের কথাও সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার দাবি, ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ইবনে সিনা ট্রাস্টের ৩ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ২৫ টাকা দরে ৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই দিনে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি শেয়ার একই দরে বিক্রি হয়েছে।
ওই অংশে তিনি দ্রুত কয়েকটি সংখ্যা পড়ে শোনান; বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
জামায়াতের ইতিহাস ১০০ নয়, ৮৪ বছরের
জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সংসদে নিজের আগের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে দলটির ইতিহাস, নির্বাচনি ইশতেহার, ১৯৭১ সালের ভূমিকা এবং ‘ইসলামী দল’ পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সালাহউদ্দিন।
‘জামায়াতকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে’- জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এ মন্তব্যের পাল্টায় তিনি বলেন, দলটির জন্ম ১৯৪১ সালের ২৬ অগাস্ট; সে হিসাবে জামায়াতের ইতিহাস ১০০ বছরের নয়, ৮৪ বছরের।
এর আগে সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আলোচনায় সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, “ইসলামী ব্যাংকও ইসলাম না, আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম না, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম না।”
সেই বক্তব্যের জবাবে শনিবার সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে।
১৯৭১ সালের ভূমিকা
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতের ইতিহাস আলোচনা করলে ১৯৭১ সালের ভূমিকাও সামনে আসবে।
তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আইনে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।
“জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আইনে যে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, এটা ফয়সালা হয়ে গেছে।”
মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দুইজন সদস্য ছিলেন, বলেন তিনি।
তবে জামায়াতের কিছু ভূমিকার প্রশংসাও করেন সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, “৯০-তে আপনাদের ভূমিকা ভালো ছিল। ২৪-এ আপনাদের ভূমিকা ভালো ছিল। আমরা তো সেই স্বীকৃতিটা দিই।”