ট্রেনে নাশকতা: বিএনপি ও মিত্রদের দায়ী করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
এক সপ্তাহের মধ্যে দুইবার নাশকতার শিকার মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের মোট পাঁচ যাত্রী নিহত হন।
ঢাকা-নেত্রকোণা রুটে চলা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন এবং তার আগে লাইনচ্যুত হওয়ার পেছনে বিএনপি ও এর মিত্রদের দায়ী করে দুটি বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করা বিবৃতিতে ওই দুই ঘটনার কয়েকটি ছবিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন বলেছেন, দেশি-বিদেশি পাঠক ও দর্শকদের কাছে তুলে ধরতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিদেশি মিশনগুলোকে ট্রেনে আগুনের বিষয়ে জানানো হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই ঘটনাটা আমাদের ওয়েবসাইট এবং ফেইসবুক পাতায় পোস্ট করেছি। আপনারা জানেন, আমাদের ফেইসবুক পাতাটায় আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সব ধরনের অডিয়েন্স রয়েছে।”
গত ১৩ ডিসেম্বর ভোর ৪টার দিকে গাজীপুরের নির্জন এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রেললাইনের পাত কেটে রাখা হয়, যাতে ছিটকে পড়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের সাতটি বগি।
বিএনপির ডাকা অবরোধের মধ্যে ওই নাশকতার ঘটনায় একজন নিহত এবং প্রায় অর্ধ শতাধিক যাত্রী আহত হন।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৯ ডিসেম্বর বিএনপি এবং জামায়াতের ডাকা হরতাল শুরুর ঠিক আগে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে আগুন দেওয়া হয়। নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় আসার পথে বিমানবন্দর স্টেশনের পর দেওয়া সেই আগুন ট্রেনের তিনটি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে অঙ্গার হন শিশু-নারীসহ চার যাত্রী।
রেলে নাশকতার বিবরণ দিয়ে দুই বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাংলাদেশ যখন ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করার জোর প্রচেষ্টা জাতি লক্ষ্য করছে।
“নাগরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন পেতে ব্যর্থ হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের মিত্রদের একটি অংশ আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অবরোধের তৈরি প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।”
বিএনপির একটি কৌশলগত অবস্থান সারাদেশে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলছে, “ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্য এবং তাদের অজনপ্রিয় ও অসাংবিধানিক দাবি মেনে নেওয়ার চাপ দিতে ধ্বংসাত্মক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে তাদের সমর্থকরা।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্তান বুকে জড়িয়ে চিতায় জ্বলা একজন মায়ের জন্য কোনোভাবে এই দেশের নাগরিক হওয়ার মূল্য চুকানো হতে পারে না। এবং জনগণকে জিম্মি করা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম হতে পারে না।”
