Published : 06 Nov 2025, 06:38 PM
আমজনতার দলের নিবন্ধন দাবিতে আমরণ অনশনে বসা দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, “কাউকে আমি ছোট করতে চাই না। কিন্তু তার (তারেক) যে চিন্তা, রাজনৈতিক সংগ্রাম, কর্মসূচি অনুযায়ী যে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে, সে রাজনৈতিক দলের (আমজনতার দল) নিবন্ধন অবশ্যই সে প্রাপ্য।
“এ ন্যায় সঙ্গত কারণে যে অনশন করছে, তার এ অনশন কর্মসূচির প্রতি আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির পক্ষ থেকে পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করছি।”
বৃহস্পতিবার বিকালে অনশনের ৫০ ঘণ্টা পার যখন করছিলেন তারেক, তখন নির্বাচন ভবনের সামনে গিয়ে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, “আমজনতার দল ইতোমধ্যে আবেদন করেছিল, সে আবেদনটি গ্রাহ্য করা হয়নি। আমি দেখেছি, আরও গুরুত্বহীন কিছু সংগঠন তারাও নিবন্ধিত হয়েছে। কিন্তু তারেকেরটা দেওয়া হল না কেন, আমি বুঝতে পারলাম না।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমজাতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দিতে মঙ্গলবার বিকালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি।
নিবন্ধনের যাচাই-বাছাইয়ের শেষ ধাপে বাদ পড়ে ১৯টি দল, যার একটি আমজতার দল। দলটির নেতা তারেক ইসির সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই নির্বাচন ভবনের সামনে গিয়ে আমরণ অনশনে বসেন।
বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, “আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক এ দেশের স্বার্থে কথা বলেছে, আগ্রসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কথা বলেছে।
“সে (তারেক) একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে তার বৈধতার জন্য। নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল। সে তো কোনো গোপন রাজনৈতিক দল করতে চায়নি, আইন সম্মত রাজনৈতিক দল করতে চেয়েছে। যদি তার উদ্দেশ্য খারাপ থাকতো, তাহলে গোপন রাজনৈতিক দল করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ করতো।”
রিজভী বলেন, “বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, স্বাধীনতার স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এ নেতা (তারেক) কথা বলেছে। আমি দেখেছি, সে গলার মধ্যে মোবাইল ঝুলিয়ে আগ্রসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, স্বাধীনতার স্বপক্ষে কথা বলেছে।
“দেশকে যারা অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, সে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তারেক। আজ তার দলের নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে না।”
এর আগে বুধবার তারেকের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে গণঅধিকার পরিষদ, সাম্যবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন আমজনতার দলকে নিবন্ধন দেওয়ার দাবি জানিয়ে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে নিজেদের দ্বন্দ্বে দলটি দুই ভাগ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক পদ থেকে সরে যান রেজা কিবরিয়া।
গণঅধিকার পরিষদের একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁন। অপর অংশটি চলছিল মিয়া মশিউজ্জামান ও ফারুক হাসানের নেতৃত্বে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নুর-রাশেদের অংশ নিবন্ধন পায়, যেটিতে পরে যোগ দেন ফারুক হাসান। এর কিছুদিন বাদে গত ২৮ জানুয়ারি মিয়া মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের নাম বদলে করা হয় ‘আমজনতার দল’।
তারেকের দলকে 'অবশ্যই' নিবন্ধন দিতে হবে: রাশেদ খাঁন
নিবন্ধন না পেয়ে ইসির সমানে অনশনে আমজনতার তারেক