Published : 05 Nov 2025, 01:54 PM
আমজনতার দলের নিবন্ধন দাবিতে দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেছেন, আমজনতার দলের তারেক রহমানের আন্দোলন যৌক্তিক এবং তার দলকে অবশ্যই নিবন্ধন দিতে হবে।
বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে তারেকের কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি এ সংহতি জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমজাতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ও বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দিতে মঙ্গলবার বিকালে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইসি।
নিবন্ধনের যাচাই-বাছাইয়ের শেষ ধাপে বাদ পড়ে ১৯টি দল, যার একটি আমজতার দল। দলটির নেতা তারেক ইসির সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই নির্বাচন ভবনের সামনে গিয়ে আমরণ অনশনে বসেন। এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ, সাম্যবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
বুধবার তারেককে সমর্থন জানাতে এসে গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খাঁন বলেন, “তারেক রহমান ভাই যে আন্দোলন করছেন, এই আন্দোলন যৌক্তিক এবং তার দল আমজনতার দলকে অবশ্যই নিবন্ধন দিতে হবে।
“রাজপথের লড়াকু সৈনিক ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে যিনি সবসময় রাজপথে লড়াই করেছেন, প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে নির্বাচন কমিশনের মূল ফটকের সামনে তার দলের নিবন্ধনের দাবিতে অনশন করছেন। আমি সিইসির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইব।”

জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের দল এনসিপি নিবন্ধন পেলেও বাকি দুটি দল কীভাবে নিবন্ধন পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ।
তার কথায়, “আমরা মনে করি, নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নম্বর শর্ত হতে হবে রাজপথের সক্রিয়তা। কিন্তু এই সক্রিয়তা বিবেচনা না করে শুধুমাত্র কমিটি দিয়েছে, বাসা-বাড়িকে অফিস হিসেবে দেখিয়ে— তারা এই ছলে বলে কৌশলে নিবন্ধন পাবে; সেটি আমরা কোনোভাবেই মানতে পারি না।”
আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের গড়া বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ায় ইসির সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাশেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সঠিক তদন্ত করেননি।
এসময় তারেক রহমান বলেন, “আমরণ অনশনের জন্য আমি একাই যথেষ্ট। আমার কেন্দ্রীয় কমিটির ১৪১ সদস্য আছে। সবাই এখানে আসলে বিষয়টি কেমন দেখায়!
“এখানে শক্তি প্রদর্শনের বিষয় নয়; আমার আমরণ অনশন সবাইকে বার্তা দেওয়ার জন্য। আমার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।”
২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে গণঅধিকার পরিষদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে নিজেদের দ্বন্দ্বে দলটি দুই ভাগ হয়ে যায়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক পদ থেকে সরে যান রেজা কিবরিয়া।
গণঅধিকার পরিষদের একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁন। অপর অংশটি চলছিল মিয়া মশিউজ্জামান ও ফারুক হাসানের নেতৃত্বে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নুর-রাশেদের অংশ নিবন্ধন পায়, যেটিতে পরে যোগ দেন ফারুক হাসান। এর কিছুদিন বাদে গত ২৮ জানুয়ারি মিয়া মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের নাম বদলে করা হয় ‘আমজনতার দল’।
সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ রাশেদের
তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা রাশেদ খান পরে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে দুপুর ১টার দিকে নির্বাচন ভবনে রাশেদ খাঁন বলেন, “একটি দল নিবন্ধন না পেয়ে ইসি ভবনের ফটকে আন্দোলন করছে, এমন অনেক দল নিবন্ধন পায়নি। এ বিষয়ে সিইসির কাছে অনুরোধ করেছি- সামনে নির্বাচন, এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। সিইসি বলেছেন, ‘আমি কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে তুলব এবং এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে’।”
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিকদের ভোটের বাইরে রাখতে ফের অনুরোধ করেছেন বলে জানান গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ১৪ দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে সুযোগ দিলে আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচাল করে দেবে, ভোটকেন্দ্রে মারামারি ও কেন্দ্রে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। তারা নির্বাচন বানচাল করবে।”