Published : 23 Feb 2026, 05:33 PM
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে দপ্তর পুনর্বণ্টনের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
সংগঠনটির দুই যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, একজন ‘অ-পাহাড়ি’ প্রতিমন্ত্রীকে এই মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।
বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘গণতান্ত্রিক পথে বাংলাদেশের নতুন এই অভিযাত্রায়’ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারসহ সকল প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকারের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে বলে তারা আশাবাদী।
কিন্তু নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন ‘পাহাড়িকে’ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আরেকজন ‘অ-পাহাড়িকে’ প্রতিমন্ত্রীর পদে রাখা হয়েছে, যা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের আপত্তি রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রদান ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, “১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির সাথে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরু করে।
“তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখে।”
তারা বলেন, “এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য জেলার তিনটি আসনে পাহাড়ের ভোটাররা বিপুল ভোটে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচিত করে। এতে প্রতীয়মান হয়, বিএনপির প্রতি পাহাড়ের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।
“বিএনপি তাদের ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির ‘রেইনবো নেশন’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রেইনবো নেশনের বুনিয়াদ মজবুত করার লক্ষ্যে নবগঠিত সরকারের উচিত হবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং দপ্তর পুনর্বণ্টন করা।”