Published : 12 Jun 2026, 03:41 PM
দুই দশক বাদে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার যে অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর বাজেট দিয়েছে তার সমালোচনা করেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “অর্থপুনর্বণ্টন, প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বাজেট করেছে। প্রশ্ন হলো, ঝুঁকিটা কোথায়? সরকার যে তথ্যর উপর বাজেট প্রাক্কলন করেছে, সেটার ভিত্তি হলো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যর উপর।
“এটার উপর ভর করেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেটা আসবে, সেটা সম্পদ আহরণ থেকে শুরু করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি বলি আর আমদনি—সবকিছুর ভিত্তিটা যেটা করা হয়েছে, আমাদের উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, এই ভিত্তিটাই ঠিক না।”
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শুক্রবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭: সিপিডি’র পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দুর্বল ভিত্তিটার উপর আগামী বাজেটের প্রাক্কলনগুলো করা হয়েছে। এখানে বাজেট বাস্তবায়নের শৃঙ্খলাটা দেখা যাবে না।”
অনুষ্ঠানে ডিজিটাল উপস্থাপনায় দেখানো হয়, অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই ভালো অবস্থানে নেই। চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্বক রয়েছে, তবু আগামী অর্থবছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.৭ শতাংশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৪ শতাংশে কিছুটা বেশি, সেখানে নতুন অর্থবছরে ধরা হয়েছে ৬.৫ শতাংশ। রাজস্ব সংগ্রহও ভালো অবস্থানে নেই।
এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অর্থনীতিবিদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত ১০ মাসে অর্থনীতি এমন অবস্থায় রয়েছে। শেষ সময়ে কি অর্থনীতিতে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হবে? সেটা ধরেই বাজেট করা হয়েছে। অর্থনীতির এমন চিত্রের মধ্যে হঠাৎ করেই কি সব বদলে যাবে?
“আমাদের মূল্যস্ফীতির মাত্রা কি কমে যাবে? প্রাইভেট সেক্টরের ক্রেডিট গ্রোথ কি হঠাৎ করে বেড়ে যাবে? রাজস্ব আদায় হঠাৎ করে বেড়ে যাবে? এই প্রাক্কলনটা আরো বাস্তবসম্মত করলে বাজেট শৃঙ্খলাটা ভালো হতো।”
তিন মাস পরেই চলতি অর্থবছরের অর্থনীতির সব সূচকের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে, তখন বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘সরকার এইসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাক্কলনগুলো করতে পারতো। কারণ অর্থনীতির এই দায়ভার তেf তাদের না।
“তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করে এসেছেন। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তন, তাদের পক্ষে করা সম্ভব না। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা তারা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে।”
বাজেটে টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ নতুন সরকারের ছিল বলে মন্তব্য করেন মোস্তাফিজুর।
রাজস্ব আদায়ের বর্তমান হার অনুযায়ী আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দরকার পড়বে।
এটি সম্ভব নয় মন্তব্য করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাজস্ব আসবে কোথা থেকে। বাজেট বাস্তবায়নের বড় আকাঙ্ক্ষার সবটাই নির্ভর করবে সঠিক বরাদ্দ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার উপর।”