আগামীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা কঠিন হবে: মেনন

ভোটের আগে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের প্রধান শরিকের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুব বাজে অভিজ্ঞতা।”

শেখ আবু তালেবসৌমিক হাসীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 Jan 2024, 07:21 PM
Updated : 21 Jan 2024, 07:21 PM

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে ১৪ দলীয় শরিক ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে যা যা হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে পরের নির্বাচনে সমঝোতা কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন।

আওয়ামী লীগের ছাড়ে নৌকা নিয়ে মেনন জিতেছেন বরিশালের একটি আসন থেকে। তবে তার দলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা হেরে গেছেন। এর দায় তিনি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে।

১৪ দলের আরেক শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুও ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি বলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতির ভাষ্য। তিনি বলছেন, এই অভিজ্ঞতা আগামীতে নির্বাচনি সমঝোতার পথ ‍রুদ্ধ করবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাপ্তাহিক আয়োজন ইনসাইড আউটে অংশ নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সমর্থনে টানা চারটি নির্বাচনে জয় পাওয়া মেনন।

রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে  অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।

ইংরেজিতে আধা ঘণ্টার এই আলোচনায় জাতীয় নির্বাচন, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন ভাগাভাগি, বিএনপির ভোট বর্জন, বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্ব হারানোসহ নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে।

পাকিস্তান আমল থেকে বামপন্থায় দীক্ষিত মেনন বাংলাদেশের রাজনীতির এক পরিচিত মুখ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে আন্দোলনের সময় ২০০৪ সালে তার ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ এবং আরো বেশ কয়েকটি দল নিয়ে ১৪ দলীয় জোট গঠন করে আওয়ামী লীগ। পরে জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা, এলডিপি এবং আরো কিছু দলকে নিয়ে গঠন হয় মহাজোট।

আওয়ামী লীগ ১৪ দলকে বলে আদর্শিক জোট, আর মহাজোটকে বলে নির্বাচনি জোট। ২০০৭ সালের নির্বাচন একসঙ্গেই বর্জন করে মহাজোট। পরে ভোট বাতিল করে জরুরি অবস্থা জারি করেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিকল্পধারা ও এলডিপিকে বাদ দিয়ে ভোটে যায় মহাজোট। এরপর দুটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে জোটের বাইরে রেখেই সমঝোতার কৌশল করে আওয়ামী লীগ।

এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া হয় ২৬ আসনে, কিন্তু তারা জেতে ১১টি, আর ১৪ দলের শরিকদের ছাড় দেওয়া হয় ৬ আসন তারা জিতেছে কেবল দুটিতে।

যে ১৯টি আসনে ছাড় পেয়েও ১৪ দল ও জাতীয় প্রার্থীরা হেরেছেন, তাদের মধ্যে ১৮টিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

মেননের কাছে প্রশ্ন ছিল, শরিক দল ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে যা যা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার পথে বাধা হবে কি না।

জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা কঠিন হবে। তারা এবার আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে, ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা বা আলোচনা খুব-কঠিন হবে।”

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনায় দীর্ঘ সময় লাগাতেও নাখোশ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা। তিনি বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুব বাজে অভিজ্ঞতা। আওয়ামী লীগ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি। এ কারণে জোটের প্রার্থীরা নির্বাচন নিয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও নিতে পারেনি।”

রাজশাহী-২ আসনে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা অনিয়মের যে অভিযোগ এনেছেন তা নিয়েও কথা বলেন মেনন।

তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তিনি অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন, কিন্তু কারচুপির অভিযোগ করেননি। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন তার সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের ও কাউন্সিল সদস্যদেরকে নৌকা প্রতীকের বদলে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছিলেন। তিনি এটি করতে পারেন না।

“আবার আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুর রহমান নিজেকে শেখ হাসিনার প্রার্থী বলে প্রচার করেছেন। এটাও তার করার কথা কথা না। রিটার্নিং অফিসারকে এ বিষয়ে নোটিস করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কিছু করেননি। পরে এই অনিয়মের কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও বাদশা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলেননি।”

মেনন বলেন, “আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের নেতৃত্বে ১৪ দলের বৈঠকেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি (লিটন) সেই বৈঠক করতে আসেননি। বৈঠকটি স্থগিত করা হয়, স্থগিত হওয়া বৈঠকটি আর হয়নি। এ কারণে আওয়ামী লীগের সবাই ফজলে হোসেন বাদশার পক্ষে এক হতে পারেননি।

“দ্বিতীয়ত তিনি (লিটন) তার সিটি করপোরেশনের কর্মীদের বাদশার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন ভিডিওসহ আরো অনেক প্রমাণ রয়েছে।’’

কুষ্টিয়া-২ আসনে নৌকা নিয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর হেরে যাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নে মেনন বলেন, “ইনুর বক্তব্য সত্য যে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ তার জন্য কাজ করেনি। আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে।’’

ভোটের পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা করিনি। সব দলের নিজস্ব মূল্যায়ন হবে, এরপর আমবা বসব।”

বিরোধী দলে কারা বসতে যাচ্ছে?

এবারের নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। কারণ, স্বতন্ত্র পরিচয়ে যে ৬২ জন জিতে এসেছেন, তারা জোট করলে বিরোধী দলেও বসতে পারবে।

মেননের মনে অবশ্য এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই। তিনি বলেন, “আমি মনে করি জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হবে সংসদে।’’

এই ‘মনে করার’ কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য দেননি তিনি।

এটা কেমন নির্বাচন?

বিএনপি ভোটে না আসায় আওয়ামী লীগের জয় নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। মেননের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘একটি ভোট পড়ার আগেও যেখানে ফল বলে দেওয়া যায়, সেটি কেমন নির্বাচন?’

জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল আগ থেকেই নিশ্চিত ছিল, আমি তা মনে করি না। শুধু ৭২টির মত আসন ছাড়া নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে বলা যায়।’’

ভোটার উপস্থিতি কম- এটাও মানছেন না মেনন। তিনি বলেন, “৪১ শতাংশ ভোটকে আমি খুব একটা খারাপ নম্বর বলব না। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে গড়ে ৫৬ শতাংশের মত ভোটের হার দেখা যায়। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল, কারণ সেবার ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল।

‘এবার বিরোধী দলগুলো মাঠে ছিল, কিন্তু ভোটে ছিল না। এ কারণে জনগণের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা কম ছিল।”

বিএনপির ৩৩ শতাংশের মত ভোট আছে দাবি করে মেনন বলেন, এই হিসাবে নির্বাচনে যে হারে ভোট পড়ার কথা তা ‘ঠিকই আছে।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বলেন, এই নির্বাচন ছিল ‘সফল’। তার বরিশাল-২ আসনেও ভোট ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়েছে এবং মানুষ ‘অংশগ্রহণ করেছে বলে তার ভাষ্য।

ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি কম থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মেনন বলেন, “ঢাকা শহরে ভোট কম পড়েছে। তবে এটা সব সময় ঘটে থাকে। ঢাকা শহরের মানুষরা সেভাবে ভোট দিতে যায় না।”

এর কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কি না, সেই প্রশ্নে জবাব আসে, “হয়ত ঢাকার মানুষ ভেবেছে বিএনপি ভোটে আসেনি, ফলে আওয়ামী লীগই জিতবে। তাই তারা ভোটে আগ্রহ দেখাননি।’’

বিএনপি ভুল করেছে?

মেনন বলেন, “বিএনপি অবশ্যই ভুল করেছে। নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হত, তারা অনেক আসনে জয়ীও হত।’’

বিএনপি ভোটে এলে কী হত? আওয়ামী লীগের শরিক দলের এই নেতা বলেন, “নির্বাচনে অংশ নিলে সবাই স্বাগত জানাত। কে জানে তারা সরকারও গঠন করতে পারত হয়ত। তারা তো জনসমর্থনের দাবি করছে, তাহলে তো তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতেও পারত।”

বিএনপি যে অবস্থানে আছে, সে অবস্থানে থাকলে ওয়ার্কার্স পার্টি ভোটে যেত? ২০০৭ সালে তো তারাও ভোট বর্জনের পক্ষে ছিল।

এমন প্রশ্নে মেনন বলেন, “বিএনপির অবস্থানে থাকলে আমরা অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতাম। আর আমরা সেই নির্বাচনে যাইনিম সেটা সঠিক নয়। আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আজিজ কমিশন ভুয়া ভোটার বাতিল করেনি।

“তখন এক কোটি ২২ লাখ ভোটার ছিল ভুয়া। আমরা তা বাতিল করার দাবি করি। কিন্তু তারা করেননি। আবার তারা (নির্বাচন কমিশন) আমাদের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র কারণ ছাড়াই বাতিল করে দিয়েছিল। তখন আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেই। আমরা নির্বাচন বর্জন করিনি, অংশ নিতে চেয়েছিলাম।’’

অন্য এক প্রশ্নে ১৪ দলের নেতা বলেন, “আমি তো বিএনপির বর্জনের কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করছে। কিন্তু এটি সংবিধানে নেই আর সংবিধানের নীতি বিরুদ্ধও। তারা কেন এমন কোনো দাবি করবে যেখানে তারা বলার মত কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে না বা জনমতও গঠন করতে পারে না?”

তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হল সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে নির্বাচন করা। বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের ভোটে অংশ নেওয়া দায়িত্বও।’’

জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতিতে কোথায় দাঁড়িয়ে?

মেনন বলেন, “এই নির্বাচন আমাদের জন্যও ভালো হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা যে রাজনীতি করি, সেটার জয় হয়েছে। ১৪ দলীয় জোট যদি ভুলগুলো সংশোধন করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে সেবার জন্যই ভালো হবে।”

ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ বড় দলের সঙ্গে জোট ছাড়া কেন জিততে পারারর মতো শক্তি অর্জন করতে পারে না?- এই প্রশ্নে জবাব আসে, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সারা বিশ্বের বামপন্থি দলগুলোর ওপর বিপর্যয় নেমে এসেছে। বাংলাদেশেও আমরা দুর্বল হয়েছি। তবে এখনকার এই সময়ে আমরা আগের সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি।’’

বামপন্থি দলগুলো অন্য বড় দলের সঙ্গে জোট করার কী কারণ- এই প্রশ্নে মেনন বলেন, “জোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই ছিল। পাকিস্তান আমলেও হক (শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক), ভাসানী (মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী) ও সোহরাওয়ার্দী (হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী) মিলিয়ে যুক্তফ্রন্ট হয়েছিল। সম্মিলিত বিরোধী দল নামেও জোট ছিল। তাদের প্রার্থী ছিল ফাতিমা জিন্নাহ।

“১৯৬৯ সালেও সম্মিলিত বিরোধী দল জোটবদ্ধভাবে আন্দোলনে আইয়ুব খানকে উৎখাত করা হয়। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থান হয়। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের মানুষের একক নেতায় পরিণত হন। তখন সব ভারসাম্য তার দলের দিকে চলে যায়, অন্য দলগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।”

এই বামপন্থি নেতার বিবেচনায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছাড়াও বাম দলের ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার আরও কারণ ছিল। তিনি বলেন, “বাম দলগুলোর মূল শক্তি ছিল শ্রমজীবী ও ক্ষেতমজুররা। শ্রমজীবীরা রাষ্ট্রায়ত্ব করপোরেশনে চাকরি করতেন। সরকার এসব করপোরেশন থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিলে তাদেরকে এলাকা ছাড়তে হয়। এটা খুলনায় হয়েছে, চট্টগ্রামে হয়েছে, ঢাকায়ও হয়েছে। এতে বামপন্থি দলগুলোর ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

“গ্রাম এলাকাতেও পরিবর্তন চলে এসেছে। সেখানেও সব পাল্টে গেছে। কৃষিতে করপোরেট সিস্টেম চলে এসেছে। কৃষকরা তাই এখন বামপন্থায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।”

বামপন্থি দলগুলোর মধ্যে বিভক্তিও কি কারণ? মেনন বলেন, “অবশ্যই, বারবার ভাঙন ধরেছে বামপন্থি দললোতে।”

বামপন্থার ভবিষ্যৎ তাহলে কী? জবাব আসে, “যতদিন বর্ণপ্রথা রয়ে যাবে, যতদিন বৈষম্য রয়ে যাবে, যতদিন ক্ষুধা রয়ে যাবে, বামপন্থার ভবিষ্যৎ থাকবে। প্রশ্ন হল দলগুলোকে এক করা যাবে কি না। এটা অবশ্যই সম্ভব, তবে সময় লাগবে। নতুন প্রজন্ম যখন মনে করবে একটি দলের প্রয়োজন আছে, তখন দলগুলো আবার এক হতে পারবে।”

অবকাঠামোর উন্নয়নে সুশাসন কোথায় দাঁড়িয়ে

মেনন বলেন, “সুশাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন আছে বাংলাদেশে। অবকাঠামো খাতে অনেক উন্নয়ন হলেও সুশাসন এখনো দুর্বল। যারা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন তারা এখানে উন্নতি করতে পারেননি।’’

আরেক প্রশ্নে জবাব আসে, “আমি বলব দুর্নীতি বাংলাদেশের এক নম্বর শত্রু।”

দুর্নীতি তো মূল্যস্ফীতির কারণ, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বলেন, “কেবল মূল্যস্ফীতির না, এটি দেশের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন ও অর্থনীতিতে অপরাধ প্রবণতারও কারণ।”

সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণ হিসেবে ‘নিউ লিবারেল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দায়ী করেন মেনন। তিনি বলেন, “এট ব্যবস্থা দুর্নীতি ও বৈষম্যের জন্ম দেয়। যতদিন আমরা এটা অনুসরণ করব, এটি হতে থাকবে।

“আপনি যদি একটি কল্যাণমূলক সমাজ ব্যবস্থা গড়তে চাই, একটি অবস্থানে যেতে চাই, তাহলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে।”

সংসদ সদস্য হিসেবে রাশেদ খান মেননের ভূমিকা কী হবে- সোই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল ১৪ দলের এ নেতার কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, “সংসদে আমি সব সময় সরব থাকি। আমার বক্তব্যে সিস্টেমের ভুলগুলোর বিষয়ে কথা বলি, ধরিয়ে দিই। এবারও তা করব।”

নতুন সরকারের প্রতি কী পরামর্শ থাকবে?

মেনন বলেন, “তারা এর মধ্যেই বলেছে, নিত্যপণ্যর দাম কমিয়ে আনবে। এটা মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে আসা উচিত। এজন্য বাজার সিন্ডিকেট, ও কারসাজিকে ধরা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এরপর আসবে দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিষয়।’’