Published : 26 Dec 2025, 11:41 PM
যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা বিএনপি নেতা তারেক রহমান সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার তালিকায় নাম লেখাবেন শনিবার।
এদিন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও (এনআইডি) সংগ্রহ করার কথা রয়েছে তার।
সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; এ শর্ত পূরণে দেশের যেকোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হলেই চলে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ সময় হচ্ছে ২৯ ডিসেম্বর।
ইতোমধ্যে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের তরফে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর ২২ ডিসেম্বর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল।
সেদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, দেশে ফেরার পর আগামী ২৭ ডিসেম্বর ভোটার ও এনআইডি সংক্রান্ত কাজ করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত রয়েছে; সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা আছে। ভোটার হওয়ার পর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রশ্নে তারেক রহমানের আর কোনো জটিলতা থাকছে না।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বৃহস্পতিবার বলেন, “এখানে দুটো দিক। তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন রয়েছে, কেপিআই হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভবনেরও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে।
“দুই দিকের সেইফটি-সিকিউরিটির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন স্টেপ নেবে।”

বিএনপি নেতা তারেক তার গুলশানের বাড়িতে বসে ভোটার হবেন, নাকি নির্বাচন অফিসে গিয়ে ভোটার হবেন— এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে নি।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দুই উপায়ের যেকোনো একটি বেছে নেওয়া হতে পারে।
“যথাসময়ে এটা জানানো হবে।”
২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তারেক রহমান তখন ছিলেন কারাগারে। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে না ফেরায় এনআইডিও পাননি। তবে চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানে দেশে এসে ভোটার হয়েছেন।
তারেক যে পাসপোর্ট নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন, তার মেয়াদ শেষে আওয়ামী লীগ আমলে আর নবায়ন করা হয়নি। তিনি ব্রিটেন রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলেও শোনা গিয়েছিল, যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে যেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রায় আট বছর ধরে লন্ডন থেকে ভিডিও কলেই তিনি দল চালিয়েছেন।
এরপর গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। আওয়ামী লীগের আমলে দেওয়া বিভিন্ন মামলার রায়ে তারেকেরও সাজা হয়েছিল, সেসব মামলায় তিনি খালাস পান। এরপর নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই জনসমুদ্রে বক্তৃতা করেছেন তারেক।
বগুড়ায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র উত্তোলন