‘তারেক ভোট করতে পারবেন যদি ইসি চায়’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনো ভোটার হননি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ইসি চাইলে তিনি ভোটার হয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেই প্রার্থী হতে পারবেন।
সোমবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান ভোটার হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আখতার আহমেদ বলেন, “না, আমার জানা মতে ভোটার হননি। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে নিবন্ধন করতে পারেন, প্রার্থী হতে পারেন। আইনগতভাবে কমিশনের এই এখতিয়ার রয়েছে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, কেবল তারাই আগামী সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
তবে এর পরও যেকোনো ব্যক্তিকে নিবন্ধন করে ভোট দেওয়া বা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ইসি দিতে পারে বলে জানান সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যেকোনো ব্যক্তিকে যেকোনো সময় ভোটার তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “একটা কাট-অফ ডেট রাখতে হয়; ৩১ অক্টোবরের পরে কেউ ১৮ বছর পূর্ণ করলেও এই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।”
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটের আগে ভোটারের নাম, বাবা-মায়ের নাম, বয়স, ঠিকানা, ছবিসহ সাত ধরনের তথ্য সংশোধন করা যাবে না। তবে মোবাইল ফোন নম্বরসহ কিছু তথ্য সংশোধনীতে কোনো বাধা থাকবে না।”
তিন বলেন, প্রবাসীদের ভোটারদের নিবন্ধনের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর ঠিক করা হয়েছে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এবার পৌনে ১৩ কোটি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত করা এ তালিকা মুদ্রণের প্রস্তুতি চলছে।
২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৮ সালে কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে যান। এরপর আর দেশে ফিরতে না পারায় তিনি ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারেননি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানে দেশে এসে ভোটার তালিকায় নাম লেখান।
তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টের ঠিকানায় ভোটার হন।
আইনে যা বলা আছে
ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীকে ভোটারের তথ্য দিতে হবে এবং মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় উপযুক্ত প্রমাণও দেখাতে হবে।
কমিশনের ভোটার তালিকায় কোনো নাম অন্তর্ভুক্তকরণ বা উহা বিলোপন ইত্যাদি ক্ষমতা শীর্ষক ভোটার তালিকা আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে:
কমিশন যেকোনো সময়-
(ক) কোনো ভোটার তালিকায় উহাতে অন্তর্ভুক্ত হইবার অধিকারী কোন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করিতে;
(খ) উহা হইতে মৃত কোন ব্যক্তির নাম বা উহাতে অন্তর্ভুক্ত হইবার অযোগ্য বা অযোগ্য হইয়া পড়িয়াছেন এমন কোন ব্যক্তির নাম কর্তন করিতে; এবং
(গ) উহাতে কোন অন্তর্ভুক্তির সংশোধন বা ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করিতে;
আদেশ দিতে পারিবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ভোটে অংশ নিতে দেশের যেকোনো এলাকার ভোটার হতে হবে এবং ভোটার তালিকাভুক্ত হতে হবে। মনোনয়নপত্র জমার আগেই তাকে ভোটার হতেই হবে।
“সেক্ষেত্রে ভোটার করতে কমিশনের সিদ্ধান্ত এলে দ্রুত যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন শেষে তালিকাভুক্ত করে সম্পূরক তালিকায় যুক্ত করা যেতে পারে।”
ভোটার হওয়া ছাড়া প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় ভোটার না হওয়ার কারণে তা বাদ হয়ে যাবে।”
এ কর্মকর্তা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরে ভোটার তালিকাভুক্ত করলে এ নিয়ে অনেকেই ইসির দ্বারস্থ হতে পারে বলে শঙ্কা থাকে। আর আদালতের পথ তো সব সময় খোলা।
