Published : 03 Aug 2025, 12:47 PM
গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপনে একটি ‘সুশৃঙ্খল সমাবেশের’ প্রত্যাশা নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করেছে ছাত্রদল।
মঞ্চ নির্মাণসহ সমাবেশের আয়োজন ভোরবেলাতেই সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি।
বিকাল ৩টায় শুরু হতে চলা সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সেখানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সকাল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ ঘিরে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মৎস্যভবন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ভোরে সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। একটি সুশৃঙ্খল সমাবেশ হবে এটি।
“এই সমাবেশের মাধ্যমে আগামী দিনের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।”
শাহবাগ মোড়ের ঠিক মাঝখানে দক্ষিনমুখী মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল আকৃতির ডিজিটাল পর্দাও।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের শহীদ পরিবারের সদস্যরা থাকবেন।

সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পরে এটাই হবে ছাত্রদলের স্মরণকালের ছাত্র সমাবেশ হবে আমরা প্রত্যাশা করছি।”
ছাত্রদলের এই সমাবেশ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ৯০টি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করছে মাঠে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা সুলায়মান চৌধুরী বলেন, “আমরা ছাত্রদল করি, এই সমাবেশে আসতে রাতে রওনা দিয়ে সকালে পৌঁছেছি। ঢাকার এই সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে অনেক ছাত্র দল কর্মী আসবেন।
‘‘ আমরা মনে করি, এই সমাবেশ থেকে আমাদের অভিভাবক তারেক রহমান ভাইয়া আগামীর নতুন বাংলাদেশ গঠনে বার্তা দেবেন। সেই বার্তা দিয়ে আমরা চট্টগ্রাম ফিরে যাবো।”
দিনাজপুর থেকে আসা ছাত্রদলের কর্মী আবদুস সালাম বলেন, “সমাবেশে এসে ভালো লাগছে। ছাত্রদলের সমাবেশ বুঝেন তো, তারুণের একটা এনার্জি গায়ে শিহরণ জাগায়, উজ্জীবিত হই।”
সমাবেশে অংশগ্রহণ নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শুক্রবার ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর মধ্যে রয়েছে-সমাবেশে কোনো ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসা যাবে না। সমাবেশের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক ইউনিটকে থাকতে হবে।
কাঁটাবন মোড় থেকে আজিজ সুপার মার্কেট ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝের গলি দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত পরিবহনকে চলাচলে সার্বিক সহায়তা করতে হবে বলে ছাত্রদল জানিয়েছে।

এছাড়া সংগঠনের নেতাকর্মীকে বহনকারী কোনো গাড়ি কোনো অবস্থাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যক্তিগত শোডাউন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসা যাবে না। সমাবেশ শেষে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের নির্ধারিত স্থান পরিষ্কার করে যেতে হবে।
সমাবেশের চারপাশে ১০টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রও বসানো হয়েছে।
ছাত্রদলের এই সমাবেশ করার কথা ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তবে এনসিপির অনুরোধ রেখে, স্থান পরিবর্তন করে শাহবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রদল।