১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

তোফায়েল ছিলেন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠক: রব

“তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সংগ্রামের মহানায়ককে হারাল। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

তোফায়েল ছিলেন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠক: রব
১৯৭০ সালে তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব (বাঁয়ে) এবং তোফায়েল আহমেদ (ডানে)

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jun 2026, 10:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আর স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ের সহযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদকে গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

সোমবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘‘আমি দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। রাজনৈতিক সংগ্রামের বহু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা একসাথে পথ চলেছি। 

“কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগে আমি উপলব্ধি করেছি—তিনি ছিলেন সাহসী, দূরদর্শী এবং জনগণের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতাসম্পন্ন একজন রাজনৈতিক সংগঠক। “

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

সব মিলিয়ে তিনি এমপি হয়েছেন নয়বার, দুই দফা মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৮ বছর।

রব তার শোকবার্তায় বলেন, “তিনি (তোফায়েল) ছিলেন সংগ্রামী রাজনৈতিক চেতনার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আপসহীন মনোভাব নতুন প্রজন্মের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। 

“তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সংগ্রামের মহানায়ককে হারাল। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

তোফায়েল ও রব দুজনেই ষাটের দশকের শেষ দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। 

তোফায়েল ১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ডাকসুর ভিপি ছিলেন। রব ওই দায়িত্ব পালন করেন পরের মেয়াদে। ছাত্রলীগের ১৯৬৯-১৯৭০ মেয়াদের কমিটিতে তোফায়েল সভাপতি এবং রব সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ছয় দফা আন্দোলন এবং বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনে তারা একসঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা দুজনই ছিলেন সংগঠকের ভূমিকায়। বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (বিএলএফ) বা ‘মুজিব বাহিনী’র চারটি অঞ্চলের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন তোফায়েল। আর রব ছিলেন পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

রব বলেন, “১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে বিএলএফ-এর অন্যতম সংগঠক হিসেবে তোফায়েল আহমেদের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।

“স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, বাঙালির আত্মমর্যাদা ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”