Published : 25 May 2026, 12:43 PM
সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে কোমল এবং নিষ্পাপ অংশ—আমাদের শিশুরা যখন অবহেলা, সহিংসতা আর লালসার শিকার হয়, তখন তা আমাদের মানবিক অস্তিত্বকে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দেয়। ক্ষোভ, দুঃখ এবং উদ্বেগ দানা বাঁধে। প্রায় প্রতিদিন খবরের কাগজের পাতা ওল্টালেই বুক ভেঙে যে সত্যটা সামনে আসে, তা হলো—আমাদের শিশুদের জীবন একবারেই সস্তা। যে শিশুরা হওয়ার কথা ছিল একটি স্বাধীন, কল্যাণধর্মী ও মানবিক রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, তারা আজ কখনো কামনার লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হচ্ছে, আবার কখনো রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতার বলি হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা থামানো যাচ্ছে না। কেন? গুরুত্বপূর্ণ কারণটা ঢাকার মিরপুরে নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, “আমি ন্যায়বিচার চাই না, কারণ আপনারা তা দিতে পারবেন না। আপনাদের বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনো রেকর্ড নেই।” দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে আমজনতার যে ক্ষোভ রয়েছে, সেটাই অগ্নিগিরির লাভার মতো একজন সন্তানহারা পিতার জ্বালামুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি বিচারব্যবস্থার প্রতি তার এই ক্ষোভকে ‘অমূলক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন খোদ আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, “এমন নৃশংস ঘটনায় মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।” পরবর্তীতে রামিসার বাবা আরও বলেছেন, “আমাদের দেশে আইনের যে জটিলতা, সেই জটিলতা পেরিয়ে কবে নাগাদ মেয়ের বিচার পাব বা বিচারের শেষ দেখতে পারব, জানি না।”
রামিসাদের রক্তে ভেজা মাটি: আমরা কি শুধুই দর্শক?
৭ বছরের ছোট্ট শিশু রামিসা জানতও না মানুষের ছদ্মবেশে কী ভয়ানক দানবেরা ঘুরে বেড়ায় এই চেনা শহরে! গত ১৯ মে তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হলো। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা শিউরে ওঠার মতো। এই প্রথম ৪ মাসেই দেশে ৮১ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তন্মধ্যে অনূর্ধ্ব ৬ বছরের ১৬ জন (গণধর্ষণের শিকার ১ জন), ৭-১২ বছরের ৪০ জন (গণধর্ষণের শিকার ৩ জন)। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১২ জনকে (অনূর্ধ্ব ৬ বছরের ৩ জন, ৭-১২ বছরের ৭ জন), লোকলজ্জায় আত্মহত্যা করেছে ২ জন। ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে ২৭ জন (১ জনকে হত্যা করা হয়েছে)।
২০২৫ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ৪৫৬ কন্যাশিশু (অনূর্ধ্ব ৬ বছরের ৭১ জন), ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ১৯ জনকে, ধর্ষণ চেষ্টার পর হত্যা করা হয়েছিল ৪ জনকে, ধর্ষণের পর আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল ৫ জন কন্যাশিশু। ২০২৫ সালের শুধু ১০ মার্চ একদিনে সাতটি শিশু নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল। কিন্তু এগুলো শুধু জমা পড়া মামলার সংখ্যা। গ্রাম-বাংলায় নালিশবিহীন শিশুরা কত যে আছে, যাদের আর্তনাদ কখনো আমাদের কর্ণকুহরে পৌঁছাতে পারে না! রামিসা হত্যার প্রেক্ষাপটে আসক অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেছে, “এসব ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় রক্ষণ (protection) ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সামাজিক জবাবদিহিতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।”
অপরাধীরা অপরাধ করে পার পেয়ে যায় বলেই এই নির্মমতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। রামিসার বাবার ওই বুকফাঁটা আর্তনাদ আর গণমাধ্যমের সামনে বলা বাস্তবধর্মী সত্যটি আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সামাজিক চেতনাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তার কথাতেই লুকিয়ে আছে এ দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক নির্মম ইতিহাস। আমরা কি সত্যিই পেরেছি তনু, নুসরাত, আছিয়া বা অতীতে হারিয়ে যাওয়া শত শত শিশুর হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে? বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আর আইনি ফাঁকফোকর আজ সমাজকে অপরাধীদের অভয়ারণ্য করে তুলেছে, আর বাবা-মায়ের বুকে সৃষ্টি করে চলেছে চিরস্থায়ী রোরুদ্যমানতা।
অবহেলায় মহামারী: হামে মারা যাচ্ছে শিশু
সহিংসতাই শেষ কথা নয়, আমাদের রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাও আজ শিশুদের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি তথ্য বলছে, হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬,০০০ অতিক্রম করেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই চরম উন্নতির যুগে, একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত শিশুর মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি এক প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড।
এই দুর্যোগের জন্য দায়ী কে? ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস জানিয়েছেন, তারা কমপক্ষে ১০ বার সভায় এবং ৫ থেকে ৬টি চিঠির মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ওই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আর উদাসীনতার দেয়াল ভাঙেনি। টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে দেরি ঘটানো হয়। রানা ফ্লাওয়ারসের ভাষায়, “টিকা অর্ডার করতে ব্যর্থতা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থের অভাবে হয়নি। অর্থ বরাদ্দ ছিল... কিন্তু কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত বিলম্ব সৃষ্টি করেছিল।” পরিবর্তিত এই নীতির জন্যই ২০২৫ সালের শেষের দিকে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।
অভিযোগ উঠেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে ইউনিসেফের মতো দক্ষ সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা এক বছরের মতো বিলম্ব ডেকে আনে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাতের এই চরম উদাসীনতা ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় টিকা ক্রয় না করার মর্মন্তুদ খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে। একজন আইনজীবী তো সরাসরি বলেছেন, “৪০০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু বিচারহীন অবস্থায় পড়ে থাকবে না।”
পবিত্রতার আড়ালে অন্ধকার: মাদ্রাসায় যৌননির্যাতন
২০২৬ সালের মার্চে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) জানিয়েছে, “মাদ্রাসার ভেতরে যৌন সহিংসতার ঘটনা খুব কমই আলোর মুখ দেখে, কারণ ভয় ও গোপনীয়তার সংস্কৃতি সেখানে বিদ্যমান।” কন্যাশিশুর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখুন, সমাজ এমন জেন্ডার-বৈষম্যমূলক নির্দেশনা দিচ্ছে। কথাটা পুরো ঠিক হলো না। ছেলেশিশুর প্রতিও খেয়াল রাখতে হবে, তারাও যৌননিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আসক ২০২৬ সালে ৪৮ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্য পেয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মাদ্রাসায় কোমলমতি ছেলেশিশুদের ওপর শিক্ষকদের বা শিক্ষার্থীদের পাশবিক নির্যাতন ও বলাৎকারের ঘটনা তোলপাড় তৈরি করছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শত শত ছেলে শিশু যৌননিপীড়নের শিকার হচ্ছে। ছেলেশিশুর ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি গোপনে থাকে। লোকলজ্জা, ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক কারণে ঘটনার সিংহভাগই আড়ালে থেকে যায়। যেগুলো প্রকাশ পায়, তা কেবল হিমশৈলের চূড়ামাত্র। যে শিক্ষকের কাছে বাবা-মা তাদের সন্তানকে আমানত হিসেবে রেখে আসেন নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা পাওয়ার জন্য, ওই শিক্ষকেরাই যখন রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল অপরাধ থাকে না, তা হয়ে ওঠে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এই প্রাতিষ্ঠানিক যৌন নিপীড়ন আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ভেতরের পচনকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করে। পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও যখন শিশুরা নিরাপদ থাকে না, তখন তা আমাদের নৈতিক অবক্ষয়ের নিম্নস্তর নির্দেশ করে। রক্ষণশীল বলে বাঙালি মুসলমান সমাজের অহংবোধ আছে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ওই রক্ষণশীল সমাজ শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারছে না।
বিবেকহীনতার ক্রান্তিকাল
একটি শিশুর জন্ম মানে একটি নতুন সম্ভাবনার জন্ম। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় ‘আসন্ন যুগের পরিচয়ের’ ছাড়পত্র হাতে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হলো—
“তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।”
আর আমরা কি না শিশুদেরই চলে যেতে বাধ্য করছি। আমরা তাদের কী দিচ্ছি? একদিকে পাশবিক নির্যাতন, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাব। একটি কথা আছে, “প্রতিটি শিশু এই বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে আসে যে, ঈশ্বর এখনো মানুষের ওপর আস্থা হারাননি।” কিন্তু আমরা কি ঈশ্বরের ওই আস্থার মর্যাদা রাখতে পারছি? যখন একটি দেশের বাতাস শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে, যখন একজন বাবা বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেন, তখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়মুক্তির সংস্কৃতি, সামাজিক নীরবতা এবং প্রতিবেশী বা নিকটজনদের ওপর অতিরিক্ত বিশ্বাসই এর মূল কারণ।
যেখানে বিচার পেতে গেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়, সেখানে ওই শিশুদের জন্য কী আছে? ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যৌন সহিংসতার ৫,৬০০ মামলার মাত্র ২ শতাংশের রায় এসেছে। আইন আছে, নীতি আছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। সিস্টেম ব্যর্থ। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে এক পুরুষের লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল ৮ বছরের আছিয়া, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। মামলার বাদী আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন দু-দিন আগে বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে গণমাধ্যমে বলেছেন, “এখনো অপেক্ষায় আছি, কবে আমার আছিয়ার খুনিদের ফাঁসি হবে। এদিকে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারে সামলাব, নাকি রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরব!” বিচারিক আদালতে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এক বছর। এতে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টে আপিলের ঘুরপাকে থমকে আছে গতি।
আরও প্রশ্ন আছে, শুধু বিচার কি যথেষ্ট? শিশু অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ এবং শিশু আইন ২০১৩ থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা প্রকট। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর আছে সুরক্ষার অধিকার, কিন্তু প্রতিদিন সেটা লঙ্ঘিত হচ্ছে।
প্রতিরোধযোগ্য অপরাধ ও অপমৃত্যু
হামে শিশু মৃত্যু যেমন প্রতিরোধযোগ্য, তেমনি ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধও। আমরা যখন কফিনে ঢাকা ছোট্ট দেহগুলো দেখি, তখন মনে হয়, আমরা কোনো সভ্য দেশ নই, বরং বর্বরতার এক প্রদর্শনী কেন্দ্র। বিচার প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে, টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমাজের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন।
আমরা যদি আজ রামিসার হত্যাকারীর বিচার না করতে পারি, কাল আমাদের নিজের সন্তানের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সময় এখন সোচ্চার হওয়ার, নীরবতা ভাঙার। কারণ নীরবতা মানেই অপরাধীর পক্ষে থাকা। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে এবং স্বাস্থ্য খাতের এই চরম ব্যর্থতার জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে সমাজকে সোচ্চার হতে হবে। রামিসার বাবা যে আস্থার কথা বলেছেন, তা আর আস্ত নেই। ভঙ্গুর আস্থা বিপজ্জনক, একে অটুট অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।
রাষ্ট্র সংস্কারের বুলি তখনই সার্থক হবে, যখন দেশের প্রতিটি শিশু নিজ ঘরে এবং বাইরে নিরাপদ থাকবে; যখন কোনো শিশুকে টিকার অভাবে হাসপাতালের বারান্দায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে হবে না। সুকান্তের কবিতা দিয়েই শেষ করি,
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”