Published : 02 May 2026, 08:38 AM
একটি শহরকে তখনই ‘মৃত’ বলা হয় যখন সেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন ভেঙে পড়ে—বাতাসে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়, চলাচল স্থবির হয়ে যায়, পানি-নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাজ করে না আর নাগরিক সেবাগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই মানদণ্ডগুলো দিয়ে দেখলে ঢাকার বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনকভাবে মৃত নগরের কাছাকাছি। বর্তমানে যে প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি কেবলই প্রশ্ন তোলার জন্য প্রশ্ন নয়—এটি এখন আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন: ঢাকা কি ধীরে ধীরে একটি মৃত নগরীতে পরিণত হচ্ছে?
এই প্রশ্নের জবাব ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) তাদের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৫’-এ প্রকাশ করেছে। এতে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ও লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পরেই ঢাকার অবস্থান দেখিয়েছে। দামেস্ক ও ত্রিপোলি যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত এলাকা। কিন্তু এরপরে ঢাকা কেন? কারণ হিসেবে ইআইইউ বলেছে ঢাকার অধিক জনসংখ্যা, যানজট ও দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কথা। তালিকায় এরপরই রয়েছে পাকিস্তানের করাচি ও আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স শহর। এই তালিকা থেকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ঢাকা শুধু প্রশাসনিক রাজধানীর বাইরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নাগরিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে বাস্তবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। নগর পরিকল্পনায় ব্যর্থতা, পরিবেশগত বিপর্যয়, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকারের অবক্ষয়—সব মিলিয়ে ঢাকার সংকট একটি ‘অচল মেগাসিটির’ কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়...

১. বায়ুদূষণ: ঢাকার বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন নাগরিকরা বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। শিশুদের ফুসফুস, বৃদ্ধদের জীবন—সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে। অথচ কার্যকর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্পষ্ট।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ হলে তা মানুষের জন্য নিরাপদ। কিন্তু ঢাকায় শীতকালে এই মাত্রা প্রায়ই ৮০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত পৌঁছে যায়—যা নিরাপদ সীমার ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি।
এই দূষণের প্রধান কারণ ঢাকাকে ঘিরে জালের মতো ছিটিয়ে থাকা ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও শিল্পবর্জ্য। বায়ুদূষণকে অনেক সময় ‘স্লো ভায়োলেন্স’ বলা হয়—কারণ এটি হঠাৎ করে কাউকে মারে না, কিন্তু ধীরে ধীরে একটি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে। ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ, এমনকি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ—সবকিছুই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিদ্যমান সংকট নিয়ে নিবন্ধের শেষাংশে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। আপাতত বায়ুদূষণের সমাধান হিসেবে ঢাকার আশেপাশে থাকা ইটভাটার আধুনিকীকরণ, নির্মাণ সাইটে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার এবং কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগের কথা বলা দরকার—এগুলো ছাড়া এই সংকট কমানো সম্ভব নয়।

২. শব্দদূষণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরেকটি হিসাব বলছে, মানুষের জন্য নিরাপদ শব্দমাত্রা ৫৫ ডেসিবেল। অথচ ঢাকার অনেক এলাকায় এটি ৮৫-১০০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ঢাকায় গাড়ির হর্ন ও অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ অন্যতম।
এর সমাধান হিসেবে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু শহরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। ঢাকার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে কাঠমান্ডু একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিল—‘নো হর্ন পলিসি’।
অপ্রয়োজনীয় হর্ন নিষিদ্ধ করে এবং কঠোর ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ও জনসচেতনতার মাধ্যমে তারা এটি সফল করেছে। টোকিওতে কোনো হর্ন নেই। বরং কেউ হর্ন দিলে তিনি অপরাধবোধ করেন, লজ্জা পান। এককথায়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু এটি ধারাবাহিক প্রয়োগ ছাড়া টেকসই হবে না। সেজন্য ‘নো হর্ন জোন’, তাৎক্ষণিক জরিমানা, চালক প্রশিক্ষণ, সচেতনতা প্রচার ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লি পুলিশ ‘হর্ন পেনাল্টি’ চালু করেছে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজালে সিগন্যাল পার হওয়ার সময় বেড়ে যায়।

৩. জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকট: প্রতি বর্ষায় ঢাকার চিত্র একই—রাস্তাঘাট ডুবে যায়, যানবাহন স্থবির হয়ে পড়ে, মানুষের স্বাভাবিক জীবন থেমে যায়। এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি পরিকল্পনার ব্যর্থতা, সমন্বয়হীনতা, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অভাব এবং দুর্নীতির ফল। পাশাপাশি খাল দখল, জলাধার ভরাট, অপরিকল্পিত নির্মাণ—এসবের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এছাড়া লেক দূষণ ও দখল তো আছেই।
৪. পানি: একটি শহর তখনই ‘সত্যিকারের মৃত’ হয়ে যায়, যখন তার ব্যবহারযোগ্য পানি শেষ হয়ে যায়। ঢাকার ক্ষেত্রে এই সংকট এখন আর ভবিষ্যৎ শঙ্কা নয়—এটি বর্তমানের বাস্তবতা।
ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যার মতো নদীগুলো ছিল শহরের প্রাকৃতিক পানি সরবরাহের প্রধানতম উৎস। আজ এগুলোর বেশিরভাগই দূষিত, দখলকৃত এবং কার্যত মৃত। ফলে ঢাকা এখন নিজের উৎস থেকে পানি নিতে পারে না।

বর্তমানে ঢাকাকে নির্ভর করতে হচ্ছে মেঘনার ওপর। এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। যদি মেঘনা নদীও দূষিত হয়ে যায় অথবা সেই উৎস থেকে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে ঢাকা কার্যত অচল শহরে পরিণত হবে। পানি ছাড়া অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও দৈনন্দিন জীবন কীভাবে টিকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সেজন্য এখনই নদী পুনরুদ্ধার, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো ও রেইনওয়াটার হারভেস্টিং বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
৫. যানজট: যানজট কেবল সময় নষ্ট করে না, অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। একজন কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় হারাচ্ছেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; এটি জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঢাকার যানজটের কারণেই বছরে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৯ শতাংশে। অর্থমূল্যে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের পরোক্ষ ক্ষতির হিসাব যুক্ত হলে এ ক্ষতি জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। সহজভাবে বললে, এই টাকা দিয়ে আরও ছয় থেকে নয়টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।
ঢাকার গড় গতিবেগ এখন ঘণ্টায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার—যা একটি সাইকেলের গতির সমান। এর ফলে বছরে বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের সময় ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। এর পেছনে মূল কারণগুলো হলো—অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল গণপরিবহন ব্যবস্থা, রাস্তা দখল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা। সমাধান হিসেবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করা, বাস রুট সংস্কার করা ও এমআরটির মতো কাজগুলো আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি। ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমাতে শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।
৬. নাগরিক সেবা: বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ সড়ক, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব মৌলিক সেবার নিশ্চয়তা দিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। আইনি কাঠামো থাকলেও তার প্রয়োগ দুর্বল; জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। উদাহরণস্বরূপ, গুলশান দুই থেকে বের হয়ে নতুন বাজার সড়কে উঠলেই মূল সড়কের ওপর ময়লার ডাম্পিং স্টেশন দেখা যায়। কোনো সভ্য শহরে এটি হতে পারে কি না, তা গবেষণার দাবি রাখে।
৭. নগর শাসনে সমন্বয়হীনতা: ঢাকা শহর একাধিক সংস্থার মধ্যে বিভক্ত—সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিটিসিএল, ডেসকো, সড়ক পরিবহন, রাজউকসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে কাজ করছে। সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে একই রাস্তা বারবার খোঁড়া হচ্ছে। অথচ নাগরিক দুর্ভোগের দায় কোনো কর্তৃপক্ষই নিতে চায় না।

৮. ফুটপাত: ঢাকার ফুটপাতের সমস্যা কেবল নান্দনিকতার নয়; এটি শহরের বাসযোগ্যতা, জনস্বাস্থ্য আর অর্থনীতির সঙ্গেও জড়িত। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করলে সমাধানও সহজ হয়। ঢাকার বেশিরভাগ ফুটপাত হকার, অবৈধ পার্কিং বা নির্মাণসামগ্রীর দখলে থাকে। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটে এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। এছাড়া ফুটপাতের ত্রুটিপূর্ণ নকশা একে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলেছে।
৯. সবুজায়ন: ঢাকায় বর্তমানে সবুজের পরিমাণ মোট শহরের ১০ শতাংশের মতো, যেখানে প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। দ্রুত গাছ কাটা হলেও নতুন করে রোপণ বা রক্ষণাবেক্ষণ নগন্য। পার্ক ও খোলা জায়গাগুলো উন্নয়নের নামে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা ও বায়ুদূষণের পাশাপাশি মানুষের মানসিক চাপও বাড়ছে।
১০. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোনো আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার কাঠামোর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে এটি একটি নাগরিক সেবার বদলে চাঁদাবাজি ও দখলদারির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও ঢাকা এখনো আদিম পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছে—যেখানে খোলা ভ্যান, রাস্তার পাশে স্তূপ আর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ নেই।
১১. গভর্নেন্স ফেইলিউর: ঢাকার অধিকাংশ সমস্যা মূলত ‘গভর্নেন্স ফেইলিউর’-এর বহুমাত্রিক প্রকাশ। সমন্বয়হীন প্রতিষ্ঠান, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং খণ্ডিত সিদ্ধান্ত গ্রহণই এসব সংকটের মূলে। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর তথ্যবিনিময় বা যৌথ কৌশলের অভাব একটি আধুনিক মেগাসিটির জন্য বড় অন্তরায়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ সেন্টার ফর সিটিস-এর গবেষণা অনুযায়ী, একটি শহরকে বাঁচাতে অবকাঠামো নয়, বরং ‘লিডারশিপ ক্যাপাসিটি’, ‘ডেটা ড্রিভেন ডিসিশন মেকিং’ এবং ‘ক্রস এজেন্সি কো-অর্ডিনেশন’ মূল চালিকাশক্তি। শহর পরিচালনা একটি পেশাগত দক্ষতা—এটি কেবল প্রশাসনিক পদ নয়, একটি বিশেষায়িত সক্ষমতা।
ঢাকার জন্য এই শিক্ষাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এখানে একটি ‘ইউনিফাইড আরবান গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রয়োজন। যেখানে ‘রিয়েল টাইম’ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকার ভবিষ্যৎ কেবল নতুন রাস্তা বা প্রকল্পের ওপর নয়, বরং একটি কার্যকর নগর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে।
একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে হয়, এই সংকট আইনের শাসনের সংকটও। সংবিধান নাগরিকদের জীবন ও পরিবেশের অধিকার নিশ্চিত করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বা অবহেলায় নাগরিকের মৃত্যু কোনো সভ্য শহরে কাম্য হতে পারে না।
সমাধানের প্রস্তাবনা:
ক. আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ দখল ও পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ প্রয়োজন। খ. নগর পরিকল্পনাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারদের হাতে দিতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। গ. খাল, লেক ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং সবুজায়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঘ. ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়ে কোনো আপস করা চলবে না। ঙ. পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। চ. ফুটপাত দখলমুক্ত করে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট ‘জোন’ তৈরি করতে হবে এবং ফুটপাতকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে। ছ. ‘মাইক্রো-গ্রিন স্পেস’ ও ছাদবাগানের মতো উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের আচরণের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। জ. বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিকায়ন করে উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং বৈজ্ঞানিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা এখনও মৃত নয়, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেরি করলে শহরটিকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে। এটি কেবল একটি শহর রক্ষার লড়াই নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং নাগরিক ঐক্যই এই শহরকে পুনরায় সচল করে তুলতে পারে।
এককথায়, ঢাকা এখনই ‘মৃত নগরী’ নয়—কিন্তু শহরটি বিপজ্জনকভাবে সেই দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। আইসিইউতে থাকা মুমুর্ষু রোগীর মতো নিভু নিভু প্রাণ থাকা এই শহরকে বাঁচাতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বের হাতে নগর প্রশাসনকে তুলে দেওয়া হবে কি না—এই প্রশ্নটিই এখন সর্বাগ্রে।