Published : 22 Jul 2025, 01:54 AM
ক্লাস সবে শেষ হয়েছে। বন্ধুবান্ধবীদের কেউ কেউ বেরিয়ে গেছে। কেউ হয়তো মা-বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল। কেউ কেউ নিশ্চয়ই ছিল গল্প আর আড্ডায় মেতে। হুট করে আকাশ থেকে যেন আগুন নামল।
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ল একটি যুদ্ধবিমান। স্কুলটাই যেন পরিণত হলো এক অজানা যুদ্ধক্ষেত্রে—যেখানে কেউ কারোর শত্রু ছিল না। প্রাণ গেল শিশুদের, যারা ঘরে ফেরার জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিল। কেউ মারা গেছে ঘটনাস্থলেই। কেউ কেউ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে এখন। আশা করতে চাই, তাদের সবাই বেঁচে উঠবে। তাদের যারা বেঁচে থাকবে, তাদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই আতঙ্ক নিয়ে কাটাবে বাকি জীবনটা। শুধু কী আক্রান্ত ওই শিশুগুলোই এমন আতঙ্কঘোরে থাকবে? আসলে আতঙ্ক আজীবনের হয়ে থাকতে পারে, মাইলস্টোনের যে অংশটি দুর্ঘটনায় পড়েনি, সেখানে দুর্ঘটনার সময় অবস্থান করা শিশুরাও।
এখন এই রাতে বিদেশবিভুঁইয়ে বসে যখন এই লেখাটি লিখছি, তখনই সংবাদমাধ্যমে দেখলাম হোস্টেল ছেড়ে যাচ্ছে মাইলস্টোনের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। যারা ঢাকার বাইরে থেকে পড়তে এসেছে, তারাও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।
ঢাকায় থাকলে পেশাগত কারণেই দিনভর আমার ওখানে থাকার কথা ছিল। দূরে থাকার কারণে হয়তো উদ্বেগ হচ্ছে বেশি। ঢাকার মাইলস্টোনের সামনে সন্তানের খবর না পাওয়া মা-বাবার ছবি দেখে, হাসপাতালের ভিড় দেখে ঢাকাবাসী অন্য মা-বাবারা কি আজ দিনটা ভালো কাটাতে পেরেছেন? আসলে সন্তানহারা মা-বাবার কান্না সারা দেশের মানুষকে শোকার্ত করে তুলেছে।

প্রতিবারই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এবং আমরা শোকাহত হই। তারপর আবার ভুলে যাই। কিন্তু দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণগুলো আগের মতো রয়ে যায়। উদ্ধারকাজসহ সার্বিক বিষয়ে গাফিলতি হারিয়ে যায় শোকের সঙ্গেই।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরনের সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো উদ্ধার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মা-বাবা, স্বজনরা অপেক্ষায় থাকেন প্রিয় মানুষের খবর জানার জন্য। সেই সময়ে কে ঘটনাস্থলে গেল, কে হাসপাতালে দেখতে গেল—তার প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকে না।
দুর্ঘটনা মানেই প্রাণহানি নয়—সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই অনেক সময় প্রাণ হারায় মানুষ। আমাদের দেশে একটি আগুন লাগা, ভবন ধস বা বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে যেটি, তা হলো—উদ্ধারকাজের সময় ঘিরে থাকা ভিড়। এই ভিড় কেবল কৌতূহলী জনতার নয়—এর মধ্যে থাকে স্থানীয় মানুষ, অসচেতন মিডিয়া, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাম্প্রতিককালে যুক্ত হওয়া ইউটিউবার ও কনটেন্ট নির্মাতারা। একই রকম নাটকীয়ভাবে আহতদের দেখতে হাসপাতালে হয় ভিড়।
মাইলস্টোনে একই নাটকের দৃশ্যায়ন ঘটেছে। দুর্ঘটনার স্থান, হাসপাতাল—সবখানে উপদেষ্টা, রাজনৈতিক নেতা ও উৎসুক মানুষের ভিড়। এ ধরনের পরিদর্শন ‘সহানুভূতি দেখানোর নামে হলেও, বাস্তবে এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।
একজন রাজনৈতিক নেতা বা সরকারের কোনো উচ্চপদের ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে অনুসারী, সাংবাদিক, নিরাপত্তাকর্মীসহ একটি বিশাল ভিড় তৈরি হয়, যা উদ্ধারকাজের জন্য সংকুচিত জায়গাকে আরও সংকুচিত করে তোলে। কাজটা জটিল থেকে জটিলতর হয়। প্রশ্ন হলো, তাদের সেই সময়ে সেখানে উপস্থিতি কি আদৌ প্রয়োজন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো উদ্ধার, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা চাইলে পরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন, যখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। বাংলাদেশে সামরিক ও বেসামরিক, উভয় পর্যায়েই অ্যাভিয়েশন নিরাপত্তা নিয়ে আরও অনেক উন্নয়নের জায়গা রয়েছে বলে একজন একজন অ্যাভিয়েশন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি। তদন্তে সময়, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা দরকার। এর পরিবর্তে রাজনৈতিক শোডাউন কাম্য নয়। শোক ও সহানুভূতি প্রকাশের হাজারটা উপায় আছে, কিন্তু উদ্ধারকাজের সময় মাঠে নামা তার মধ্যে পড়ে না।
আজকের ঘটনাই নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রবণতা। দেশের যে কোনো বড় দুর্ঘটনায়, হোক তা বিমান বিধ্বস্ত হওয়া, ভবন ধসে পড়া কিংবা কোথাও আগুন লাগা, প্রথমেই দেখা যায়, সরকারের কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা দলীয় নেতারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সঙ্গে থাকে সংবাদমাধ্যম, নিরাপত্তা বাহিনী, অনুসারীদের বহর। প্রশাসনিক তৎপরতা তখন শুরু হয়ে যায় তাদের ঘিরে।
প্রশ্ন হলো, উদ্ধারকাজ চলাকালীন সময়ে তাদের এই উপস্থিতির প্রয়োজন কতটুকু? আহতদের জীবনের জন্য যখন প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ, তখন অবাঞ্জিত লোকদের উপস্থিতি উদ্ধার তৎপরতায় বিঘ্ন ঘটায়।
কেউ যুক্তি দিতে পারেন, ‘মান্যবরেরা সহানুভূতি জানাতে এসেছেন’। কিন্তু একটি পুড়ে যাওয়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, ক্যামেরার সামনে দুঃখ প্রকাশ—এসব কি আদৌ সহানুভূতির সঠিক রূপ? সহানুভূতি প্রকাশ পায় কার্যকর পদক্ষেপে, পুনর্বাসনে, তদন্তে স্বচ্ছতা আনয়নে এবং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা রোধে নীতিগত উদ্যোগে।
বিশ্বব্যাপী উদ্ধার তৎপরতার ক্ষেত্রে অনুসৃত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হলো ইনসিডেন্ট কমান্ড সিস্টেম–আইসিএস (Incident Command System–ICS)। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফিমা), জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রিসোর্স অ্যাডভাইসরি গ্রুপ (ইনসারাগ), রেড ক্রস এবং ও ইউরোপীয় সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম—সবই আইসিএস মেনে চলে।
আইসিএস অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। অপারেশনাল এরিয়া (হট জোন) থাকে শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীদের জন্য। ওয়ার্ম জোন–লজিস্টিক ও সহায়তাকারী ইউনিটের। কোল্ড জোন– মিডিয়া, প্রশাসন, স্বজনদের নিয়ন্ত্রিত প্রবেশের জায়গা।
সরাসরি উদ্ধারে জড়িত নন এমন কেউ যদি হট বা ওয়ার্ম জোনে প্রবেশ করেন, তা উদ্ধারকাজকে বিলম্বিত বা বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক নেতাদের আগমন মানেই নিরাপত্তা, মিডিয়া, ভিড় ও প্রশাসনিক চাপ, যা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার গতি কমিয়ে দেয়।
জাতিসংঘের ওসিএইচএ এবং রেড ক্রসের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে যে কোনো সরকারি পরিদর্শন অবশ্যই সমন্বিত ও সময়োপযোগী হতে হবে, যাতে জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো, দুর্ঘটনা ঘটলেই ভিড় লেগে যায়, ভিড় জমানোর ক্ষেত্রে রাজনীতিকরা এগিয়ে থাকেন। যাদের সঙ্গে থাকে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, অনুসারী ও লোকদেখানো শোক। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে থাকে, তখন ফেইসবুক লাইভ দিয়ে বক্তব্য দিলে তার কী উপকার?
আন্তর্জাতিকভাবে এটি ডু নো হার্ম নীতিমালার পরিপন্থী। অর্থাৎ, আপনি হয় উপকার করবেন, না হলে দূরে থাকবেন। ভিড় বাড়িয়ে, মিডিয়ার মনোযোগ ঘুরিয়ে এবং উদ্ধারকারীদের গতিবিধি সীমাবদ্ধ করে কেউ যদি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান দৃশ্যমান করতে চান, সেটি দায়িত্বশীলতা নয়—অমানবিকতা।
অগ্নিকাণ্ড হোক, নৌদুর্ঘটনা হোক বা ভবন ধস, প্রতিবারই আমরা দেখি, কে আগে ঘটনাস্থলে যায়, কে আগে মাইক ধরে কথা বলে, তার প্রতিযোগিতা। অথচ এসব ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের পরীক্ষা।
এই সংস্কৃতি শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি প্রশাসনিক ও মিডিয়া-নির্ভর প্রদর্শনীমূলক আচরণে পরিণত হয়েছে। আমাদের এখনই ভাবতে হবে, এই প্রদর্শন কি বাস্তব উদ্ধারকাজের চেয়ে বেশি মূল্যবান? না কি সময় এসেছে এই প্রবণতার অবসান ঘটানোর?
অন্যদিকে, ঢাকায় তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর এবং কুর্মিটোলা এয়ারবেস—এই দুটির অবস্থান। রাজধানীর আকাশে নিয়মিত যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন কতটা নিরাপদ? আন্তর্জাতিক নিয়ম কি এর অনুমতি দেয়? স্বাভাবিক ভাবনাতেই প্রশ্ন উঠে। কিন্তু যারা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, তাদের ভাবনায় কেন আসে না?
আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (আইকাও)-এর অ্যানেক্স টু এবং অ্যানেক্স ইলেভেন অনুযায়ী, যে কোনো প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে কম উচ্চতায় উড়ালকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ন্যূনতম নিরাপদ অল্টিচিউড বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে ঘনবসতি ও কূটনৈতিক এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে।
যেসব দেশ জননিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়, সেসব দেশের ঘনবসতি এলাকায় সামরিক বা বেসামরিক কোনো বিমান প্রশিক্ষণ হয় না। জাপানে শহরের ওপর প্রশিক্ষণ নিষিদ্ধ, বেশিরভাগ প্রশিক্ষণ হয় সমুদ্রের ওপর বা নির্জন এলাকায়। যুক্তরাষ্ট্র জনবসতির ওপর কম উচ্চতায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। প্যারিস শহরের আকাশে কোনো প্রশিক্ষণ বিমান দেখা যায় না—শুধু বিশেষ অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট অনুমতিতে। ভারতের নয়াদিল্লিতে কম উচ্চতায় সামরিক বিমান নিষিদ্ধ। প্রশিক্ষণ হয় উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের বিশাল ঘরানার সামরিক ঘাঁটিতে।
জনবসতি এলাকায় যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ চালানো শুধু নিরাপত্তার ঝুঁকি নয়, এটি আন্তর্জাতিক নিয়ম, মানবিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশগত বিবেচনারও বড় ব্যত্যয়।
যুদ্ধবিমান অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছুটে। যে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈমানবিকের ভুলে জনবসতিতে বিধ্বস্ত হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস হতে পারে। যুদ্ধবিমানের শব্দ ১২০–১৪০ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্রবণশক্তি হ্রাস, স্ট্রেস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক। হঠাৎ বিকট শব্দ, ঘন ঘন ওড়ার শব্দে মানুষ আতঙ্কিত হয়। স্কুল, হাসপাতাল, পরীক্ষার সময় এসব ফ্লাইট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা হতে পারে এই ধরনের প্রশিক্ষণের উপযুক্ত স্থান। এই দুর্ঘটনার পর দ্রুত সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে চীনের তৈরি এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানকে চেংডু জে-৭ সিরিজের সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সোভিয়েত আমলের মিগ-২১ এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যে মডেলটি বহু দেশে বহু দুর্ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ ২০১১ সালে চীনের কাছ থেকে ১৬টি এফ-৭ বিজিআই কেনে এবং ২০১৩ সালে সেগুলো বহরে যুক্ত হয়। একই বছর চীন নিজেই এই মডেলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
বলা হয়, এফ-৭ বিজিআই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ‘স্বল্প ব্যয়ে আধুনিকায়নের’ প্রতীক। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে থাকা একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ মিগ-২১ বা তার অনুরূপ মডেলগুলো ফেজ আউট করে ফেলেছে। ভারত নিজেও মিগ-২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পুরোপুরি সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে।
বাংলাদেশের কাছে এখনো রয়েছে প্রায় ৩৬টি এফ-৭ বিমান, যার বড় অংশই পুরনো প্রযুক্তির। যুদ্ধবিমান শুধু গতি বা অস্ত্রধারণ ক্ষমতায় মাপা যায় না—এর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে প্রশিক্ষণ চালানো মানে ভবিষ্যতের সাহসী পাইলটদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা। এটি কেবল বাজেটের প্রশ্ন নয়—এটি ন্যায়ের প্রশ্ন। জীবনের প্রশ্ন।