Published : 06 Nov 2025, 08:13 AM
অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তটি বাতিল হওয়ার একটি সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। খোদ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বিবৃতি দিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা যে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র চেষ্টা, তা স্পষ্ট এবং বোঝার জন্য অতি বুদ্ধিমান হওয়ার দরকার নেই।
বলাবাহুল্য ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠনের চাপের মুখে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার বহুমুখী দিককে উপেক্ষা করে সংগীত শিক্ষার জন্য সৃজিত শিক্ষক পদটি বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও। এতে স্পষ্ট হয় যে শিক্ষার মান ও সমন্বিত বিকাশের চেয়ে চাপের মুখে আপস করাই অগ্রাধিকার পেয়েছে সরকারের কাছে।
এই দুটি পদ বাদ দেওয়ার পাশাপাশি 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫'-এ কিছু 'শব্দগত পরিবর্তন' আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন এনে মন্ত্রণালয় মূলত অগাস্টে জারি করা নতুন বিধিমালার মূল উদ্দেশ্যকে পেছনে টেনে নিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও শরীরচর্চা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পদসমূহ বাতিল করা হয়েছে, যা সরকারের শিক্ষানীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৪ নভেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বতী সরকার, সেখানে প্রকল্পটির ‘পরিকল্পনায় ত্রুটি ও বৈষম্যের’ কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব কমিটি প্রকল্পটির ‘পরিকল্পনায় ত্রুটি এবং বৈষম্যের’ আশঙ্কা দেখে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছে।
“সচিব কমিটি মনে করে, প্রকল্পটির পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। এত অল্প সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনবে না এবং এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।”
তবে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পরবর্তীকালে অর্থের সংস্থান-সাপেক্ষে সকল স্কুলে এরকম নতুন বিষয়ের শিক্ষকের পদ সৃজন এবং সেসব পদে নিয়োগদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করেছে।”
কিন্তু এই যুক্তি যেন শিক্ষার মান ও সমন্বিত বিকাশকে ন্যায্যভাবে বিচার করার দায় থেকে পালানোর চেষ্টা মাত্র। একটি নতুন বিষয় শিক্ষার্থীদের মনোবল, সৃজনশীলতা এবং শরীরচর্চা বিকাশকে উন্নত করার সুযোগ দেয় এবং তার জন্য অল্পসংখ্যক শিক্ষকও একটি সূচক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শরীরচর্চা ও সংগীত শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাবনা বাতিল বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নজরে এসেছে।
ভালো কথা, নজরে এসেছে বলে তারা একটা সরকারি কিন্তু বেদরকারি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তাদের এই ব্যাখ্যা পড়লে মনে হবে, বাংলাদেশে আর কোনো ক্ষেত্রে বৈষম্য নেই। বিরাট বৈষম্য ঘটতে যাচ্ছিল সংগীত ও শরীরচর্চা বিদ্যার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে। কিন্তু আমরা এমন অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদাহরণ দিতে পারব, যেসব স্কুলে বাংলার শিক্ষক আছে তো ইংরেজির শিক্ষক নেই, ইংরেজির শিক্ষক থাকলে আবার নেই গণিতের শিক্ষক। কাজেই স্কুলগুলোই বন্ধ করে দিয়ে বৈষম্যকে চিরতরে দূর করে দেওয়া যেতে পারে। এ যেন ‘হীরক রাজার দেশে’র অবস্থা– “বিদ্যা লাভে লোকসান, নাহি অর্থ নাহি মান।” অবশ্য এই ফরমানের আগে হীরকের রাজা শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বললেন, “শিক্ষামন্ত্রী আজ থেকে গান শেখা বন্ধ।” শিক্ষামন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বললেন, “যে আজ্ঞা খোদা বন্ধ।”
এখানে কে যে হীরক রাজা আর কে শিক্ষামন্ত্রী সেই আলাপে যাওয়ার আগে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে ‘পরিকল্পনা ত্রুটি’ বিষয়ে আরেকটু জেনে নেওয়া দরকার। সরকারের ভাষ্যমতে, ৬৫ হাজার ৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার ৫০০টি ক্লাস্টারে এই শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সচিব কমিটি মনে করে, এত অল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ‘কার্যকর কোনো সুফল বয়ে আনবে না’ এবং এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় ‘বৈষম্যের সৃষ্টি হবে’। এই ক্লাস্টার-ভিত্তিক মডেল বাস্তবায়নের অসুবিধেও তুলে ধরা হয়েছে। সচিব কমিটির মতে, একজন শিক্ষককে প্রায় ২০টিরও বেশি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিতে হতো, যা কর্মঘণ্টা পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে ‘বাস্তবসম্মত’ ছিল না।
একজন শিক্ষকের পক্ষে একসঙ্গে প্রায় ২০টি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব নেওয়া অবশ্যই বাস্তবসম্মত নয়— এটা বুঝতে শিক্ষাবিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সমস্যা ছিল পরিকল্পনায়, নয় কি ধারণায়: পর্যায়ক্রমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করে ধাপে ধাপে স্কেল-আপ করা যেত, যাতে অল্প সংখ্যক পাইলট পজিশন থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ফল ও পরিচালনাগত অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। এই সহজ, যুক্তিসঙ্গত সমাধানটি বিবেচনা না করে পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল করে দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক এবং তাৎক্ষণিক 'সুরাহা' নয়, বরং সমস্যা বাড়িয়ে দেওয়ার এক রূপ—যেন মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলাই আরোগ্য লাভের উপায়।
কে না জানে আজকের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে শিশুর দৃষ্টিভঙ্গিকে বিস্তৃত করতে হবে। শিশুদের গড়ে তুলতে হবে সৃজনশীল করে। স্পষ্টভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, যোগাযোগ-দক্ষতা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীলতা জাগাতে হবে শিশুর মনে।
এই গুণগুলো কি কেবল পাঠ্যপুস্তক পড়ে অর্জন করা সম্ভব? মোটেই না। কোনো একটি শিশু যখন গান গায়, নাটক করে, নাচ শেখে, ছবি আঁকে কিংবা খেলাধুলায় অংশ নেয়—তখন তার ভেতরে জেগে ওঠে কল্পনাশক্তি; জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাস। তার মধ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে, অন্যের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা তৈরি হয়, বাস্তব জীবনের নানা পরিস্থিতি বুঝতে শেখে। ছোটবেলা থেকে খেলাধুলা করলে কেবল বিজয়ী হওয়ার মানসিকতা থেকে মুক্ত হয়ে বড় হতে পারে। পরাজয় মানেই শেষ নয় এটাও খেলার জয়-পরাজয়ে শিখতে পারে।
শিক্ষাকে সংকুচিত করে শুধু বই, পরীক্ষা আর রুটিনের মধ্যে আটকে ফেলি, তাহলে শিশুর মন যে স্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হওয়ার কথা, তা হবে না। ফলে পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও বাস্তব জীবন পরিচালনার জন্য যে বোধ, যে সৃজনশীলতা, যে মানবিকতা প্রয়োজন—তা অনার্জিত থেকে যাবে।
সাফল্যের জন্য যতটা দরকার গণিত বা বিজ্ঞানের জ্ঞান, ততটাই দরকার সাহস, আবেগ, চিন্তাশক্তি, দলগত দক্ষতা এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা। বলাবাহুল্য এই গুণগুলো গড়ে ওঠে শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতি ও খেলাধুলার ভেতর দিয়ে।
বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ধারণার প্রতিফলন ঘটেছিল ২০২৫ সালের অগাস্টে জারি হওয়া ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’-এ। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ‘সহকারী শিক্ষক (সংগীত)’ ও ‘সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা শিক্ষা) পদ।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে ব্যাখ্যাই সামনে আনুক না এই পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের চাপ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, তা খুব সহজেই বোঝা যায়। তারা সরাসরি দাবি তুলেছে—প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে তার বদলে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। তাদের যুক্তি—সংগীত শিক্ষা নাকি অপ্রয়োজনীয়, এমনকি ইসলামবিরোধী।
ধর্ম পড়াবার জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতা কেউ করছে না। কিন্তু কিন্তু সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষাকে অপ্রয়োজনীয় বলাটা কেবল অযৌক্তিকই নয়, এটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে পরিকল্পিতভাবে সীমাবদ্ধ করার এক বিপজ্জনক প্রয়াস।
শিশুর হৃদয়, মন ও মস্তিষ্ককে সমানতালে গড়তে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে দেশগুলোকে আমরা মুসলিম সমাজের অগ্রগামী উদাহরণ হিসেবে দেখি, সেসব দেশ সংগীত শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ধরা যাক তুরস্কের কথা। আধুনিক তুরস্কের জনক কামাল আতাতুর্ক শুধু রাজনৈতিক সংস্কার করেননি; শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আধুনিক রূপ দিয়েছেন। তার সময় থেকেই সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে সংগীতকে বাধ্যতামূলক করা হয় এবং পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তনের পরেও তা বহাল আছে। মালয়েশিয়ার ‘এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট ২০১৩–২০২৫’–এ স্পষ্ট বলা আছে, শিশুর নৈতিক বিকাশ ও সফট স্কিল গড়ে তুলতে সংগীত শিক্ষা অপরিহার্য। এটি শিশুদের আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজ, সংবেদনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়ায়। ইন্দোনেশিয়া—পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ—মনে করে সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চা শিশুদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন, ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি সহনশীলতা এবং সম্মানবোধ তৈরি করে। অর্থাৎ, সংগীতকে তারা ধর্মবিরোধী নয়, বরং শিশুর মানসিক বিকাশের হাতিয়ার হিসেবে দেখে।
আমরা যে ‘হীরক রাজার দেশে’ পরিণত হতে চলেছি, সেই দেশে চলছেটা কি বুঝবার জন্য কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে রাখা ভালো। গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন ওই বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে প্রাথমিকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। একই দিনে এক সেমিনারে সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতারা। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পদক্ষেপকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাতিলের দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম।
আমাদের এই ‘হীরক রাজার দেশে’ কে যে রাজা, আর কে যে দেশটা চালাচ্ছে বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে মন্ত্রীটিকে চিনিয়ে দিয়েছেন কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। নিজের ফেইসবুক পাতায় নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারকে একটা খোলা চিঠি লিখেছেন। জাকির তালুদার মনে করেন, তার প্রিয় বিধানদা ‘এতটা নরাধম নন’; তাই এ ঘটনার প্রতিবাদে তাকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবতে বলেছেন– “যেহেতু মন্ত্রণালয় আপনার। তাই আপনার নামেও স্থায়ী কলঙ্কতিলক হয়ে থাকবে হয়তো।”
এখানে স্পষ্ট যে, শুধুমাত্র পদ ও দায়িত্ব আকড়ে থাকা নয়, ব্যক্তিগত নৈতিকতা রক্ষা করা আরও জরুরি। যখন সরকার ও উপদেষ্টা স্তর এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত হন, তখন স্বচ্ছতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। জাকির তালুকদারের খোলা চিঠি আসলে সেই স্বচ্ছতার দাবি, যা সরকারের নীরবতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক ধরনের সতর্কবার্তা। কিন্তু পদত্যাগের সংস্কৃতি তো আমাদের এই পোড়া দেশে কোনো কালেই ছিল না। সংগীতবিহীন স্কুলের জন্য মন্ত্রণালয়ের ব্যথা পাওয়ার কী আছে?