Published : 20 Jun 2026, 11:42 AM
ইউরোপে উদ্দেশে রওনা হওয়া অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা গত সপ্তাহে লিবিয়া উপকূলে ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা।
পূর্ব লিবিয়ায় অভিবাসীদের গতিবিধি নজরদারি করা ‘আবরিন’ জানিয়েছে, ১২ জুন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ভয়াবহ এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকিদের হদিস মেলেনি।
লিবিয়ার কোস্ট গার্ড এবং পূর্বাঞ্চলীয় তোব্রুক শহরের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, সমুদ্রের তীরে ভেসে আসা বেশ কিছু মরদেহ তারা উদ্ধার করেছে।
কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী দলগুলো সাদা রঙের বডি ব্যাগে করে মরদেহগুলো তীরে নিয়ে আসছে।
এবিসি নিউজ লিখেছে, উন্নত জীবনের আশায় উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর জন্য লিবিয়া উপকূল অন্যতম প্রধান একটি পয়েন্ট। মানব পাচারকারীরা আকারে খুব ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের গাদাগাদি করে তুলে দেয়, ফলে এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় প্রতিনিয়ত শত শত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে-এর মধ্যে মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ৮০০-রও বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর গত বছর এই একই রুটে ১৩০০-রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
২০১১ সালে নেটোর সহায়তায় গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘকালের স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন ঘটে; এর পর থেকে লিবিয়ায় চরম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা চলছে।
তার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে যুদ্ধ ও দারিদ্র্যের কারণে পালিয়ে আসা লোকজনের ইউরোপে যাওয়ার প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে লিবিয়া।
এবিসি নিউজ লিখেছে, ছয়টি দেশের সঙ্গে লিবিয়ার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মানব পাচারকারীরা সীমান্ত দিয়ে সহজেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভেতরে নিয়ে আসছে এবং তাদের রাবারের নৌকা বা ত্রুটিপূর্ণ প্লাস্টিকের জলযানে করে সাগরে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
সমুদ্রে কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া কিংবা লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো অভিবাসন প্রত্যাশীদের সরকারি ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়।
জাতিসংঘের তদন্তকারীদের মতে, এসব কেন্দ্রে জোরপূর্বক শ্রম, মারধর, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে, যা মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।