Published : 24 Oct 2025, 12:43 AM
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আমি মনে করি বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার দিকপাল। শুরুর সময় থেকে আমি এ নিউজ পোর্টাল অনুসরণ করি। সময়ের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম হয়ে উঠেছে আমার এবং আরও অনেকের জীবনযাপনের অংশ।
কোনো প্রতিষ্ঠানের এগিয়ে চলা নির্ভর করে এর নেতৃত্বের ওপর। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দায়িত্বে এমন একজন, আমি যার গুণমুগ্ধ। তৌফিক ইমরোজ খালিদী খুবই প্রতিভাবান এবং দারুণ সাহসী একজন সম্পাদক।
ব্যক্তিগত ভালো লাগার কথা একটু আগে বলি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনেক আয়োজনে আমি গিয়েছি। খালিদী ভাই সব আঙিনার সবাইকে অনেক সম্মান দেন।
বিশেষ করে, পহেলা বৈশাখে প্রতিবার যে আয়োজন থাকে, আমি তার অপেক্ষায় থাকি। প্রতিবারই খালিদী ভাইয়ের অফিস থেকে ফোন আসে। আমি মুখিয়ে থাকি সেখানে যেতে। কারণ, বিভিন্ন জায়গায় নানা রকমের অনুষ্ঠান তো থাকেই সেদিন, সকালে-দুপুরে-রাতে। তবে তার বাসায় উনি যে আয়োজন করেন, এটা অনন্য। বিভিন্ন অঙ্গনের কীর্তিমানেরা সেখানে আসেন; অনুষ্ঠান মিলনমেলায় রূপ নেয়।
তার আন্তরিকতার ছোঁয়া থাকে সবকিছুতেই। এমনকি খাবার পরিবেশন দিয়েও যে হৃদয় স্পর্শ করা যায়, তা বোঝা যায় ওখানে গেলে। ওই অনুষ্ঠানে সত্যিকার অর্থে বোঝা যায়, বাংলা নববর্ষ এসে গেছে। অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়। ক্রিকেটের বাইরে সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিভিন্ন জগতের বন্ধুদের বিচরণ অনেক। তাদের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। ক্রিকেট নিয়ে কথা বলি। তারা অনেক কিছু জানতে চান আমার কাছে। অন্য রকম একটা আবহ থাকে সেখানে।
সাংবাদিকতার দিক থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিয়ে আসলে নতুন করে বলার আছে সামান্যই। প্রায় দুই দশক হতে চলেছে তাদের পথচলা। এ ধরনের একটি সংবাদমাধ্যম, একটি অনলাইন পত্রিকা নিজের মান ও পাঠকের আস্থা ধরে রেখে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা অসাধারণ অর্জন।
বিশেষ করে, গত কয়েক বছরে ডিজিটাল দুনিয়া যেভাবে বদলে গেছে, মানুষ এখন সামাজিক মাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, ফেইসবুক-ইউটিউব থেকে সবাই গোটা দুনিয়া জেনে যাচ্ছে, সেখানে এত কিছুর ছড়াছড়ি যে ঠিক আর ভুল আলাদা করাই কঠিন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এই সময়েও স্বাতন্ত্র্য ধরে রেখে স্বমহিমায় এগিয়ে চলেছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা বলতে এ দেশে মানুষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকেই বোঝে।
অনলাইন সাংবাদিকতায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম তো পথপ্রদর্শক, সবাই জানে। তবে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ছুটে চলার দিক থেকেও তারা এ দেশে অগ্রণী। প্রথম বলেই যে এর গ্রহণযোগ্যতা অন্য রকম, তা শুধু নয়; বরং নিজেদের কাজ দিয়েই তারা পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। সাংবাদিকতার সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালিদী ভাই বা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। অনেক সময় তাকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে, সত্য লেখার জন্য তোপের মুখে পড়তে হয়েছে, হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে; তিনি হাল ছাড়েননি।
আমাদের দেশে সহজাত প্রবণতাই এমন যে, যখনই কাউকে নিয়ে প্রশংসামূলক কিছু লেখা হয়, সে খুব খুশি হয়। কিন্তু একটু সমালোচনা শুনলেই অনেকে তেতে ওঠে। গায়ে ফোসকা পড়ে যায় যেন! এই বাস্তবতার মধ্যেও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কখনো পথচ্যুত হয়নি। এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় এবং দারুণ ভালো লাগে যে, এত বছরেও শুরুর সময়ের সংকল্প থেকে তারা সরে আসেনি।

আশা করি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এই ধারা অব্যাহত রাখবে। আশা করি, খালিদী ভাই দীর্ঘ জীবন পাবেন এবং আমাদের সাংবাদিকতাকে আলোকিত করবেন। তার গোটা দলকেও ধন্যবাদ দেব। তাদের অনেকের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। তারাও প্রতিষ্ঠানের আদর্শকে নিজেদের ভেতর ধারণ করেন। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন তারা।
ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে, ক্রীড়াকে আরও বেশি প্রাধান্য দেবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। অবশ্যই তারা এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। তবে আরেকটু বাড়িয়ে দিলে ভালো। আমাদের দেশে তো খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেট মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। এখন সময়টা যদিও অস্থির, নেতিবাচকতার ছড়াছড়ি। ক্রীড়ার মাধ্যমে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সেখানে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে পারে।
অস্থির সময়ের কথা বলছিলাম। সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম এখন একাকার হয়ে গেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটিই যে, এই সময়েও তারা ব্যবধানটি ধরে রাখতে পেরেছে। বিভিন্ন খবরের পাশাপাশি গঠনমূলক এবং বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা ও সমাধান সেখানে থাকে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সবার জন্য।
এই প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অভিনন্দন। আবারও আশা করি, খালিদী ভাইয়ের নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে সরবে না এবং সাহসী পথচলা অব্যাহত রাখবে। যেখানেই অন্যায়-অনিয়ম, সেখানেই প্রতিবাদী সুর যেন বেজে ওঠে। এখনকার মতই যেন কণ্ঠ উচ্চকিত থাকে সব সময়।
আমি শুধু চাইব, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যেন সাংবাদিকতাই করে। সাংবাদিকতার ভাবনায় থাকলেই পথটা পরিষ্কার থাকে। আমাদের দেশে সাংবাদিকতায় এখনো উৎকর্ষের অনেক জায়গা আছে। এখন যে সস্তা সাংবাদিকতা আমরা দেখছি, এটা সাংবাদিকতা নয়। মানুষ বিভ্রান্ত হয় এসবে, ভুল পথে পরিচালিত হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সেটা কখনো করে না। করে না বলেই এখনো গ্রহণযোগ্যতা ও ভরসার শীর্ষে তারা।
আরও অনেক কিছু বলার ছিল। খুব গভীরে যাচ্ছি না। খালিদী ভাই ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আরও এগিয়ে যাক। উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। একসময় এই প্রতিষ্ঠান কোয়ার্টার সেঞ্চুরি করবে, হাফ সেঞ্চুরি করবে… ক্রিকেটের ভাষায় বললে, সেঞ্চুরিও করে ফেলবে একদিন। সেদিন আমি থাকব না, খালিদী ভাই হয়ত থাকবেন না। তবে তার এই প্রতিষ্ঠান থাকবে তখনো; দেশের সাংবাদিকতার উজ্জ্বল ঠিকানা হয়ে।
ধন্যবাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। খালিদী ভাই, আপনাকে নিয়ে এবং আপনার প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা গর্বিত। আপনার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।