Published : 05 Jun 2026, 04:46 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে তেহরানের সঙ্গে কোনও যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা চুক্তির প্রয়োজন নেই ওয়াশিংটনের।
হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখনই তা (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) পেয়ে যেতে পারি। আমরা যদি সত্যিই তা পেতে চাই, তবে আমার মনে হয় না তারা (ইরান) আমাদের আটকাতে পারবে। কিন্তু এই মুহূর্তে তার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি মাটির নিচে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।”
একইসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির সঙ্গে কোনও বৈঠকে বসতে চান না।
তবে ট্রাম্প বলেন, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনও চুক্তি হয়, তাহলে তাদের দুই জনের সাক্ষাৎ হওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সেটি ঘটলে...আমি সম্মানজনক আচরণ করব।”
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদেরকে বলেছেন, তেহরান আমেরিকার সেনাদের হত্যা করলেই কেবল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি টানা হবে।
পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইরানের সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলা প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইরানের হামলায় উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ওমানের মিনা আল ফাহাল টার্মিনালের কাছে এক রহস্যময় বিস্ফোরণের পর সেখানে সাময়িকভাবে তেল খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, টার্মিনালের এসবিএম-১ এবং এসবিএম-২ একক-বুয়ো মুরিং বার্থের মাঝামাঝি জায়গায় এই বিস্ফোরণ ঘটে, যা ড্রোন হামলার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য শুক্রবার সকাল থেকেই সেখানে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি নতুন এক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বৃহস্পতিবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ। তাদের দাবি, এই আলোচনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা কোনোভাবেই জড়িত ছিল না।
হিজবুল্লাহর এই প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযান চলবে এবং লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই।