ছোট চিংড়ির মুখরোচক ভর্তা
সরিষার তেলের কড়া ঝাঁঝে মচমচে চিংড়ির যুগলবন্দি।
দুপুরের ভোজে পাতে যদি এক গোল্লা খাঁটি সরিষার তেলে মাখানো চিংড়ি ভর্তা থাকে, তবে তো কথাই নেই। এই ভর্তা দিয়েই খাওয়া হয়ে যাব এক প্লেট ভাত।
ছোট চিংড়ি মাছের নিজস্ব মিষ্টি স্বাদ এবং ভাজা পেঁয়াজ-রসুনের যুগলবন্দি গরম ভাতের সঙ্গে স্বর্গীয় স্বাদ তৈরি করে।
তবে রান্নার সঠিক পদ্ধতি না জানলে চিংড়ি মচমচে করে ভাজা যায় না, ফলে ভর্তা করার পর আশযুক্ত বা ছিবড়ে লাগে।
রন্ধনশিল্পী মিতা খানমের রেসিপি অনুযায়ী চিংড়ির সুঘ্রাণ ধরে রেখে ভর্তা তৈরির রেসিপি দেওয়া হল।
উপকরণ
ছোট চিংড়ি: ২৫০ গ্রাম (বেছে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরানো)
পেঁয়াজ কুচি: ১ টেবিল-চামচ
রসুন: ৪ কোঁয়া (থেঁতো করে রাখা)
শুকনা মরিচ: ৩টি (ঝাল অনুযায়ী কাঁচা মরিচও ব্যবহার করা যাবে)
ধনেপাতা কুচি: ৩ টেবিল-চামচ
খাঁটি সরিষার তেল: ২ টেবিল-চামচ
টেলে রাখা জিরা গুঁড়া: আধা চা-চামচ
লবণ: স্বাদ মতো
পদ্ধতি
ধাপ ১: চিংড়ি বাছা ও মচমচে ভাজা
প্রথমেই ছোট চিংড়ি মাছগুলো ভালো করে বেছে ধুয়ে নিতে হবে। এই ভর্তার ক্ষেত্রে চিংড়ির খোসা প্রাকৃতিকভাবেই পুষ্টিগুণ ধরে রাখতে রেখে দেওয়া যায়। ধোয়ার পর একটি চালনিতে রেখে পানি পুরোপুরি ঝরিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এবার একটি কড়াইতে ২ টেবিল-চামচ খাঁটি সরিষার তেল গরম করে পানি ঝরানো চিংড়িগুলো ছেড়ে দিতে হবে। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে চিংড়ি মাছগুলো একদম মচমচে করে ভেজে একটি আলাদা পাত্রে তুলে রাখতে হবে।
ধাপ ২: সুগন্ধি মসলা কষানো
চিংড়ি মাছ ভাজার পর কড়াইতে যে অবশিষ্ট সরিষার তেল থাকবে, সেটি কোনওভাবেই ফেলা যাবে না, কারণ ওই তেলেই লুকিয়ে থাকে চিংড়ির আসল স্বাদ।
সেই তেলের মধ্যেই শুকনা মরিচ, থেঁতো করে রাখা রসুনের কোয়া এবং পেঁয়াজ কুচি দিয়ে অনবরত নেড়েচেড়ে খুব ভালো করে ভেজে নিতে হবে।
যারা ভর্তায় কাঁচা-মরিচের কড়া ঘ্রাণ পছন্দ করেন, তারা শুকনা মরিচের বদলে এই ধাপে আস্ত কাঁচা মরিচ চেরা ব্যবহার করতে পারেন।
ধাপ ৩: ব্লেন্ডার বা পাটায় পিষে নেওয়া
পেঁয়াজ-রসুন হালকা বাদামি ও নরম হয়ে আসলে নামিয়ে নিতে হবে। এবার টেলে রাখা জিরা গুঁড়াসহ কড়াইয়ের ভেজে রাখা বাকি সমস্ত উপকরণ এবং মচমচে চিংড়ি মাছ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে নিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে।
এই ভর্তা খুব বেশি মিহি বা মসৃণ না করে সামান্য একটু দানাদার বা খসখসে রাখলে খাওয়ার সময় মুখে চমৎকার স্বাদ লাগে। চাইলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পাটায় পিষেও করে নেওয়া যায়।
ধাপ ৪: ধনেপাতা মাখানো ও গোল্লা করে পরিবেশন
ঝটপট তৈরি হয়ে যাওয়া এই মজাদার বাটা চিংড়ি একটি ছড়ানো প্লেটে নিতে হবে। এবার পরিবেশনের ঠিক আগে ওপর থেকে তাজা ধনেপাতা কুচি এবং চিংড়ি ভাজার কড়াই থেকে বাঁচিয়ে রাখা সামান্য কাঁচা সরিষার তেল দিয়ে আলতো হাতে মেখে নিতে হবে।
মাখানো শেষে হাতের সাহায্যে সুন্দর গোল গোল বল বা গোল্লা বানিয়ে প্লেটে সাজিয়ে দিন। তৈরি হয়ে গেল জিভে জল আনা ছোট চিংড়ি ভর্তা।
