Published : 31 Aug 2025, 06:04 PM
অনেকেই সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিতে বা প্রতিশ্রুতি দিতে ভয় পান।
প্রিয়জনকে 'সঙ্গী' বলা থেকে বিরত থাকা, বিয়ের পরিকল্পনা, এমনকি ভবিষ্যতের কোনো অনুষ্ঠানেও রাজি হতে দ্বিধা করা- এসবই প্রতিশ্রুতি-ভীতির লক্ষণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পর্ক-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘কাম ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডা. ক্রিস মওসুনিক বলেন, "এই ভীতি আসে স্বাধীনতা হারানোর ভয়, মানসিক আঘাত পাওয়ার ভয় বা অতীতের ট্রমা থেকে।"
‘আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) প্রতিশ্রুতি-ভীতি নিয়ে গবেষণায় উল্লেখ করেছে যে- এটি শুধু প্রেমের সম্পর্কেই নয়, বন্ধুত্ব বা পেশাগত সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিশ্রুতি-ভীতির সাধারণ লক্ষণ
লেবেল এড়িয়ে চলা: অনেকে প্রেমে থাকলেও ‘প্রেমিক’, ‘প্রেমিকা’ বা ‘সঙ্গী’ শব্দ ব্যবহার করতে চান না।
বারবার সম্পর্ক ভাঙা ও জোড়া লাগানো: সম্পর্ক গভীর হলে দূরে সরে যাওয়া এবং কিছুদিন পর ফিরে আসা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এড়িয়ে যাওয়া: একসঙ্গে থাকা, পরিবারকে পরিচয় করানো বা ভবিষ্যতের অনুষ্ঠান নিয়ে কথা উঠলেই এড়িয়ে যাওয়া।
মানসিক দূরত্ব রাখা: নিজের অনুভূতি প্রকাশ বা ‘শেয়ার’ না করা, খোলামেলা কথা না বলা।
অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ: কখনও অত্যন্ত কাছাকাছি আসা আবার হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া।
পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় না করানো: গুরুতর সম্পর্ক তৈরি এড়াতে প্রিয়জনকে পরিচিত মহলে না নেওয়া।
অন্য বিকল্প খোঁজা: সম্পর্ক থাকার পরও নতুন কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা ‘ফ্লার্ট’ করা।
যে কারণে কাজ করে প্রতিশ্রুতি-ভীতি
অতীতের অভিজ্ঞতা: ভাঙা সম্পর্ক বা শৈশবে অস্থির পারিবারিক পরিবেশ।
স্বাধীনতা হারানোর ভয়: অনেকের কাছে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক মানে স্বাধীনতা হারানো।
অপর্যাপ্ত আত্মবিশ্বাস: ভালোবাসার যোগ্য নই এমন ধারণা।
অতিরিক্ত কল্পনা: ‘যদি সম্পর্কটা না টেকে?’— এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তা।
নিজের প্রতিশ্রুতি-ভীতি সামলানোর উপায়
বেশ কয়েকটি পন্থায় এই বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া সম্ভব।
প্রধান কারণ খুঁজে বের করা: ভয় কোথা থেকে আসছে তা ভেবে দেখা। আগের কোনো মানসিক আঘাত, পরিবারিক অস্থিরতা, নাকি স্বাধীনতা হারানোর ভয়?
খোলামেলা কথা বলা: সঙ্গীর সঙ্গে সৎভাবে নিজের ভয় ও দ্বিধা আলাপ আলোচনা করা উচিত। এতে সঙ্গী বুঝতে পারবেন যে সমস্যাটি ব্যক্তিগত ভয় থেকে। সম্পর্ক নিয়ে অনীহা নয়।
ছোট পদক্ষেপ নেওয়া: একসঙ্গে থাকা কঠিন লাগলে আগে সপ্তাহে কয়েকদিন একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। ধীরে ধীরে বড় সিদ্ধান্তের দিকে এগোন।
নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ: ‘যদি সম্পর্ক না টেকে?’—এরকম ভাবনার বদলে সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো মনে করতে হবে।
নিজেকে সময় দেওয়া: তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং ছোট অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞের সহায়তা: যদি ভয় গভীর হয় তবে থেরাপি বা কাউন্সেলিং কাজে আসতে পারে।
‘আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ)’ বলছে, থেরাপি প্রতিশ্রুতি-ভীতি কাটাতে কার্যকর।
বর্তমানকে উপভোগ: ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা না করে বর্তমান মুহূর্তে আনন্দ খুঁজতে হবে। একসঙ্গে সময় কাটানোতে মন দিন।
সঙ্গীর প্রতিশ্রুতি-ভীতি সামলানোর উপায়
নিজের না হলে সঙ্গীর দিকেও নজর দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় ‘স্পেস’ দেওয়া: জোর করলে তারা আরও দূরে সরে যেতে পারেন। তাদের সময় নেওয়ার সুযোগ দিন।
খোলামেলা আলোচনায় উৎসাহ: তাদের ভয় ও দ্বিধা শুনুন, বিচার না করে বোঝার চেষ্টা করুন।
নিজের সীমা নির্ধারণ: প্রয়োজনগুলো পরিষ্কারভাবে বলুন। যেমন- ‘আমি বুঝি তোমার সময় লাগছে। তবে আমিও চাই সম্পর্ক এগোচ্ছে সেটা বুঝতে।’
বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ: ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ না দিয়ে একসঙ্গে থাকা সময়টিকে উপভোগ করুন।
নরমভাবে আশ্বাস: তাদের জানান যে, আপনি পাশে আছেন এবং ধীরে ধীরে এগোতে রাজি আছেন।
থেরাপির পরামর্শ দেওয়া: যদি সমস্যা গভীর হয়, থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দিন।
ধৈর্য ধরুন কিন্তু সীমা জানুন: অসীম ধৈর্য ধরে নিজেকে কষ্টে ফেলবেন না। যদি সম্পর্ক না এগোয় তবে পুনর্মূল্যায়ন করার প্রয়োজন পড়বে।
আরও পড়ুন
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে যাওয়ার আগে যে প্রশ্নগুলো করা জরুরি
নতুন সম্পর্কে জড়াতে যা খেয়াল রাখা দরকার
সম্পর্কের শুরুতে শুভ পূর্বাভাস