Published : 15 Dec 2025, 07:54 PM
শীতের পোশাকে প্রথমেই একসঙ্গে খোঁজ পড়ে আরাম আর স্টাইলের। অফিসে যাওয়া, আড্ডা কিংবা প্রতিদিনের চলাফেরা সব জায়গাতেই চাই এমন পোশাক, যেটা যেমন ব্যবহারিক, তেমনি ফ্যাশনাবল।
এই শীতের ফ্যাশন ধারায় আছে ঠিক তেমনই এক ধরনের জিন্স স্টাইল। যদিও একেবারে নতুন নয়, তবে আলোচনায় এসেছে নতুন করে।
গোড়ালির কাছে বড় ভাঁজ দেওয়া বা গুটানো জিন্স। এটিই হল এখনের ফ্যাশন ট্রেন্ড।
নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার সালের শুরুর সময়ের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা এই জিন্স এখন আধুনিক রূপে আবার ফ্যাশনের মূল স্রোতে জায়গা পেয়েছে।
শীতের পোশাকে জিন্স সব সময়েই নির্ভরযোগ্য অনুষঙ্গ। তবে পরিচিত এই জিন্সই নতুনভাবে ফিরে এসেছে গোড়ালিতে মোটা ভাঁজ নিয়ে। যা একদিকে পুরানো দিনের ফ্যাশন, অন্যদিকে আধুনিক ট্রেন্ডও।
ভাঁজ দেওয়া জিন্স যে কারণে আলোচনায়
ভাঁজ দেওয়া জিন্স বলতে মূলত চওড়া বা সোজা কাটের জিন্সের পায়ের নিচের অংশে ইচ্ছাকৃতভাবে বড় করে ভাঁজ বা গুটিয়ে রাখা বোঝায়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল নিউকার্ক রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “দু’ভাবে এই জিন্সের ডিজাইন হয়। এক ধরনের জিন্সে আগে থেকেই স্থায়ী ভাঁজ দিয়ে ডিজাইন থাকে অর্থাৎ তৈরি করার সময় থেকেই, আর দ্বিতীয়টি হল সোজা সিন্সে পছন্দ মতো গুটিয়ে এই ধারা তৈরি।”
জিন্স এমন এক পোশাক, যা কখনই ফ্যাশনের বাইরে যায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কাট, দৈর্ঘ্য বা উপস্থাপনায় পরিবর্তন আসে মাত্র। ভাঁজ দেওয়া জিন্স সেই পরিবর্তনেরই নতুন উদাহরণ।
লম্বা দেখানোর এক সহজ কৌশল
অনেকেই ভাবেন, চওড়া জিন্স পরলে উচ্চতা কম দেখায়। তবে সঠিকভাবে নিচের দিকে ভাঁজ দেওয়া জিন্স পায়ের গঠনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
বিশেষ করে গোড়ালির একটু অংশ দৃশ্যমান থাকলে শরীর তুলনামূলক লম্বা দেখায়।
নস্টালজিয়া আর আধুনিকতার মিশেল
এই ভাঁজ দেওয়া জিন্সের মূল অনুপ্রেরণা এসেছে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার সালের শুরুর সময়ের পোশাকধারা থেকে।
তবে এটি শুধু পুরানো নকশার পুনরাবৃত্তি নয়। শীতের সব ফ্যাশন প্রদর্শনীতেও এই জিন্স নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন নকশাকাররা। যার মাধ্যমে এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি ধারা হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
আর জিন্স যেহেতু শুধু শীতেই নয়, সামনের মৌসুমগুলোতেও জনপ্রিয় থাকে তাই একবার সংগ্রহে রাখলে বারবার ব্যবহার করা যাবে। এটাই এর বড় সুবিধা।

শীতে যেভাবে মানিয়ে নেওয়া যাবে ভাঁজ দেওয়া জিন্স
শীতের পোশাক নির্বাচনে আরামের পাশাপাশি উষ্ণতার দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
নিচের দিকে ভাঁজ দেওয়া বা গুটিয়ে নেওয়া জিন্সের সঙ্গে মাঝারি উচ্চতার বুট বা গোড়ালি বন্ধ স্নিক্যার্স পরলে শীতের ঠাণ্ডা থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে গোড়ালির ভাঁজটিও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে।
জিন্সের সঙ্গে হালকা সোয়েটার, কার্ডিগান বা পূর্ণহাতা টপ অনায়াসেই মানিয়ে যায়। এতে পোশাক ভারীও লাগে না, আবার স্টাইলেও ঘাটতি পড়ে না।
কাপড়ের গঠনে বৈচিত্র্য
ভাঁজই যে একমাত্র আকর্ষণ হবে, এমন নয়।
নিউকার্ক মনে করেন- জিন্সের কাপড়ে ভিন্নতা আনলে পোশাকটি হয়ে উঠতে পারে নজরকাড়া।
হালকা খসখসে ভাব, সূক্ষ্ম নকশা বা আলাদা রংয়ের ব্যবহার জিন্সকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। এতে সাধারণ টপস পরলেও পুরো সাজটি আলাদা করে চোখে পড়ে।
ওপরের পোশাকে ভারসাম্য
যেহেতু ভাঁজ দেওয়া জিন্স সাধারণত চওড়া হয়, তাই এর সঙ্গে আঁটসাঁট বা গঠনমূলক কাটের টপ পরাই ভালো। এতে শরীরের ওপর ও নিচের অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য তৈরি হয়।
ঢিলেঢালা জিন্সের সঙ্গে ঢিলেঢালা টপ পরলে পুরো সাজ এলোমেলো দেখাতে পারে।

এক রংয়ে নয়, জিন্সে জিন্সে সাজ
ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত জিন্সের ব্যবহার অনেকের কাছেই সাহসী মনে হতে পারে। তবে সঠিক রংয়ের সমন্বয় করলে এটি হয় আধুনিক ও প্রতিদিনের উপযোগী।
হালকা রংয়ের ওপরের পোশাকের সঙ্গে গাঢ় রংয়ের ভাঁজ দেওয়া বা গোড়ালি গুটানো জিন্স— এই সমন্বয় অফিস বা অবসর সময় দুই ক্ষেত্রেই মানানসই।
আরও পড়ুন