০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুর্গাপূজায় কেনাকাটায় প্রস্তুতি

নতুন পোশাকের আনন্দ যেমন আছে তেমনি বাজারে গিয়ে সুস্থ থাকার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 01:12 PM

Updated : 08 Oct 2026, 01:12 PM

নতুন পোশাক, গয়না, জুতা, সাজসজ্জার সামগ্রী ও উপহার কেনাকাটার ব্যস্ততা চলছে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে। পছন্দের পণ্য পাওয়া, ভিড় এড়িয়ে কেনাকাটা এবং বাজেটের মধ্যে সবকিছু শেষ করার জন্যই আগে থেকে পরিকল্পনা দরকার।

হুট করে বাজারে গিয়ে একের পর এক জিনিস কিনতে শুরু করলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচও হয়ে যেতে পারে।

আবার শেষ মুহূর্তে গেলে পছন্দের পোশাক বা মাপ নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই পূজার কেনাকাটার প্রস্তুতিও হওয়া দরকার গোছানো।

আগে ঠিক করে পরে টাকা খরচ

কেনাকাটার শুরুতেই মোট বাজেট ঠিক করে নেওয়া জরুরি। পূজার জন্য কত টাকা রাখা হয়েছে আর পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী, ব্যাগ এবং উপহার কেনাকাটায় কত খরচ হবে আগেই হিসাব করে রাখা ভালো।

এই বিষয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ রাখার পাশাপাশি পরিবারের অন্যদের জন্যও আলাদা হিসাব করা যেতে পারে। আর উপহারের জন্যও আলাদা অর্থ বরাদ্দে পূজা কেনাকাটায় মিলিবে কিছুটা স্বস্তি।”

“সব টাকা একদিনে খরচ না করে কয়েক ধাপে কেনাকাটা করলেও চাপ কমে”, পরামর্শ দেন তিনি।

প্রথমে প্রয়োজনীয় পোশাক ও জুতা কিনে পরে গয়না, সাজসজ্জার জিনিস বা ছোটখাটো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যেতে পারে। এতে হঠাৎ কোনও পছন্দের জিনিস চোখে পড়লে সেটি কেনার জন্যও কিছু অর্থ হাতে থাকবে।

কেনাকাটার তালিকা

বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা করা জরুরি। কার জন্য কী কেনা হবে, কতগুলো পোশাক প্রয়োজন, কোন পোশাকের সঙ্গে কোন জুতা বা গয়না মানাবে এসব ভেবে লিখে রাখা পূজার কেনাকাটা সহজ করবে।

তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “নিজের জন্য শাড়ি বা পোশাক কেনার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পোশাক, শিশুদের জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ, গয়না বা পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী থাকলে সেগুলোও তালিকায় রাখা প্রয়োজন। আর তালিকা করার সময় প্রয়োজন এবং পছন্দের বিষয় আলাদা করে ভাবতে হবে।”

আগে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা, পরে অতিরিক্ত কেনাকাটার দিকে যাওয়া এটিই হতে পারে পূজার কেনাকাটার সঠিক পদ্ধতি।

“এতে দোকানে গিয়ে হঠাৎ অনেক কিছু ভালো লাগলেও অপ্রয়োজনীয় খরচের সম্ভাবনা কমবে”, যোগ করেন এই অধ্যাপক।

শরীরকেও প্রস্তুত করা

পূজার কেনাকাটা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে। এক বাজার থেকে আরেক বাজারে যাওয়া, দোকানে দাঁড়িয়ে পোশাক দেখা, মাপ নেওয়া বা দীর্ঘ সময় হাঁটার কারণে শরীরে ক্লান্তি আসতে পারে।

“তাই কেনাকাটার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো ভালো। খালি পেটে বাজারে না যাওয়ার কথা মাথায় রাখতে হবে। সঙ্গে পানির বোতল রাখা, প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন ও ফলের রস রাখা যেতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে হালকা খাবারও সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক”, পরামর্শ দেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান।

আবার আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরে বের হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একদিনে অনেক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে উঁচু জুতা বা দীর্ঘ সময় হাঁটতে অসুবিধা হয় এমন জুতা এড়িয়ে চলতে হবে।

আর প্রয়োজনে মাঝখানে কিছুক্ষণ বসেও বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

সপ্তাহের কোন দিন বাজারে যাবেন?

“ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে সাধারণত বাজারে ভিড় বেশি থাকে। তাই স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে চাইলে কর্মদিবস বেছে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুরের আগের সময় তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হতে পারে”, বলেন তাসমিয়া জান্নাত।

তবে কোন বাজারে কখন ভিড় বেশি হয়, সেটিও আগে জেনে নেওয়া ভালো।

আর ছুটির দিনেই কেনাকাটা করতে হলে সকালেই বের হওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ দুপুরের পর থেকে বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে চাপ বাড়তে পারে। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ভিড় আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একদিনে সব কেনাকাটা নয়

পূজার সব কেনাকাটা একদিনে শেষ করার চেষ্টা করলে ক্লান্তি যেমন বাড়বে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

“পোশাকের জন্য একদিন, জুতা ও ব্যাগের জন্য আরেকদিন এবং গয়না বা উপহারের জন্য আলাদা সময় রাখা যায়। এতে প্রতিটি জিনিস দেখে কেনার সুযোগ পাওয়া যায়”, পরামর্শ দেন তাসমিয়া জান্নাত।

তিনি আরও বলেন, “যদি সময় কম থাকে, তাহলে আগে থেকেই কোন এলাকায় কী কিনতে হবে, তা ঠিক করে নেওয়া যায়। একই এলাকায় থাকা কয়েকটি দোকান বা বিপণিবিতান একসঙ্গে ঘুরে দেখা গেলে সময় ও যাতায়াতের খরচ দুটোই কমানো সম্ভব।”

পরিবারের সঙ্গে গেলে দায়িত্ব ভাগ

পরিবারের সবাই মিলে কেনাকাটা করতে গেলে আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হবে কে কোন জিনিস দেখবেন। শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের জন্য মাঝেমধ্যে বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা দরকার।

“বয়স্ক কেউ সঙ্গে থাকলে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটির পরিবর্তে বসার সুযোগ আছে এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো”, বলেন ডা. কামরুল।

“বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটায় গেলে একে অন্যের মতামত নেওয়া যায়। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের পছন্দ ও প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আবার অন্যের পছন্দ দেখে প্রয়োজনের বাইরেও কিছু কেনা হবে ভুল সিদ্ধান্ত”, মন্তব্য করেন তাসমিয়া জান্নাত।

পুরানো খবর:

বাজার করার সেরা সময়
গবেষণা বলছে- কেনাকাটায় পুরুষরা মোটেই ভালো নয়
যে মানসিক অবস্থার কারণে বেশি কেনাকাটা করা হয়
বাজার করতে গিয়ে বেশি পণ্য কেনা হয় যে কারণে