বিপদ এড়াতে সাবধান: ভুলেও ঘরের ভেতর রাখা যাবে না যেসব জিনিস
প্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। তবে কিছু জিনিস ঘরে রাখা মোটেই নিরাপদ না।
দৈনন্দিন জীবনের নানান প্রয়োজনে ঘরের ভেতর হরেক রকম জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এসব জিনিস খুব সাধারণ বা নিরীহ মনে হলেও, কিছু উপাদান যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পরিচ্ছন্নতা, ঘর গোছানো ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা, ঘরের ভেতর সংরক্ষণ করা উচিত নয় এমন ৮টি জরুরি জিনিসের তালিকা এবং সুরক্ষার উপায় জানিয়েছেন।
প্রোপেন গ্যাস সিলিন্ডার (এলপিজি বা বার্বিকিউ ট্যাংক)
রান্নার সুবিধার জন্য অনেকেই ঘরের ভেতর বা গ্যারেজে বাড়তি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নিট অ্যান্ড রিপিট ক্লিনিং’-এর প্রধান নির্বাহী রচেল ডাফি বলেন, “বদ্ধ জায়গায় প্রোপেন বা এলপিজি সিলিন্ডার রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনও কারণে সিলিন্ডার লিক হলে, কাত হয়ে পড়ে গেলে বা ঘরের ভেতরের অতিরিক্ত উত্তাপের সংস্পর্শে এলে এটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।”
সমাধান: সিলিন্ডার সবসময় ঘরের বাইরে, সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে কোনও ছায়াযুক্ত এবং বাতাস চলাচল করে এমন নিরাপদ স্থানে সোজা করে দাঁড় করিয়ে রাখা উচিত।
অতিরিক্ত পেট্রোল বা অকটেন
জেনারেটর বা যে কোনও কাজের জন্য অনেকেই প্লাস্টিকের বোতল বা জারে করে তেল এনে ঘরে রেখে দেন।
রচেল ডাফির মতে, “সাধারণ কন্টেইনার থেকে গ্যাস বা উদ্বায়ী বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা গ্যারেজের সামান্য বৈদ্যুতিক স্পার্ক বা উত্তাপ থেকে নিমেষেই আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।”
সমাধান: যদি রাখতেই হয়, তবে মূল ঘর থেকে দূরে খোলা কোনও শেইড বা চালাঘরে, ‘লিক-প্রুফ’ ও নির্দিষ্ট লেবেলযুক্ত অনুমোদিত পাত্রে রাখা উচিত।
পুরানো পেইন্ট বা রং, স্প্রে এবং কেমিক্যাল
ঘর রং করার পর বেঁচে যাওয়া রংয়ের কৌটা বা স্প্রে পেইন্টের ক্যান বছরের পর বছর হয়ত গ্যারেজে পড়ে থাকে। দীর্ঘদিন জমে থাকার ফলে এগুলো মরিচা ধরে লিক হতে পারে এবং বাথরুম বা ঘরের বাতাসে বিষাক্ত গন্ধ ও রাসায়নিক গ্যাস ছড়াতে পারে।
সমাধান: তাই অপ্রয়োজনীয় রং জমিয়ে না রেখে দ্রুত ফেলার ব্যবস্থা করা উচিত।
দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য কাগজের কার্টন (কার্ডবোর্ড বক্স)
কেনাকাটার পর অনেকেই কাগজের শক্ত কার্টনগুলো ঘরের সিলিংয়ে বা গ্যারেজে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করেন।
তবে রচেল ডাফি বলেন, “দীর্ঘদিন জিনিস রাখার জন্য এগুলো মোটেও উপযুক্ত নয়। কাগজের বাক্স খুব দ্রুত বাতাস থেকে আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে গন্ধ শোষণ করে- যা তেলাপোকা, উইপোকা এবং ছারপোকাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে।”
সমাধান: জরুরি কাগজপত্র বা কাপড় সুরক্ষিত রাখতে কাগজের বাক্সের বদলে ঢাকনাযুক্ত সস্তা প্লাস্টিকের বক্স ব্যবহার করা নিরাপদ।
খোলা প্যাকেটে পোষা প্রাণীর খাবার বা শুকনা বাজার
বিড়াল-কুকুরের খাবার বা পোষা প্রাণীর খাবার, চাল, ডাল কিংবা ময়দা কিনে আনার পর মূল প্যাকেটের মুখ খোলা অবস্থায় রেখে দিলে ঘরে পিঁপড়া, তেলাপোকা এবং আনাজপাতির পোকাকে আমন্ত্রণ জানায়।
সমাধান: এই ধরনের শুকনা খাবার প্যাকেট থেকে বের করে সবসময় বাতাস নিরোধক বা এয়ারটাইট কন্টেইনারে ঢেলে সংরক্ষণ করা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ বা অতি গোপনীয় মূল নথিপত্র
যুক্তরাষ্ট্রের গৃহ-ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সেভিল ক্লাসিকস’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পেশাদার ‘অর্গানাইজার’ জেনিফার ইয়াং বলেন, “বর্তমান যুগে বেশিরভাগ কাগজ অনলাইনেই পাওয়া যায়। তবে জরুরি কিছু মূল দলিল বা কাজের ফাইল আমরা ঘরে রাখি। অনেক সময় অসাবধানতাবশত ঘরের অন্য কেউ বা বাচ্চারা সেগুলোকে সাধারণ কাগজ মনে করে ফেলে দিতে বা নষ্ট করতে পারে।”
সমাধান: তাই গুরুত্বপূর্ণ সব ডকুমেন্ট সবসময় ‘লক’ বা তালা দিয়ে আটকানো মজবুত কেবিনেট বা সেফ বক্সে রাখা উচিত।
সাধারণ বাটন ব্যাটারি (ছোট গোল ব্যাটারি)
ঘড়ি বা খেলনায় ব্যবহৃত ছোট গোল বাটন ব্যাটারি ঘরের যেকোনো ড্রয়ারে খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য ড্যাজল ক্লিনিং কোম্পানি’-র প্রতিষ্ঠাতা লোগান টেইলর সতর্ক করে বলেন, “এই ছোট চকচকে ব্যাটারিগুলো শিশু ও পোষা প্রাণীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অসাবধানতাবশত এটি গিলে ফেললে জীবন সংশয়ের কারণ হতে পারে।”
সমাধান: অতিরিক্ত ব্যাটারি কিনলে রাখলে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।
লেবেল বা নামহীন ক্লিনার ও রাসায়নিক তরল
অনেক সময় বড় জার থেকে ফেইসওয়াশ, হ্যান্ডওয়াশ বা বাথরুম ক্লিনার ছোট কোনও স্প্রে বোতলে ঢালার পর, সেটার গায়ে নাম লিখতে ভুলে যাই।
লোগান টেইলরের মতে, “নামহীন কেমিক্যালের বোতল ঘরে রাখা বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। কোনও শিশু যদি ভুলে এটি মুখে দেয় বা চোখে স্প্রে করে, তবে বোতলের গায়ে নাম বা লেবেল না থাকলে চিকিৎসকদের পক্ষেও তাৎক্ষণিক সঠিক প্রতিষেধক বা চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
সমাধান: তাই নাম না জানা যেকোনো তরল ঘরে না রেখে দ্রুত ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
