জানালার পাশে ভুলেও রাখবেন না যে ৭টি জিনিস, ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা
জানালার পাশে উচ্চ তাপমাত্রা ও রোদের কারণে শুধু আসবাবপত্রই নষ্ট হয় না, কিছু জিনিস অগ্নিকাণ্ডের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
প্রাকৃতিক আলো-বাতাসে ঘেরা ঘর মন ও স্বাস্থ্য দুই-ই ভালো রাখে। তবে ঘরের যে অংশ দিয়ে বেশি রোদ আসে, অর্থাৎ জানালার চারপাশ— সেখানে জিনিসপত্র রাখার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
জানালার পাশে কিছু জিনিস রাখা যেমন ঘরের আসবাবপত্র বা শখের জিনিসপত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে।
জীবনযাপন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন ৭টি জিনিসের কথা উল্লেখ করা হয়, যেগুলো জানালার পাশে বা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন স্থানে রাখা একদমই উচিত নয়।
মালামাল সংরক্ষণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘প্রাইস সেলফ স্টোরেজ’-এর বিপণন ও বিক্রয় পরিচালক রায়ান মেজার্স বলেন, “দীর্ঘদিন জানালার পাশে রোদ ও গরমে থাকলে অনেক শখের জিনিস বিবর্ণ হয়ে যায়, এমনকি সেগুলোর আকারও নষ্ট হতে পারে। এছাড়া জানালা দিয়ে আসা আর্দ্রতা বা বৃষ্টির পানির সূক্ষ্ম কণা জমা হয়ে জিনিসপত্র দ্রুত নষ্ট করে ফেলে।”
টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক পেশাদার পরিচ্ছন্নতা ও ঘর গোছানো প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কলি মেইড অস্টিন’-এর বিশেষজ্ঞ সোফিয়া মার্টিনেজ এবং রায়ান মেজার্স জানালার পাশে কোন জিনিসগুলো রাখা বিপজ্জনক, তার একটি তালিকা দিয়েছেন।
বইপত্র
সোফিয়া মার্টিনেজের মতে, “সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বইয়ের প্রচ্ছদ ও মলাটের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি রোদ খুব কড়া না হলেও জানালার পাশের আলো বইয়ের ক্ষতি করতে পারে।”
এছাড়া জানালার পাশে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে বইয়ের বাঁধাই দুর্বল হয়ে যায়, প্রচ্ছদ বেঁকে যায় এবং পাতাগুলো দ্রুত হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
তাই বুকশেলফ বা বইয়ের তাক সর্বদা ঘরের ভেতরের দিকের দেওয়ালে রাখা উচিত, যাতে বইয়ের পেছনে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।
আলোকচিত্র বা বাঁধাই করা ছবি
রায়ান মেজার্স জানান, ছবি প্রিন্ট করার সময় যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলো সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তিনি বলেন, “জানালার পাশে রাখলে রোদ ও তাপমাত্রার তারতম্যে ছবিগুলো বিবর্ণ ও বিকৃত হয়ে যেতে পারে।”
সোফিয়া মার্টিনেজ পরামর্শ দেন, “ঘরের দেওয়ালে ছবি টাঙাতে অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধক কাচ বা ফ্রেম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিরাপদ উপায় হল, মূল বা ‘অরিজিনাল’ ছবিগুলো সুরক্ষিত রেখে সেগুলোর প্রতিরূপ বা ফটোকপি বাঁধাই করে প্রদর্শন করা।”
ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও ব্যাটারি
ব্যাটারি অতিরিক্ত তাপ একেবারেই সহ্য করতে পারে না।
রায়ান মেজার্স সতর্ক করে বলেন, “জানালার পাশে থাকা উচ্চ তাপমাত্রা ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয় এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে, ফুলে যাওয়া বা ‘লিক’ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত তাপে এগুলো বিস্ফোরিত হয়ে ঘরে আগুনও লেগে যেতে পারে।”
তাই ল্যাপটপ, ফোন বা রিচার্জেবল ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং ব্যাটারি সবসময় ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে রাখা উচিত।
সোফিয়া মার্টিনেজ বলেন, “ইলেকট্রনিক্সের স্ক্রিন, সার্কিট বোর্ড এবং ভেতরের আঠা সুরক্ষিত রাখতে এগুলোকে অবশ্যই ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা উচিত।”
অ্যারোসল স্প্রে ও ক্যান
বডি স্প্রে, এয়ার ফ্রেশনার বা যেকোনো ধরনের অ্যারোসল ক্যান জানালার পাশে রাখা সবচেয়ে বিপজ্জনক।
সোফিয়া মার্টিনেজ জানান, এই ক্যানগুলোর ভেতর প্রচণ্ড চাপ থাকে এবং এতে এমন কিছু রাসায়নিক ও প্রোপেল্যান্ট ব্যবহার করা হয়, যা তাপের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হতে পারে।”
অ্যারোসলের গায়েও সাধারণত রোদ ও তাপ থেকে দূরে রাখার সতর্কবার্তা লেখা থাকে। তাই রান্নাঘর বা বাথরুমের জানালার পাশে বা চুলার কাছাকাছি এগুলো ভুলেও রাখা যাবে না।
মোম বা মোমজাতীয় জিনিস
গরমের দিনে জানালার পাশে সরাসরি রোদ পড়লে মোমবাতি, সুগন্ধি মোম বা শিশুদের আঁকার মোম রং গলে যেতে পারে বা এগুলোর রং চটে গিয়ে আকার নষ্ট হয়ে যায়।
তাই মোমজাতীয় যেকোনো জিনিস জানালার রোদ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।
ইনডোর প্ল্যান্টস বা ঘরের ভেতরের গাছ
গাছের জন্য সূর্যের আলো প্রয়োজন হলেও, শীতকালে বা বাইরের তাপমাত্রা যখন অনেক কমে যায়, তখনও জানালার পাশে গাছ রাখা ঠিক নয়।
রায়ান মেজার্স বলেন, “অনেক গাছপ্রেমী মনে করেন জানালার সামনের অংশ গাছের জন্য সেরা জায়গা। তবে শীতের দিনে জানালা ঘরের অন্যতম শীতলতম স্থান হয়ে ওঠে, যা ঘরের ভেতরের সংবেদনশীল ছোট গাছগুলোর সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে এবং গাছটি মরে যেতে পারে।”
