ত্বক পরিচর্যার প্রসাধনী যে পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত

প্রসাধনী ব্যবহার করতে হয় পরিমাণ মতো। নইলে ত্বকে সমস্যাও হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Jan 2023, 07:24 AM
Updated : 22 Jan 2023, 07:24 AM

পরিমাণ ছাড়াও একেক প্রসাধনী একেক সময় ত্বকে প্রয়োগ করতে হয়।

না হলে প্রসাধনী ব্যবহারের পরও সঠিক ফলাফল মিলবে না।

আর বাজারে ভিটামিন সি থেকে শুরু করে রেটিনল সমৃদ্ধ নানান ত্বক পরিচর্যার উপাদান পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহারের নিয়ম জানলে বেশি কিনে ফেলার সম্ভাবনাও কমে।

ভিটামিন সি

শক্তিশালী এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সকলের ত্বক পরিচর্যার আবশ্যক উপাদান হওয়া উচিত।

রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কানাডার টরন্টো নিবাসী ভারতীয় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ গীতা যাদব বলেন, “পারিপার্শিক কারণে ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রসাধনী। পাশাপাশি সূর্যালোকের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে বাঁচায়।”

‘পিগমেন্টইশন’, কালচে ছোপ দূর করতে এই উপাদান কার্যকর। আর ত্বকে আনে তরুণ্যের ‍উজ্জ্বলতা।

  • ব্যবহারের সময়: সকাল বেলা।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: সেরাম হলে ছয় ফোঁটা। ক্রিমের মতো প্রসাধনীর ক্ষেত্রে এক আধুলি পরিমাণ।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ক্লেঞ্জিং/ টোনিংয়ের পরে, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহারের আগে।

  • আদর্শ মাত্রা: প্রতিদিন।

রেটিনল

এই উপাদান সমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহার সানস্ক্রিনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. যাদব বলেন, “এটাই একমাত্র উপাদান যা চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী প্রমাণিত যে, সকল ধরনের বয়স্কভাব কমাতে সাহায্য করে।”

পাশাপাশি ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

  • ব্যবহারের সময়: সন্ধ্যার সময়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: মটরদানার সমান।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ও পরে। মানে এক স্তর ময়েশ্চারাইচার মাখার পর রেটিনল ব্যবহার করে এর ওপর আবার ময়েশ্চারাইজার মাখতে হবে। তাহলে ময়েশ্চারাইজার রেটিনল থেকে অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমাবে।

  • আদর্শ মাত্রা: সপ্তাহে দুবার ব্যবহার শুরু করে ত্বকে সয়ে গেলে প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে।

আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (এএইচএ্’এস)

বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। সাধারণত ফল, আঁখ ও দুধ থেকে উৎপাদন করা হয়। এক্সফোলিয়েশন, উজ্জ্বলতা ও ‘হাইপারপিগমেন্টেইশন’ কমাতে কাজে লাগে বলে জানান ডা. যাদব।

  • ব্যবহারের সময়: ত্বকের ক্ষতি সারাতে বেশি মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে সন্ধ্যায়। কোনো ক্লেঞ্জার ও টোনারে অল্প মাত্রায় থাকে। সেগুলো সকাল সন্ধ্যা দুই বেলাই ব্যবহার করা যায়।  

  • ব্যবহারের পরিমাণ: এক আধুলি পরিমাণ।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ক্লেঞ্জিং/ টোনিংয়ের পরে, ময়েশ্চারাইজার দেওয়ার আগে।

  • আদর্শ মাত্রা: সপ্তাহে দুয়েকবার। এক সন্ধ্যায় রেটিনল অন্য সন্ধ্যায় এএইচএ’স সমৃদ্ধ প্রসাধনী- এভাবে ব্যবহার করা উপকারী।

স্যালিসাইলিক অ্যাসিড (বিএইচএ)

এক্সফলিয়েশনের কারণে হওয়া ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। এটা ‘বেটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (বিএইচএ)।

  • ব্যবহারের সময়: সকাল ও সন্ধ্যার ত্বক পরিচর্যার রুটিনে ব্যবহার করা যায়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: মটরদানার সমপরিমাণ। অথবা ব্রণের ওপর ব্যবহার করতে যতটুকু লাগে।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ত্বক পরিষ্কারের পর দৈনিক ব্যবহার করা যায়। তবে ত্বকে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

  • আদর্শ মাত্রা: যেহেতু ‘অ্যাক্টিভ’ উপাদান। তাই প্রতিদিনের ব্যবহারে ভালো ফলাফল মিলবে।

বেঞ্জয়েল পারোক্সাইড

প্রদাহরোধী এই উপাদান হালকা ও সাধারণ ব্রণ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ত্বকের লালচেভাব ও প্রদাহ কমায়, জানান ডা. যাদব।

  • ব্যবহারের সময়: সন্ধ্যার সময়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: মটরদানার সমপরিমাণ। অথবা ব্রণের ওপর যতটুকু লাগে।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ত্বক পরিষ্কারের পর ব্যবহার করে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর মাখতে হবে ময়েশ্চারাইজার। শুকাতে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট লাগতে পারে।

  • আদর্শ মাত্রা: সপ্তাহে এক থেকে তিনবার ব্যবহার করে অভ্যস্ত হলে, তিন-চারদিনও ব্যবহার করা যায়।

নিয়াসিনামাইড

ভিটামিন বিথ্রি হিসেবেও পরিচিত, নিয়াসিনামাইড ‘হাইপারপিগমেন্টেইশন’ ও ত্বকের রংয়ের ভারসাম্যহীনতা কমাতে পারে। এছাড়া লোমকূপের আকার কমাতে, বলিরেখা দূর করতে ও প্রদাহ কমাতে পারে।

  • ব্যবহারের সময়: সকালে অথবা সন্ধ্যায়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: সেরাম হলে চার থেকে ছয় ফোঁটা। ক্রিম হলে এক আধুলি পরিমাণ।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ক্লেঞ্জিং/ টোনিংয়ের পরে, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন মাখার আগে।

  • আদর্শ মাত্রা: প্রতিদিন।

হায়ালুরনিক অ্যাসিড

ঘন, জেলে মতো এই উপাদান ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

  • ব্যবহারের সময়: সকাল ও সন্ধ্যায়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: সেরাম হলে চার থেকে ছয় ফোঁটা। ক্রিম হলে এক আধুলি পরিমাণ।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: সেরাম হলে মুখ ভালোমতো পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার মাখার আগে ব্যবহার করতে হবে। আর ময়েশ্চারাইজারে এই উপাদান থাকলে, রেটিনল বা এরকম অ্যাক্টিভ উপাদান ব্যবহারের পর মাখতে হবে।

  • আদর্শ মাত্রা: প্রতিদিন। তবে ডা. যাদব পরামর্শ দেন, খেয়াল রাখতে হবে এই উপাদান সমৃদ্ধ প্রসাধনী কতগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। দুয়েকটাতেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

সেরামাইডস

এই লিপিড ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। ফলে ত্বকের শুষ্কতা, লালচেভাব, ব্রণ ও প্রদাহ কমায়। এছাড়া একজিমা, ডার্মাটাইটিস কমাতেও সাহায্য করে বলে জানান, ডা. যাদব।

  • ব্যবহারের সময়: সকাল ও সন্ধ্যা।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: এক আধুলির সমান।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ক্রিম ও মলম আকারে পাওয়া যায়। যা ক্লেঞ্জার, টোনার ও সেরামের পাশাপাশি ব্যবহার করা যায়।

  • আদর্শ মাত্রা: প্রতিদিন

নন-অ্যাক্টিভ ময়েশ্চারাইজার

ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি বাড়তি আর্দ্রতা দিতেও সাহায্য করে ময়েশ্চারাইজার। ফলে ত্বক হয় মশ্রিণ। তবে বেশি মাখলে উল্টো ফলও হতে পারে।

  • ব্যবহারের সময়: সকালে ও সন্ধ্যায়।

  • ব্যবহারের পরিমাণ: এক আধুলি পরিমাণ।

  • নিয়মিত ব্যবহার করতে চাইলে: ক্লেঞ্জার, টোনার ও সেরাম ব্যবহারের পর, সানস্ক্রিনের আগে।

  • আদর্শ মাত্রা: প্রতিদিন।

আরও পড়ুন

Also Read: যে কারণে প্রসাধনীর কার্যকারিতা হারায়

Also Read: প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকের সমস্যায় যা করা উচিত

Also Read: প্রসাধনী যখন ব্রণের কারণ

Also Read: প্রসাধনীর ‘অ্যাক্টিভ’ উপাদান সম্পর্কে ধারণা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক