Published : 15 Oct 2025, 04:56 PM
ঘরের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা হল শোবার ঘর। দিনশেষে এই ঘরেই বিশ্রাম নেওয়া, নিজেকে শান্ত করা হয়।
আবার অনেক সময় বই পড়া বা নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর জায়গাও এটি।
অথচ ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই বসার ঘর বা রান্নাঘরকে গুরুত্ব দিই। তবে শোবার ঘরকে প্রায় সময় তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোবার ঘরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামের স্থান। আর এর সঠিক নকশা ও সাজসজ্জা মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে।
নিজের শোবার ঘরকে অগ্রাধিকার দেওয়া
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “অনেক সময় মানুষ তাদের নতুন বাড়িতে চলে এসে বসার ঘর ও রান্নাঘর সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে শোবার ঘর ফাঁকা বা একঘেয়ে থেকে যায়। অথচ দিনের অনেকটা সময় এ ঘরে ঘুমিয়েও কাটাই। তাই এই জায়গাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি মনে করেন, শোবার ঘর শুধু ঘুমানোর জায়গা নয়, এটি একটি ব্যক্তিগত আশ্রয়স্থল। তাই এমনভাবে সাজানো উচিত, যেন ঘরে প্রবেশ করলেই মন শান্ত হয়।
বিছানাই ঘরের কেন্দ্রবিন্দু
গুলশান নাসরিন বলেন, “শোবার ঘরের বিছানা-ই প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। কোন দেয়ালে বিছানা রাখলে ঘরটি ভারসাম্যপূর্ণ দেখাবে, সেটিই আগে ঠিক করতে হবে। তারপর বাকি আসবাব সাজানো।”
আগে মনে করা হত- জানালার সামনে বিছানা রাখা ঠিক নয়। তবে এখন সে ধারণা বদলেছে। যদি জানালার সামনে বিছানা রাখতে হয়, তাহলে ছাদ থেকে মেঝে পর্যন্ত পর্দা টানা যেতে পারে।
এতে জানালাগুলো বড় মনে হওয়ার পাশাপাশি বিছানার পেছনে একটি নরম ও পরিপাটি স্থান তৈরি হবে।
একঘেয়ে আসবাব নয়, বরং মিশিয়ে সাজানো
আগে শোবার ঘরের সেট মানে ছিল বিছানা, আলমারি, ড্রয়ার, টেবিল সবকিছু একই ডিজাইনের। তবে এখন সেটি পুরানো ধারা।
একই ধরনের আসবাবের পরিবর্তে বিভিন্ন উৎস থেকে আলাদা আলাদা জিনিস বেছে নিতে হবে। যাতে সামগ্রিকভাবে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “দুপাশে একই ধরনের টেবিল রাখারও প্রয়োজন নেই। রং বা আকারে সামান্য মিল থাকলেই ঘর ভারসাম্যপূর্ণ দেখাবে।”
বিভিন্ন উপকরণের মিশ্রণে ঘর ব্যক্তিত্ব পায়। একটি কাঠের ড্রয়ার বা ভিন্নধর্মী উপদানের আসবাব ঘরে স্তর ও উষ্ণতা যোগ করে।
ঘরের আয়তন অনুযায়ী আসবাবের আকার বেছে নিতে হবে। বড় ও ভারী আসবাব ছোট ঘরকে আঁটসাঁট ও অন্ধকার করে।
নিজের প্রয়োজন বুঝে সাজানো
শোবার ঘর কেবল ঘুমানোর জন্য নয় অনেকে এখানে বই পড়েন, ধ্যান করেন, কিংবা ‘সেলফ-কেয়ার’ করেন।
তাই নিজের অভ্যাস অনুযায়ী ঘর সাজাতে হবে।
যদি জায়গা থাকে, একটি কোণে চেয়ার ও ল্যাম্প রাখা যায়। সেখানে বসে বই পড়া, চা পান করা বা গান শুনলে মন শান্ত হয়।
সংরক্ষণের জন্যও বুদ্ধিদীপ্ত উপায় মেনে চলা যায়।
ঘরের অগোছালো ভাব দূর করতে এমন আসবাব ব্যবহার করতে হবে, যেখানে স্টোরেজ রয়েছে। যেমন- জানালার নিচে বেঞ্চ, ড্রয়ারযুক্ত বেড বা ড্রেসার।
একটি অগোছালো-মুক্ত ঘর মানেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশান্ত ও প্রশস্ত মনে হয়।
এছাড়া কাজের জায়গা যতটা সম্ভব শোবার ঘরে রাখা যাবে না। কাজ ও বিশ্রাম দুটি ভিন্ন বিষয়। যদি রাখতে হয়ও, পর্দা বা স্ক্রিন দিয়ে আলাদা করে ফেলতে হবে।
জানালার পর্দায় খরচ
জানালার পর্দা শুধু সাজসজ্জার অংশ নয়, এটি ঘরের আলোর ভারসাম্য ও গোপনীয়তা রক্ষা করে।
অনেকে পর্দা নিয়ে ভাবেন না। তবে এটি ঘরের পুরো আবহ বদলে দিতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ পর্দাও ঘরকে উষ্ণতা ও নরমতা দেয়।
দিনের আলো ঢোকার জন্য হালকা পর্দা আর রাতের জন্য ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করা ভালো।
এতে দিনের আলো উপভোগ করা যায়, আবার ঘুমের সময় আলো পুরোপুরি রোধ করা যায়।
আলো ঠিক রাখা
একটি মাত্র উজ্জ্বল আলো ঘরকে আরামদায়ক করে না। শোবার ঘরে নরম, উষ্ণ আলো দরকার।
তাই ‘ওভারহেড লাইট’ ছাড়াও টেবিল ল্যাম্প বা ডিমার যুক্ত ‘লাইট’ ব্যবহার করতে হবে, যাতে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উষ্ণ বাল্ব ব্যবহারের আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। চাইলে স্মার্ট বাল্বও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা নির্দিষ্ট সময়ে ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।
এমন উপকরণ রাখা যা আনন্দ দেয়
বিছানার চাদরের মাধ্যমেই ঘরে আরাম ও উষ্ণতা আনা সম্ভব। লিনেন ও তুলার মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ভালো লাগে, সহজে ব্যবহার করা যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ঘরের প্রতিটি জিনিস এমন হওয়া উচিত যা নিজেকে আনন্দ দেয়।
নিজের পছন্দের ছবি, শিল্পকর্ম বা ফ্রেম ঘরে রাখলে এটি ব্যক্তিগত ও সুখকর মনে হয়।
আরও পড়ুন
শোবার ঘরে যেসব জিনিস একেবারে না হলেই নয়