যেসব কার্বোহাইড্রেইটস ওজন কমানোতে ভূমিকা রাখে
খারাপ হিসেবে পরিচিতি থাকলেও কিছু কার্বোহাইড্রেইটস ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ভালো।
সাধারণভাবে বলা হয় সব কার্বোহাইড্রেইটস বা কার্বস খারাপ না। এমনকি কিছু কার্বস ওজন কমানোর যাত্রায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তবে অবশ্যই বাদ যাবে প্রক্রিয়াজাত কার্বস, যেমন- সাদা পাউরুটি, পেস্ট্রি, মাফিন্স, বিস্কুট ইত্যাদি।
ট্যামি লাকাটোস শেইমজ ও লিসি লাকাটোস- যমজ বোন, মার্কিন পুষ্টিবিদ- এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত ইটদিসনটদ্যাট ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
আলু
আলু খেলেই মোটা হয়ে যাবে এটা সত্যি নয়। মাঝারি আকৃতির একটি আলুতে সাধারণত ১১০ ক্যালোরি থাকে। এতে নেই কোনো চর্বি। আর খোসাসহ খাওয়া হলে মিলবে পাঁচ গ্রাম আঁশ।
যদি বেশি খাওয়া হয় তাহলে বাজে প্রভাব পড়বে। আর ডুবো তেলে তৈরি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিপস খাওয়া খারাপ।
বেইক করে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর বেইক করে ঠাণ্ডা হলে খাওয়া বেশি উপকারী; কারণ এতে তখন ওজন কামানো বান্ধব স্টার্চ প্রতিরোধী উপাদান কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ভুট্টা
সাধারণভাবে ভুট্টার দানা ওজন কমানোর যাত্রায় দারুণ ভূমিকা রাখে। কারণ এতে যেমন রয়েছে আঁশ, তেমনি ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার কারণে তাড়াতাড়ি পেটভরা অনুভূতি চলে আসে। ফলে খাওয়া হয় কম।
একটি আস্ত ভুট্টায় সাধারণত ১০০ ক্যালরি থাকে, সঙ্গে মিলবে তিন গ্রাম আঁশ। শুধু মনে রাখতে হবে বাটাবার বা ঘি এবং অন্যান্য সস-ভিত্তিক উপাদান দিয়ে ভুট্টা খাওয়া যাবে না। পুড়িয়ে বা সিদ্ধ করে খাওয়াই হবে উপকারী।
রুটি
সাদা রুটি খাওয়া যাবে না। অর্থাৎ খেতে হবে পূর্ণ শষ্য ভাঙিয়ে আটা থেকে তৈরি রুটি। যাকে বলে ‘ব্রাউন ব্রেড’।
এক টুকরা ব্রাউন ব্রেড থেকে সাধারণত ১১০ থেকে ১২০ ক্যালরি মিলবে। সেই সাথে দেবে পেটভরা অনুভূতি।
কলা
এই ফলে থাকা প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ খিদায় দ্রুত পরিতৃপ্তি পারে কলাতে থাকা আশঁ। আর ক্যালরির মাত্রাও কম।
কাঁচা কলায় রয়েছে স্টার্চ প্র্রতিরোধী উপাদান। যা দেহে কার্ব শোষণে প্রতিহত করতে পারে। যা কিনা ওজন কমানোর জন্য উপকারী। এছাড়া ইন্সুলিন সংবেদনশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে স্টার্চ প্রতিরোধী উপাদান।
বিট
সবজির মধ্যে অতি মাত্রায় প্রাকৃতিক চিনি সমৃদ্ধ হলেও বিট ওজন কমানোতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। নানান রকম পুষ্টি উপাদান রয়েছে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়াতেও ভূমিকা রাখে।
দুই ইঞ্চির বিটে থাকে ৩৫ ক্যালরি, ২.৫ গ্রাম আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে জলীয় উপাদান। ফলে দ্রুত পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে।
গাজর
অনেকেই শুনে থাকতে পারেন, গাজরে চিনির পরিমাণ বেশি থাকায় ওজন কমানোর অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তবে এই ধারণা সত্যি না।
গাজরে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে। আলাদা করে চিনি যুক্ত করা হয় না। আর এটা দেহের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
দুটি মাঝারি আকারের গাজর থেকে মিলবে ৪৮ ক্যালরি আর চার গ্রাম আঁশ। এছাড়াও রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান বিটা ক্যারোটিন, যা কিনা চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া জলীয় উপাদানে পূর্ণ বলে দেহ যেমন আর্দ্র রাখতে পারে তেমনি পেট ভরা অনুভূতিও দেয়। দুপুর বা রাতে ভারী খাবার খাওয়া আগে দুটো গাজর খেলে খাওয়া কম হবে।
আরও পড়ুন
