২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজায় কোন ফল, কীভাবে, কতটুকু খাবেন?

কিছু ফল আছে যা খালি পেটে খেলে গ্যাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

রোজায় কোন ফল, কীভাবে, কতটুকু খাবেন?
ছবি: রয়টার্স

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Feb 2026, 01:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:00 PM

রোজায় শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, হজমের সমস্যা ও শক্তির ঘাটতি কমাতে ফল খাওয়া জরুরি।

ইফতার ও সেহরিতে খাওয়া ফল দ্রুত শক্তি দেয়, পানি ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে এবং হজম স্বাভাবিক রাখতেও সাহায্য করে।

তবে সব ফল সবভাবে বা একই পরিমাণে খাওয়া সবার জন্য সমান উপকারী নয়।

বয়স, শারীরিক অবস্থা, পেটের সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগের অবস্থা অনুযায়ী ফল নির্বাচন ও খাওয়ার পদ্ধতি ঠিক করা জরুরি।

ইফতারের পর শরীরের যা প্রয়োজন

সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের প্রথম প্রয়োজন পানি, খনিজ ও সহজে হজম হয় এমন খাবার। ফল এই প্রয়োজন দ্রুত পূরণ করে।

“তরমুজ, বাঙ্গি, কমলা, মাল্টা, আঙুর বা পেঁপে শরীরে দ্রুত পানি ও শক্তি ফিরিয়ে আনে। কলা শক্তি দেয় এবং পেট ভরা রাখে, যা সেহারির জন্যও ভালো” - বলেন বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলো।

বয়স ও শারীরিক অবস্থাভেদে ফল নির্বাচন

শিশু ও কিশোরদের জন্য কলা, আপেল, আঙুর, পেঁপে ভালো, কারণ এগুলো শক্তি ও ভিটামিন দেয়।

বয়স্কদের জন্য নরম ও সহজে হজম হয় এমন ফল, যেমন- পেঁপে, কলা, কমলা, তরমুজ উপযোগী।

এই পুষ্টিবিদ পরামর্শ দেন, “ডায়াবেটিস রোগীদের ফল খেতে হবে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে, বিশেষ করে অতিরিক্ত মিষ্টি ফল কম খাওয়া ভালো।”

যাদের গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যা আছে, তাদের টক ফল সীমিত খাওয়া উচিত।

ফলের খোসা ছাড়ানো দরকার কি?

সব ফলের খোসা ফেলা প্রয়োজন হয় না। আপেল, নাশপাতি, আঙুরের খোসায় প্রচুর আঁশ থাকে, তাই ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ খাওয়া ভালো।

তবে আপেলের ওপরে কীটনাশক ব্যবহারের ভয়ে অনেকেই খোসা ফেলে দেন।

অন্যদিকে কলা, কমলা, মাল্টা, আনারসের খোসা অবশ্যই ফেলে দিতে হয়।

পেঁপে বা আমের খোসাও সাধারণত খাওয়া হয় না।

জুস করে খাওয়া কি ভালো?

ফল থেকে জুস বানালে আঁশের পরিমাণ কমে যায়। অথচ আঁশ হজমে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না। তাই ফল চিবিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী।

“তাই যদি জুস করতেই হয়, তবে অতিরিক্ত চিনি না মিশিয়ে এবং আঁশসহ ব্লেন্ড করা ভালো”- মত দেন এই পুষ্টিবিদ।

ফলে লবণ, চিনি, মরিচ বা সস মেশানো কি ঠিক?

অনেকে ফলের সঙ্গে লবণ, চিনি, মরিচ বা সস মিশিয়ে খান। এতে স্বাদ বাড়লেও সবসময় স্বাস্থ্যকর হয় না।

লবণ বেশি দিলে শরীরে পানি ধরে রাখে। অতিরিক্ত চিনি শরীরে ক্যালোরি বাড়ায়।

শিশুদের জন্য টক-মিষ্টি ফলে সামান্য লবণ বা বিট লবণ মেশানো যায়, তবে প্রতিদিন নয়। পেয়ারা, আনারসের সঙ্গে অল্প মরিচ-লবণ খাওয়া যায়, তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক আছে তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।

সস বা কাসুন্দি মেশানো স্বাস্থ্যসম্মত নয়, কারণ এতে অতিরিক্ত লবণ ও মসলা থাকে।

ফল কেটে কতক্ষণ রাখা যায়?

ফল কেটে অনেকক্ষণ রেখে দিলে পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং জীবাণু জন্মাতে পারে। কাটা ফল দুয়েক ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

ফ্রিজে রাখতে হলে বায়ুরোধী পাত্রে রেখে ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। আর লেবুর রস ছিটিয়ে দিলে কিছু ফলের রং পরিবর্তন কম হয়।

কাটা ফল যেভাবে সংরক্ষণ করবেন

ফল কাটার আগে হাত ও ছুরি পরিষ্কার রাখা জরুরি। কাটা ফল ঢাকনাযুক্ত কাচ বা নিরাপদ পাত্রে রেখে ফ্রিজে রাখা উচিত। ফলের ওপর প্লাস্টিক মোড়ানো থাকলে বাতাস কম ঢোকে এবং ফল কিছুটা বেশি সময় ভালো থাকে।

ইফতারের শুরুতেই ফল খাওয়া উচিত কি?

ইফতার শুরুতে খালি পেটে ভারী ভাজাপোড়া খাবার না খেয়ে পানি, চিড়া, দই খেয়ে খেজুরের পর ফল খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায় এবং হজম সহজ হয়।

“পানি বা শরবতের পর ফল খেলে পেট ধীরে ধীরে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়” বলেন আখতারুন নাহার আলো।

কোন ফলে গ্যাস হতে পারে

কিছু ফল, যেমন- কাঁচা কলা, পেয়ারা বা অতিরিক্ত আপেল কারও কারও পেটে গ্যাস তৈরি করতে পারে। আবার আনারস বা টক ফল অতিরিক্ত খেলে অ্যাসিডিটি বাড়তে পারে।

তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে ফল নির্বাচন করা উচিত।

কোন ফল পেটের জন্য ভালো

পেঁপে হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। কলা পেট ঠাণ্ডা রাখে এবং শক্তি দেয়। তরমুজ শরীর ঠাণ্ডা রাখে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করে।

কমলা ও মাল্টা ভিটামিন সি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।

কতটুকু ফল খাওয়া উচিত

ইফতারে একসঙ্গে অনেক ফল না খেয়ে দুতিন ধরনের ফল অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো।

সাধারণভাবে এক কাপ পরিমাণ ফল যথেষ্ট বলে মনে করেন এই পুষ্টি বিশেষজ্ঞ।

অন্যদিকে অতিরিক্ত ফল খেলেও পেট ভরা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।

আরও পড়ুন

রমজানে ওজন বৃদ্ধি ও বদহজম এড়ানোর উপায়

রোজার শুরুতেই ফ্রিজে সবজি ডিপ

রোজা রেখে হজম শক্তি অটুট রাখার খাবার