Published : 19 Jul 2026, 04:28 PM
প্রায় এক মাসের লড়াই, নাটকীয় জয়-পরাজয় আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের পর, ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত আসরে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
দীর্ঘ প্রতিযোগিতার নানান ধাপ পেরিয়ে এই দুই দল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা করে নিয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ক্লাব এবং হোটেলে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে ফুটবলপ্রেমীদের সমাগম হওয়াই স্বাভাবিক।
তবে আনন্দের মুহূর্ত নিরাপদ রাখতে দর্শকদের সচেতনতা, ভদ্রতা এবং নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।
কোথায় কোথায় বড় পর্দায় খেলা দেখা যাবে?
বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনা মূল্যে কিংবা বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা দেখার সুযোগ মিলবে।
এর মধ্যে কিছু হল:
এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, কনভেনশন সেন্টার এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ভেন্যুতেও বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন থাকবে।
আরও পড়ুন
জার্সি পরে খেলা দেখলে অনুভূতিটা কেন অন্যরকম হয়?
জার্সি না পরেও সাজপোশাকে প্রিয় দলের আমেজ
আগে পৌঁছান, ভিড় এড়ান
চূড়ান্ত ম্যাচ উপলক্ষ্যে এসব স্থানে দর্শকের ভিড় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। আর যেহেতু আর্জেন্টিনার ভক্তদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি তাই ভিড়ও বেশিই হবে।
এই বিষয়ে, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “তাই খেলা শুরু হওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে পৌঁছালে নিরাপদে বসার জায়গা পাওয়া সহজ হবে। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও আগে থেকে দেখে রাখা ভালো।”
এছাড়া অতিরিক্ত ভিড় দেখলে ধাক্কাধাক্কি না করে বিকল্প জায়গায় দাঁড়ানো নিরাপদ।
বৃষ্টি হলে করণীয়
বর্ষাকালে খেলা হওয়ায় হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে। অনেকগুলো ম্যাচেই এমন দেখা গেছে। তাই ছাতা বা হালকা বর্ষাতি বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা ভালো।
“তবে বড় ছাতা খুলে অন্য দর্শকের দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত করা ঠিক নয়”, বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
আবার বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক তার, বড় পর্দার সংযোগ বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির কাছাকাছি দাঁড়ানো যাবে না কোনো ভাবেই।
মাটিতে পানি জমে থাকলে খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।
বিদ্যুতের তার ও বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলা
বড় পর্দার আয়োজনের জন্য অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে বিদ্যুতের সংযোগ, তার এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়।
“কোনো তারের ওপর দাঁড়ানো যাবে না বা তার টেনে সরানোর চেষ্টা করা যাবে না। কোথাও ছেঁড়া তার, স্পার্ক বা ধোঁয়া দেখা গেলে নিজে স্পর্শ না করে সঙ্গে সঙ্গে আয়োজক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানানো উচিত”, পরামর্শ দেন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বৈদ্যুতিক মিস্ত্রী মিঠুন সরদার।
“শিশুদের বৈদ্যুতিক সংযোগের কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে। বৃষ্টির মধ্যে ভেজা হাতে বৈদ্যুতিক যন্ত্র স্পর্শ করা থেকেও বিরত থাকতে হবে”, বলেন তিনি।
ছবি ও ভিডিও করার সময় সতর্কতা
খেলার স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি ও ভিডিও তোলা স্বাভাবিক। তবে সেটি যেন অন্য দর্শকের অসুবিধার কারণ না হয়।
তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “মোবাইল মাথার অনেক ওপরে তুলে দীর্ঘ সময় ভিডিও করা ঠিক নয়। এতে পেছনের দর্শকের খেলা দেখতে সমস্যা হয়। ছবি তুলতে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে, সিঁড়িতে বা প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে ভিড়ও সৃষ্টি না করার বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।”
সেলফি তুলতে গিয়ে পেছনের পরিবেশ খেয়াল করতে হবে। কোনো উঁচু স্থানে উঠে বা রেলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বিপজ্জনক হতে পারে। ছবি তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে- এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন, এই অধ্যাপক।
শিশু ও পরিবারের সদস্যদের দিকে নজর
পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে গেলে শিশুদের হাত ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে রাখা যায়। যাতে ভিড়ের মধ্যে কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সহজে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
“শিশুদের নাম, অভিভাবকের মোবাইল নম্বর বা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখাও উপকারী হতে পারে”, বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
আনন্দ করা, তবে ভদ্রতা বজায় রাখা
ফুটবল আবেগের খেলা। তবে সমর্থনের নামে অন্য দলকে অপমান, গালাগাল বা উসকানিমূলক আচরণ করা উচিত নয়।
“গোল হলে আনন্দ করা স্বাভাবিক, তবে ধাক্কাধাক্কি বা বিপজ্জনকভাবে লাফালাফি করা থেকে বিরত থাকাই হবে ভালো। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদেরও সম্মান করতে হবে। কারণ খেলাটি প্রতিযোগিতার হলেও দর্শকদের আচরণ হওয়া উচিত সৌহার্দ্যপূর্ণ”, বলেন এই অধ্যাপক।
নিজের জিনিসপত্র নিরাপদ
বড় সমাবেশে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস সাবধানে রাখতে হয়। কারণ খেলা দেখতে এসে দামি ফোন হারানোও ঘটনাও ঘটে।
তাই সম্ভব হলে সামনের দিকে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত।
তাসমিয়া জান্নাত বলেন, “অপরিচিত কারও কাছে নিজের জিনিসপত্র রেখে কোনোভাবেই কোথাও যাওয়া ঠিক না। এছাড়া সন্দেহজনক কিছু দেখলেও নিরাপত্তাকর্মী বা আয়োজকদের জানাতে হবে।”
পরিবেশ পরিষ্কার
“খাবারের মোড়ক, পানির বোতল বা অন্যান্য বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। নির্ধারিত ময়লার পাত্র ব্যবহার খুব সাধারণ ভদ্রতা”, বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
এতে অনুষ্ঠানস্থল পরিষ্কার থাকবে এবং অন্যদের চলাচলেও সমস্যা হবে না।
জরুরি পরিস্থিতিতে যা করতে হবে
হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভিড় বা আতঙ্ক সৃষ্টি হলে দৌড়াদৌড়ি করা যাবে না একেবারেই। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মী বা আয়োজকদের নির্দেশনা অনুসরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অসুস্থ বোধ করলেও দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
নিজের কোনো ওষুধ থাকলে, সেটা সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান
আরও পড়ুন