ব্যায়াম শুরু করতে মন চাইছে না? আগ্রহ বাড়ানোর পাঁচ উপায়
ব্যায়াম না করার প্রচলিত অজুহাত হল- ‘সময় হয় না’। তবে শরীরচর্চাকে জীবনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে।
বছরের শুরুর দিকে নিজের জীবনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়। বিশেষ করে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চার প্রতিজ্ঞা থাকে সেই তালিকার শীর্ষে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে পারে আগ্রহ। বাইরের আবহাওয়া, ব্যস্ততা কিংবা আলস্য সব মিলিয়ে শরীরচর্চা শুরুই করা হয় না, বা কিছুদিন পরেই তা বন্ধও করে দেন এমন সংখ্যা কম হবে না।।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার–এর এক জরিপে দেখা গেছে, এমন প্রতিজ্ঞাকারীদের একটি বড় অংশ শুরুতেই কিছু বা পুরোটাই বাদ দিয়ে দেন।
আবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’– ‘নর্ক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ’ –এর আরেক জরিপে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত লক্ষ্য বিশেষ করে নিয়মিত শরীরচর্চা, মানুষের প্রতিজ্ঞার তালিকায় সবচেয়ে বেশি থাকে।
শরীরচর্চার উপকারিতা সবাই জানলেও কেন তা নিয়মিত করতে পারা যায় না?
মনোবিজ্ঞানী ডায়ানা হিল সিএনএন ডটকমকে বলেছেন, “শরীরচর্চা না করার পেছনে প্রায়ই থাকে মানসিক বাধা, ভয় বা অজুহাত।”
সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলানো
শরীরচর্চা না করার সবচেয়ে প্রচলিত অজুহাত হল- সময় নেই। অনেকেই মনে করেন ব্যায়াম করার জন্য আলাদা করে সময় বের করা কঠিন।
কিন্তু ডায়ানা হিল মনে করেন, “আসলে বিষয়টি সময়ের অভাব নয়; বরং সময়কে কীভাবে দেখি, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শরীরচর্চাকে এমন একটি কাজ হিসেবে ভাবেন যা কেবল অবসর সময়েই করা সম্ভব। ফলে নিয়মিত কাজের সঙ্গে তা মিলিয়ে নেওয়ার কথা ভাবেন না।”
তিনি পরামর্শ দেন, “শরীরচর্চাকে আলাদা কোনো কাজ হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের জীবনের অংশ হিসেবে ভাবতে হবে। যেমন- কোথাও সিঁড়ি ব্যবহার করা, একটু বেশি হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই শরীর নড়াচড়া করা। এতে শরীরচর্চা করা সহজ হয়ে যায়।
নিজের অনুপ্রেরণার উৎস খুঁজে নেওয়া
‘ব্যায়াম শরীরের জন্য ভালো’- সবার জন্য এই ধারণা, যথেষ্ট অনুপ্রেরণা তৈরি নাও করতে পারে।
এই মনোবিজ্ঞানীর মতে, শরীরচর্চার জন্য এমন একটি ব্যক্তিগত কারণ খুঁজে পাওয়া দরকার যা নিজের কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ।
কারও জন্য সুস্থ থাকা বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে, আবার কারও জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা প্রিয় কোনো কাজ করার সক্ষমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাসার পরিবেশকে সক্রিয় করা
শরীরচর্চা শুরু করার ক্ষেত্রে পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় এমন পরিবেশে থাকতে হয় যেখানে আরাম করে বসে থাকা সহজ, কিন্তু শরীরচর্চা শুরু করা কঠিন।
তাই বাসার পরিবেশ এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে তা নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করে।
যেমন- দরজার পাশে হাঁটার জুতা রেখে দিলে বাইরে হাঁটতে বের হওয়া সহজ হয়। এই ধরনের ছোট ছোট পরিবর্তন শরীরচর্চা শুরু করার সিদ্ধান্তকে সহজ করে দিতে পারে।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া
শরীরচর্চা শুরু করতে দ্বিধা বোধ করার কারণ হতে পারে নিজেদের শরীর নিয়ে অস্বস্তি অনুভব বা মনে করা যে- নিজে যথেষ্ট দক্ষ নন। এই পরিস্থিতিতে নিজের প্রতি কঠোর না হয়ে সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি।
মনোবিজ্ঞানী ডায়না হিল বলেন, “নিজের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলা উচিত যেভাবে কোনো প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কথা হয়। অর্থাৎ নিজেকে দোষারোপ না করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দরকার। নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে ধীরে ধীরে এগোলে শরীরচর্চা শুরু করা অনেক সহজ হয়ে যায়।“
ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ
অনেকেই শরীরচর্চা শুরু করার সময় বড় লক্ষ্য ঠিক করেন। যেমন- প্রতিদিন এক ঘণ্টা ব্যায়াম করবেন। তবে এমন লক্ষ্য অনেক সময় বাস্তবসম্মত হয় না।
ছোট ও সহজ লক্ষ্য নির্ধারণ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
যদি কেউ দীর্ঘ সময় হাঁটার প্রতিজ্ঞা করেন এবং তা পালন করতে না পারেন, তাহলে হতাশা তৈরি হয়। তবে যদি কেউ মাত্র কয়েক মিনিট হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, তাহলে সেটি পূরণ করা সহজ হয়।
শরীরচর্চা শুধু শরীরের জন্য নয়
শরীরচর্চার উপকারিতা কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত নড়াচড়া মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে- শরীরচর্চা করলে শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান তৈরি হয় যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমতে পারে।
যে কারণে এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, “শরীরচর্চাকে কেবল একটি স্বাস্থ্য–সংক্রান্ত কাজ হিসেবে না দেখে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা উচিত।”
ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে স্থায়ী অভ্যাস
শরীরচর্চা শুরু করার সবচেয়ে বড় বাধা হল- প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া। তবে একবার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেলে তা ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।
ডায়না হিল মনে করেন, “যদি ধীরে ধীরে নিজের জীবনে ব্যায়ামের জায়গা তৈরি করা যায়, তাহলে শরীরচর্চা আর আলাদা কোনো কাজ বলে মনে হবে না।”
আরও পড়ুন
