Published : 28 May 2026, 10:33 AM
ঈদের সময় খাবারের টেবিলে যা থাকে- কোরমা, কালাভুনা, রেজালা, কাবাব, বিরিয়ানি, পোলাও। সঙ্গে মিষ্টি, সেমাই। দিনে দুতিন বাড়িতে দাওয়াত থাকলে তো কথাই নেই। প্রতিটি পাতেই মাংস, তেল, মসলা।
এই খাওয়ার আনন্দ ঠিকঠাক শেষ হলে, কিছুক্ষণ পর শুরু হয় অস্বস্তি। পেট ভার লাগছে, গ্যাস হচ্ছে, বুক জ্বলছে, শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে। কিন্তু শুলে আরও খারাপ লাগছে।
এই পরিস্থিতি কিছুটা এড়ানো সম্ভব। যদি কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা যায়।
খেতে বসে যা মাথায় রাখতে হয়
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “যত ভারী খাবার খান না কেন, টেবিলে কিছু শাকসবজি, ফল বা সালাদ রাখুন। মাংস বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে।”
“পাশাপাশি খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়া করে খেলে হজম ঠিকমতো হয় না। হজম আসলে মুখ থেকেই শুরু হয়। লালায় এনজাইম খাবার ভাঙার প্রথম ধাপ। তাড়াহুড়া করলে সেই ধাপটা এড়িয়ে যায়”, বলেন তিনি।
পানি কখন পান করবেন, কখন করবেন না
ডা. নয়ন বলেন, “এটা অনেকে জানেন না। খাওয়ার ঠিক আগে, খাওয়ার সময় বা খাওয়ার পরপর পানি পান করলে হজম-এনজাইমগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। পানি সেই এনজাইমগুলো পাতলা করে দেয়।”
খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে বা পরে পানি পান করা ভালো। খাওয়ার সময় একটু পানি পান না করে পারা যায় না। তখন অল্প পানি পান করা যেতে পারে।
মাংস বেশি খেলে পানি বেশি পান করা জরুরি। তবে সেটা খাওয়ার পরে, অন্তত আধা ঘণ্টা বিরতি দিয়ে।
রান্নাঘরেই আছে হজমের সেরা সহায়
কিছু পরিচিত মসলা ও উপাদান হজমে দারুণ কাজ করে।
ডা. নয়ন বলেন, “আদাকুচি, জিরা ও হলুদ খাবার বা পানীয়র সঙ্গে গ্রহণ করলে হজমশক্তি বাড়ে।”
খাওয়ার পর আদা দিয়ে চা বা জিরা ভেজানো পানি পান করা উপকারী। এটা পেটের অস্বস্তি কমায়।
ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে গ্রহণ করলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মেলে। কোরবানির ঈদে মাংস বেশি খাওয়ার পর এটা বিশেষভাবে কার্যকর।
খাওয়ার পর হাঁটা, শোয়া যাবে না
ভারী খাবারের পর শুয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। এটা স্বাভাবিক, তবে ক্ষতিকর। শুলে হজম ধীর হয়, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বাড়ে।
খাওয়ার এক ঘণ্টা পর একটু হেঁটে আসার চেষ্টা করতে হবে। বাসার বারান্দায়, ছাদে বা রাস্তায়, যেখানেই হোক।
“মাত্র ১৫-২০ মিনিটের হাঁটা হজমে উল্লেখযোগ্য সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে”, বলেন এই চিকিৎসক।
মানসিক চাপ হজমের শত্রু
এটা অনেকে মাথায় রাখেন না, তবে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ বদহজমের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আইবিএস বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম আছে, তাদের ক্ষেত্রে মানসিক চাপে সমস্যা অনেক বেড়ে যায়।
ঈদের দিন অতিথি আসা, রান্নার চাপ, পরিবারের নানান ব্যস্ততা, এই চাপগুলো পেটের ওপরেও প্রভাব ফেলে।
“খাওয়ার আগে কয়েক মিনিট শান্ত হয়ে বসে, গভীরভাবে শ্বাস নিন। তারপর খাবার সময়টুকু উপভোগ করুন”, পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।
কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সতর্কতা
ডায়াবেটিস থাকলে রাতে পেট খারাপ হতে পারে। এটা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের একটি জটিলতা। তাই ঈদের দিন খাবার নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ ঠিকমতো খাওয়া জরুরি।
তৈলাক্ত খাবার খেলে যাদের বারবার সমস্যা হয়, তাদের পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ে কোনো সমস্যা আছে কি-না, তা একবার চিকিৎসকের কাছে জেনে নেওয়া ভালো।
যাদের ছোটবেলা থেকেই হজমের সমস্যা, তারা গমজাত খাবার কমিয়ে দেখতে পারেন। গমের গ্লুটেনে অনেকের সমস্যা হয়।
আর যারা দুধ হজম করতে পারেন না, তারা ঈদে দুধের মিষ্টি বা সেমাই খাওয়ার আগে একটু ভেবে নিন।
আরও পড়ুন