Published : 21 Jun 2026, 02:31 PM
ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।
মারা যাওয়া মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৪) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মির্জা এসকেন্দারের পুত্র এবং ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি বাবা মারা যাওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি মধুখালী চিনিকলে চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তার মা ও এক ভাই রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাজাসহ প্রান্তকে আটক করে ৷
পরে তাকে মধুখালী থানায় নেয়া হয়। এরপর মাদক সংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে ভোরে তাকেসহ চারজনকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয় এবং ডিবি হেফাজতে রাখা হয়।
ওসি বলেন, “ভোর ৪টায় তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখা হয় এবং কক্ষটিতে বৈদ্যুতিক পাখারও ব্যবস্থা ছিল। ছেলেটি সেখানে ফজরের নামাজও আদায় করে। এরপর ও নিজেই অন্যদের জানায়- ‘শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে’।
“তখন আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিক ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখান থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আলমগীরের দাবি, “তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে এবং ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। ”
তবে ডিবি পুলিশের নির্যাতনে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার ও স্বজনরা।
তার মা মির্জা খাদিজা আক্তার নিপা বলেন, “প্রান্তকে আমার সামনে থেকেই বেধড়ক মারপিট করতে করতে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে নির্যাতন করেই হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

প্রান্ত মাদকের সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে নিহতের চাচী নাসরিন জামান সাংবাদিকদের বলেন- “বাবা মারা যাওয়ার পর ছেলেটা পড়ালেখার পাশাপাশি মিলে চাকরি করে সংসার চালায়৷”
তিনি বলেন, “গতকাল (শনিবার) বিকালে মিল থেকে এসে ছেলেটা রাস্তায় গিয়ে দাড়িয়েছে। তখনই ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন এসে ধরে মারধর করতে থাকে৷ এরপর ঘরের ভেতরে এনেও মারতে থাকে। তবুও ওর কাছে কিছুই পায়নি, একটা সিগারেটও পায়নি।
“এক পর্যায়ে বলে- ও রাজনীতি করে, নিয়ে চল। এরপর নিয়ে যায় এবং সকালে আমাদের ফোন করে জানায়- অসুস্থ হয়ে পড়েছে, মেডিকেলে আছে৷ আমাদের লোকজন গিয়ে দেখে মারা গেছে।”
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে প্রচার করছেন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজিদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান তার সঙ্গে প্রান্তের তোলা একটি ছবি সংযুক্ত করে ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন- “গতকাল রাতে মধুখালি উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত মির্জাকে তার বাসা থেকে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং আজ (রোববার) সকালে দেখা গেলো ফরিদপুর মেডিকেলে তার মৃত্যুবরণ ঘোষণা করা হয়।
“পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু কোনো কিছু না, সঠিক তদন্তের দায়িত্ব বুঝে নেয়ার জন্য ফরিদপুরের জনগণের কাছে অনুরোধ করলাম। আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না আমরা আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য জানতে চাই।”
তবে পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন পূর্বে সংগঠনটির কার্যক্রমে জড়িত থাকলেও বর্তমানে প্রান্তের সংগঠনের পদ বা কার্যক্রম নেই ।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাদকসহ প্রান্তকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। সকালে অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মৃত্যু হয় প্রান্তের।
“শারীরিকভাবে আঘাতের কোনো চিহ্ন তার শরীরে নেই। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি উচ্চ রক্তচাপে স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে।”
এছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে এবং সে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।