লিচু কিনে ঠকছেন না তো?
ভালো লিচু চেনার রয়েছে উপায়।
গরম পড়তেই বাজারে এসে গেছে লিচু। তবে সুন্দর দেখলেই কেনা ঠিক নয়। কৃত্রিম রং আর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো লিচু চেনার উপায় জানা থাকলে ঠকবেন না, অসুস্থও হবেন না।
গরমের বাজারে লিচু দেখলে পা আপনাআপনি থেমে যায়। লাল টুকটুকে থোকা থোকা লিচু, দেখলেই মনে হয় এখনই কিনে নিই। শুধু চোখ দিয়ে লিচু কিনলে বিপদে পড়তে পারেন।
কারণ বাজারে এমন লিচুও আসে, যেটা বাইরে থেকে যত সুন্দর, ভেতরে ততটা নিরাপদ নয়।
ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে অনেক সময় কাঁচা বা অপরিপক্ব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং মাখানো হয়। আবার রাসায়নিক দিয়ে দ্রুত পাকানো হয় ফল। বাইরে থেকে সেটা বোঝার উপায় নেই। যদি না কিছু সহজ কৌশল জানা থাকে।
ঢাকার বাদামতলীর পাইকারি আড়তদার আব্দুল কাদের জিলানি বললেন, “প্রতি বছরই এই সমস্যা হয়। ক্রেতারা না জানলে সহজেই ঠকে যান। তবে একটু সতর্ক হলেই ভালো লিচু বাছাই করা কঠিন কিছু নয়।”
ভালো লিচু চেনার কয়েকটি পন্থা জানালেন এই ফল ব্যবসায়ী।
রং দেখে বোঝা যায়
লিচু কিনতে গিয়ে প্রথমেই পরখ করতে হবে রং।
আব্দুল কাদের জিলানি বলেন, “ভালো পাকা লিচুর রং উজ্জ্বল হয়, কিন্তু সেই উজ্জ্বলতা স্বাভাবিক। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং আলাদা— কোনোটা গাঢ় লাল, কোনোটায় হালকা কমলা বা বাদামি আভা থাকে। এটা স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, “সমস্যা হয় যখন লিচু অস্বাভাবিক রকম চকচকে লাল হয়। বাস্তবে গাছ পাকা লিচু এতটা চকচকে হয় না। যদি দেখেন সবগুলো লিচু একদম একরঙা, একই রকম উজ্জ্বল লাল, তাহলে সতর্ক হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।”
হাতে নিয়ে চাপ দিয়ে দেখুন
শুধু চোখে দেখলে হবে না, হাতেও পরীক্ষা করতে হবে।
লিচু হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিন। ভালো পাকা লিচু হবে টানটান আর সতেজ। খুব বেশি নরম লাগলে বুঝতে হবে সেটা অতিরিক্ত পেকে গেছে বা ভেতর থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের লিচুর ভেতরে টক গন্ধ বা পচা অংশ থাকার সম্ভাবনা থাকে।
আবার একদম পাথরের মতো শক্ত হলেও বুঝতে হবে সেটা এখনও ঠিকমতো পাকেনি। পাকা লিচু হবে হালকা নমনীয়, তবে ভেঙে পড়বে না বা ‘দেবে’ যাবে না।
নাকের কাছে ধরুন, গন্ধ বলে দেবে সত্যিটা
পাকা লিচুর একটা আলাদা মিষ্টি গন্ধ আছে। কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ নাকে লাগে। এই গন্ধই আসল লিচুর পরিচয়।
তবে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো বা কৃত্রিম রং মাখানো লিচুতে সেই স্বাভাবিক সুগন্ধ থাকে না। হয় গন্ধ একেবারেই নেই, নয়তো একটা অদ্ভুত কড়া গন্ধ আছে। এ ধরনের লিচু কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
বাজারে কেনার সময় এই কাজটা করতে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে স্বাস্থ্যের কথা ভাবলে দুই সেকেন্ডের এই পরীক্ষাটা মোটেই বাড়াবাড়ি নয়।
খোসায় দাগ বা ফাটল থাকলে রেখে দিন
ভালো লিচুর খোসা পরিষ্কার আর সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা কোনো অংশ দেখলে সেই লিচু না নেওয়াই ভালো।
বিশেষ করে লিচুর ডাঁটির কাছের অংশটা দেখুন। ওখানে পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই ডালসহ তাজা লিচু কেনার চেষ্টা করুন — ডাল সবুজ আর সতেজ থাকলে সেটা সদ্য গাছ থেকে আনার লক্ষণ।
বাসায় এনে পানিতে ভেজান, রং বেরিয়ে পড়বে
লিচুতে রং মেশানো আছে কি না সেটা কেনার আগে বোঝা কঠিন। তবে বাসায় এনে একটা সহজ পরীক্ষা করতে পারেন।
লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। যদি পানি লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লেগে যায়, তাহলে বুঝতে হবে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে।
এই পরীক্ষায় পাস না করলে সেই লিচু শিশুদের দেবেন না, এমনকি নিজেরাও না খাওয়াই ভালো।
খোসা ছাড়িয়ে শেষ পরীক্ষাটাও করুন
কেনার আগে যদি সম্ভব হয়, একটা লিচুর খোসা ছাড়িয়ে দেখুন। পাকা আর মিষ্টি লিচুর খোসা সহজেই খুলে আসে। ভেতরটা টলটলে সাদা বা হালকা গোলাপি হবে।
তবে খোসা শক্তভাবে আটকে থাকলে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা গেলে বুঝতে হবে, লিচুটা ঠিকমতো পাকেনি কিংবা ভেতর থেকে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
কিনে এনে সরাসরি মুখে দেবেন না
বাজার থেকে যতই ভালো লিচু কিনুন না কেন, সরাসরি মুখে না দিয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে ময়লা বা রংয়ের কিছু অংশ উঠে যাবে, লিচুও একটু ঠাণ্ডা হবে।
গরমের এই ফলটা খাওয়ার আনন্দটা পুরোপুরি পেতে হলে একটু সতর্কতা দরকার।
লিচু কেনা যেমন আনন্দের, সেই আনন্দ যেন পরে অসুস্থতায় না গিয়ে ঠেকে, সেটা নিশ্চিত করাটাও জরুরি। একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই ভালো লিচু চেনা কঠিন কিছু নয়।
আরও পড়ুন
