Published : 18 Dec 2025, 01:53 PM
পরিষ্কার করে ধোয়া ইস্ত্রি করা কাপড় আলমারিতে রাখার কিছুদিন পরই যদি অদ্ভুত স্যাঁতসেঁতে গন্ধ আসে, তাহলে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক।
অনেকেই মনে করেন এর জন্য নিদিষ্ট আবহাওয়াই দায়ী। বিশেষ করে আর্দ্রতা ও বর্ষাকাল, এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে বলেও ধারণা করেন কেউ কেউ।
তবে শুধু বর্ষাকাল নয় বরং গরম বা শীতের সময়েও একই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
“অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কাপড় নোংরা না হলেও আলমারির ভেতরের বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে গন্ধ ধরে যায়। তবে এই গন্ধ দূর করতে আলাদা কেমিক্যাল বা কৃত্রিম সুগন্ধির প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা বা সহজে পাওয়া কিছু প্রাকৃতিক জিনিস দিয়েই আলমারির বাতাস রাখা যায় পরিষ্কার ও সতেজ”- বলেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহায়ণ ও গৃহব্যবস্থাপনা বিষয়ের অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়া।
সুগন্ধি কাঠের টুকরা
এক সময় আলমারি বানাতেই সিডার বা সুগন্ধি কাঠ ব্যবহার করা হত। এর কারণ ছিল এই কাঠের প্রাকৃতিক তেল।
সিডার কাঠ নিজে থেকেই হালকা সুগন্ধ ছড়ায়, আর্দ্রতা শোষণ করে এবং স্যাঁতসেঁতে গন্ধ কমায়। একই সঙ্গে এটি কাপড় নষ্ট করা পোকামাকড়ও দূরে রাখে।
এখন পুরো আলমারি সিডার কাঠের না হলেও ছোট টুকরা বা গোল রিং ব্যবহার করা যায়।
আলমারির ওপরের তাক, ভারী শীতের কাপড়ের হ্যাঙ্গার বা ড্রয়ারে এগুলো রাখলে ভালো কাজ দেয়। সাধারণত বছরে একবার বদলালেই যথেষ্ট।
হোম ডেকর দোকান, ফার্নিচার বা কাঠের সামগ্রীর দোকান বা ফেইসবুক পেইজগুলোতে এমন সুগন্ধি কাঠের টুকরা পাওয়া যাবে।
শুকনা ভেষজের ছোট গুচ্ছ
শুকনা ভেষজ শুধু রান্নার জন্য নয়, আলমারির জন্যও বেশ উপকারী। শুকানো অবস্থায় এগুলো ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক তেল ছাড়ে, যা বাতাসের দুর্গন্ধ ঢেকে দেয়।
ইউক্যালিপটাস পাতার গন্ধ অনেকটা পরিষ্কার স্পা পরিবেশের মতো, রোজমেরি দেয় হালকা সতেজ ভাব, আর ল্যাভেন্ডার দেয় শান্ত সুগন্ধ।
সুতা দিয়ে ছোট গুচ্ছ বানিয়ে এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখতে হয় যেন কাপড়ের সঙ্গে সরাসরি না লাগে। গন্ধ হালকা হয়ে এলে দুই মাস পর পর বদলানো ভালো।
এছাড়া শুকানো নিম পাতাও ভালো কাজ করে- পরামর্শ দেন অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়া।
কয়লা দিয়ে গন্ধ শোষণকারী থলি
যারা আলমারিতে কোনো গন্ধই চান না, শুধু দুর্গন্ধ দূর করতে চান, তাদের জন্য কয়লা খুব কার্যকর। সক্রিয় কয়লা (অ্যাক্টিভ চার্কল) গন্ধ ঢেকে না রেখে, শোষণ করে নেয়। এটি অতিরিক্ত আর্দ্রতাও টেনে নেয়, ফলে আলমারির ভেতরের বাতাস ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
কাপড়ের থলেতে কয়লা ভরে জুতার কাছে, আলমারির পেছনের কোণ বা ওপরের তাকের দিকে রাখা যায়। মাসে একবার কয়েক ঘণ্টা রোদে রাখলে কয়লার কার্যকারিতা আবার ফিরে আসে।
খাবার সোডার সহজ ব্যবহার
খাবার সোডা গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর ও নিরাপদ। এটি দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা শোষণ করে বাতাসকে হালকা রাখে।
একটি ছোট কৌটায় খাবার সোডা নিয়ে মুখে পাতলা কাপড় বেঁধে রাখা যায়, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।
আলমারির নিচে বা তাকের পেছনে রাখা ভালো। এক থেকে দুই মাস পরপর বদলানো উচিত, আর্দ্রতা বেশি হলে আরও ঘন ঘন বদলানো দরকার।
সাবানের বার আলমারিতে রাখা
অনেক সময় সুন্দর গন্ধের সাবান ব্যবহার করতে মন চায় না। সেই সাবানই আলমারিতে রাখা যেতে পারে।
খোলা সাবান ধীরে ধীরে সুগন্ধ ছাড়ে। কাপড়ের সঙ্গে সরাসরি লাগানো ঠিক নয়, তাই পাতলা কাপড়ের থলি বা জালের ব্যাগে রাখা ভালো।
লিনেন, ল্যাভেন্ডার, সিট্রাস বা চন্দনের মতো গন্ধ আলমারির জন্য উপযোগী। কয়েক সপ্তাহ পর গন্ধ কমে এলে সাবান বদলানো যেতে পারে।
নিজে তৈরি কাপড়ের সুগন্ধি থলি
যারা হাতের কাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি উপায়। শুকনা ভেষজ দিয়ে ছোট কাপড়ের থলি বানিয়ে নেওয়া যায়।
অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়া বলেন, "ল্যাভেন্ডার সতেজ রাখে, রোজমেরি উজ্জ্বল ভাব আনে, আর লবঙ্গ উষ্ণতা যোগ করে। ছোট সুতির বা জালের থলেতে এসব ভেষজ ভরে আলমারির তাক, বিছানার চাদরের বাক্স বা কাপড় সংরক্ষণের জায়গায় রাখা যায়। এতে এক ধরনের ঘরোয়া, চেনা আবহ তৈরি হয়।"
সুগন্ধি মোমের বার
সুগন্ধ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে মোম। শুকনা ভেষজ বা প্রাকৃতিক তেল মিশিয়ে তৈরি করা মোমের ছোট বার, যা আলমারিতে ঝুলিয়ে বা থলেতে রেখে দেওয়া যায়।
বাতাস চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে মোম থেকে হালকা গন্ধ ছড়ায়। কাপড়ের সঙ্গে সরাসরি স্পর্শ না করাই ভালো। সাধারণত দুই থেকে তিন মাস পর গন্ধ কমে এলে নতুন বার ব্যবহার করা যায়।
আলমারি সতেজ রাখার অভ্যাস
এই প্রাকৃতিক উপায়গুলোর পাশাপাশি আলমারিতে বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখা, ভেজা কাপড় কখনও ভেতরে না রাখা এবং মাঝেমধ্যে আলমারি খোলা রেখে রোদ-বাতাস লাগানো জরুরি।
আরও পড়ুন