Published : 26 Nov 2025, 04:53 PM
উৎসবের সময় ঘরে উষ্ণতার সঙ্গে আসে এক বিশেষ ঘ্রাণ। যা মনে করিয়ে দেয় শীতের আনন্দ, অতিথি আপ্যায়ন, আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তগুলো।
সাধারণত এই ঘ্রাণ আনতে অনেকেই ঝোঁকেন সুগন্ধি মোমবাতির দিকে। তবে তীব্র ঘ্রাণে অ্যালার্জি থাকলে মোমবাতি উপযোগী নাও হতে পারে।
এমন হলে কিছু কৌশলে মোমবাতি ছাড়াই ঘরে আনবে উৎসবের মিষ্টি সুবাস।
তাজা গাছের ডালপালা
বাংলাদেশে শীতের আমেজ যতটা অনুভূত হয় ঠাণ্ডা হাওয়াতে, ঠিক ততটাই আসে চারপাশের গাছপালার ঘ্রাণ। ঘরকে সুবাসে ভরিয়ে তুলতে ব্যবহার করা যেতে পারে দেশীয় অনেক পরিচিত সুগন্ধি পাতা ও ডালপালা।
গৃহসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিনের পরামর্শ, “ঘরে ঘ্রাণ ছড়াতে পারে স্থানীয় কিছু উদ্ভিদ, যেগুলো সহজে পাওয়া যায় এবং ঘরে নান্দনিক রূপও আনে।”
শীতকালে তুলনামূলক বেশি সুগন্ধ ধরে রাখে বাঁশগাছের পাতাবহুল ডাল, বকুল, লেবু বা কমলালেবুর পাতার ডাল, এমনকি বেলপাতা। এসব পাতার নিজস্ব সতেজ ঘ্রাণ ঘরে এনে দেয় শান্ত, মাটির কাছাকাছি এক অনুভূতি।
ছোট ডালপালা একত্রে জড়িয়ে রঙিন কাপড়ের ফিতা বা রিবন দিয়ে বেঁধে দেয়ালে বা দরজার পাশে ঝুলিয়ে রাখা যায়।
চাইলে কাচের বোতল বা মাটির ফুলদানিতে রেখে ঘরের কোণে সাজানো যেতে পারে।
এমনকি শীতের সময় বাজারে পাওয়া যায় লেবু–পাতার ডাল, যা কাটার পর কয়েকদিন পর্যন্ত এর টক-মিষ্টি সতেজ ঘ্রাণ ধরে রাখে। রান্নায় ব্যবহারের আগে বা পরে এই পাতাগুলো শুকিয়ে ছোট তোড়ার মতো করেও সাজিয়ে রাখা যায়।
সবুজ গাছপালা দিয়ে এমন সজ্জা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, স্বাভাবিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। ঘরে শিশু বা যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ।
এভাবে প্রকৃতির নিজস্ব ঘ্রাণে ঘর ভরে ওঠে শীতের শান্ত মায়ায়। যা যেমন চোখে আরামদায়ক, তেমনি মনে আনে এক কোমল প্রশান্তি।
সুবাস ছড়ানো মসলার পাত্র
একটি ছোট খোলা পাত্রে পানি, মসলা এবং ফল-মসলা দিয়ে ধীরে ধীরে ফুটতে দেওয়া যায়।
“ছোট পাত্রে পানি নিয়ে তাতে দারুচিনি, লেবু এবং রোজমেরি পাতা দিলে দারুণ সুবাস তৈরি হয়”- বলছিলেন গুলশান নাসরিন।
আরেকটি বিষয় হল, ঘরের যা আছে তাই দিয়ে বানানো যায় নানান রকম সুবাস।
এই পদ্ধতি সহজ, স্বস্তিদায়ক এবং নিরাপদ। শুধু খেয়াল রাখতে হবে পাত্রের আঁচ যেন বেশি না হয়। হালকা বুদবুদ উঠলেই যথেষ্ট। বেশি আঁচে পানি দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে।
লেবুর টক-মিষ্টি সতেজতা, দারুচিনির উষ্ণতা আর রোজমেরির ভেষজ ঘ্রাণ মিলেমিশে ঘরে তৈরি হয় প্রশান্তিময় এক পরিবেশ।
কয়েক ফোঁটা এসেনশল তেল
ঘরে ঘ্রাণ ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যায় ‘এসেনশল অয়েল’। যে কোনো আকারের ছোট পাত্রের মাঝখানে কয়েক ফোঁটা এই তেল ঢেলে দিতে হয়।
দারুচিনি, ভ্যানিলা, কমলা ঘ্রাণের তেল কয়েক ফোঁটা পাত্রে দিয়ে রাখলেই ধীরে ধীরে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোমল সুবাস।
হাঁটাচলার সময় একটু নড়াচড়া হলেই সুবাস আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি সহজ, নিরাপদ এবং একেবারেই ঝামেলাহীন একটি পদ্ধতি।
আরও পড়ুন