০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সকালে টুথপেস্ট না থাকলে করণীয়

টুথপেস্ট নেই তো কী হয়েছে! রয়েছে দাঁত পরিষ্কারের বিকল্প পন্থা।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 04:39 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

ব্যস্ত সকালের শুরুতেই তাড়াহুড়ায় দাঁত মাজতে গিয়ে যদি খেয়াল হলে টুথপেস্ট শেষ, তখন এক ধরনের বিরক্তি কাজ করে। আগের দিন নতুন পেস্ট কিনে আনার কথা মনে না থাকলে অনেকেই টুথপেস্ট ছাড়া মুখ পরিষ্কার করা অসম্ভব মনে করে বসে থাকেন।

তবে দন্ত চিকিৎসকদের মতে, টুথপেস্টের প্রধান কাজ হল দাঁতের ওপর ফেনা তৈরি করে দুর্গন্ধ দূর করা এবং ফ্লোরাইডের পুষ্টি দেওয়া; তবে দাঁতের ময়লা ও প্লাক পরিষ্কার করার কাজ বা শক্তির জোগান দেয় মূলত টুথব্রাশের ব্রিসলস বা ঘর্ষণ।

‘আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর চিকিৎসকদের মতে, টুথপেস্ট না থাকলেও ঘরে থাকা সাধারণ কিছু বিকল্প উপাদানের সাহায্যে ক্ষতি ছাড়াই এবং মুখের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা সম্ভব।

ড্রাই ব্রাশিং বা শুধু ব্রাশের ব্যবহার

টুথপেস্ট না থাকলে অনেকেই ভাবেন দাঁত ব্রাশ করাই যাবে না, যা ভুল একটি ধারণা।

যে কারণে কার্যকর: ‘ওরাল হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো টুথপেস্ট ছাড়াই সাধারণ পরিষ্কার পানি দিয়ে ব্রাশ ভিজিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট আলতো করে দাঁত ঘষলে, দাঁতের উপরিভাগের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত জমে থাকা প্লাক এবং ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার হয়ে যায়।

বেইকিং সোডা বা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট

দাঁতের প্লাক পরিষ্কার এবং মুখের অম্লতা দূর করতে বেইকিং সোডার কার্যকারিতা নিয়ে মার্কিন দন্ত গবেষক ডা. ব্রুস বার্কার এবং তার গবেষক দলের করা গবেষণাটি আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মুখপত্র ‘দ্য জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।

ডা. বার্কার দেখিয়েছেন যে, বেইকিং সোডার সূক্ষ্ম কণাগুলো কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক ছাড়াই দাঁতের এনামেলকে সুরক্ষিত রেখে শক্ত প্লাকের আস্তরণ ও কালচে দাগ ঘর্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত দূর করতে পারে।

ব্যবহারের নিয়ম:  সামান্য একটু বেইকিং সোডা একটি পাত্রে নিয়ে টুথব্রাশের মাথায় হালকা করে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর সামান্য পানির ছিটা দিয়ে সাধারণ নিয়মে ব্রাশ করতে হবে।

বেইকিং সোডার ক্ষারীয় উপাদান মুখের ভেতরের অম্ল বা অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা মুখের দুর্গন্ধ এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে কার্যকর।

তবে ডা. বার্কার গবেষণা পত্রে সাবধান করেন যে, এটি সপ্তাহে বা বিপদে পড়লে দুয়েকবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ অতিরিক্ত ব্যবহারে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে।

সাধারণ লবণ পানির কুলকুচি

প্রাচীনকাল থেকেই দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় এবং মুখের ভেতরের যেকোনো ঘা বা সংক্রমণে আরাম পেতে লবণ পানিকে এক প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক মনে করা হয়।

ব্যবহারের নিয়ম: হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা চা-চামচ সাধারণ খাবার লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। টুথপেস্ট না থাকলে শুধু টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত ঘষার পর এই লবণ পানি দিয়ে ২ থেকে ৩ বার ভালো করে কুলকুচি করে নেওয়া উপকারী।

লবণের সোডিয়াম ক্লোরাইড প্রাকৃতিকভাবেই মাড়ির ফোলাভাব কমায় এবং মুখের লালার ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করে।

নারিকেল তেলের ‘অয়েল পুলিং’ থেরাপি

মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস এবং দুর্গন্ধ দূর করতে নারিকেল তেলের বিশেষ থেরাপি নিয়ে ভারতের ডেন্টাল সার্জন এবং মুখের স্বাস্থ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. শারদ সাহাই দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন।

চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ট্র্যাডিশনাল অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই পর্যবেক্ষণ অনুসারে তিনি জানান, নারিকেল তেলের মধ্যে থাকা ‘লরিক অ্যাসিড’, লালার সংস্পর্শে এসে এক ধরনের প্রাকৃতিক সাবান বা ক্লিঞ্জিং এজেন্ট তৈরি করে। এই উপাদান মুখের প্রধান ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে সফলতার সঙ্গে। যা টুথপেস্টের অনুপস্থিতিতেও মাড়ির রোগ প্রতিরোধে এবং মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর।

ব্যবহারের নিয়ম: সকালে খালি পেটে এক টেবিল-চামচ খাঁটি নারিকেল তেল মুখে নিয়ে দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে অনবরত নাড়াচড়া বা কুলকুচি করতে হবে।

এরপর তেলটি বাইরে ফেলে দিয়ে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

নিমের চেনা ঐতিহ্য

যদি হাতের কাছে ব্রাশও না থাকে বা টুথপেস্টের কোনো বিকল্পও কাজ না করে, তবে নিমের ডাল বা ঐতিহ্যবাহী জাইতুনের মেসওয়াক এক অনন্য সুপারফুড হিসেবে কাজ করে।

যে কারণে কার্যকর: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র দাঁত সুরক্ষার নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, নিম ব্যবহারের নানান উপকারিতা রয়েছে।

নিমের ডালের আগা চিবিয়ে নরম ব্রাশের মতো বানিয়ে দাঁত মাজলে এর ভেতরের প্রাকৃতিক কষ ও রস মাড়ির রোগ দূর করে, দাঁতকে শক্ত রাখে এবং স্থায়ীভাবে মুখের দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।

মনে রাখতে হবে

আপদকালীন সময়ে ঘরের এই সহজ বিকল্প পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা শতভাগ নিরাপদ ও বিজ্ঞানসম্মত হলেও, এগুলোকে স্থায়ী অভ্যাসে রূপান্তর করা যাবে না।

কারণ নিয়মিত ব্যবহারের টুথপেস্টে থাকা ‘ফ্লোরাইড’ উপাদানটি দাঁতের ক্ষয় রোধ বা ক্যাভিটি প্রতিরোধ করার জন্য অপরিহার্য।

তাই সাময়িক সংকট কাটাতে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করার পর, সুবিধাজনক সময়ে অবশ্যই ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট কিনে পুনরায় নিয়মিত রুটিনে ফিরে আসাই হবে ‍উপকারী।

আরও পড়ুন

দাঁতে দাঁত ঘষার অভ্যাস বন্ধ করার উপায়

দাঁত ব্যথা কমানো প্রাকৃতিক উপায়

দীর্ঘায়ুর গোপন চাবিকাঠি হতে পারে ডেন্টাল ফ্লসিং