Published : 01 Nov 2023, 12:57 PM
দৈনন্দিন ব্যবহার করা হয় এমন অনেক জিনিসের মেয়াদকাল সম্পর্কে আমরা অবগত নই।
ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় মেয়াদ উত্তীর্ণ জিনিস ব্যবহার করা হচ্ছে। যা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই কয়েকটি গৃহস্থালী পণ্যের মেয়াদকাল সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সানস্ক্রিন
অনেক সময় দেখা যায় অব্যবহৃত সানস্ক্রিন বোতলে রয়ে গেছে। পুনরায় তা ব্যবহার করার চেয়ে বরং নতুন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। কারণ প্রত্যেকটি ওষুধেরই একটি নিজস্ব মেয়াদ রয়েছে। আর সানস্ক্রিনকে এক ধরনের ওষুধ বলা চলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেইশন’য়ের তথ্যানুসারে মায়ো ক্লিনিকের বরাত দিয়ে রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়- সানস্ক্রিন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে কমপক্ষে তিন বছর। তবে সমস্যা হল সূর্যালোক ও তাপের কারণে সেটা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
তাই গ্রীষ্মকালে কোথাও বেড়াতে গেলে যে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে তা আর ব্যবহার না করাই ভালো। যদিও এর আগেই নিয়মিত ব্যবহার করলে সানস্ক্রিন শেষ হয়ে যায়। তবুও নিরাপত্তার খাতিরে এই বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
ব্যাটারি
কেবলমাত্র স্মার্টফোনের ব্যাটারি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা খুব একটা এ বিষয়ে মনোযোগী হইনা।
ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এনারজাইজার’য়ের দেওয়া তথ্যানুসারে- এক এক ধরনের ব্যাটারির মেয়াদকাল একেক রকম। এমনকি পুনরায় চার্জ দেওয়া যায় এমন ব্যাটারির মেয়াদকাল পাঁচ বছর।
তাই ব্যাটারি কেনার আগে এর মেয়াদকাল দেখে নেওয়া এবং পুনরায় ব্যবহারের আগে তার সময়সীমা নোট করে নেওয়া ভালো।
ব্লিচ
ব্লিচের রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। কাপড় সাদা করা থেকে শুরু করে জীবাণুনাশক হিসেবে বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্লিচ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর।
ব্লিচেরও একটি নির্দিষ্ট মেয়াদকাল রয়েছে- যা প্রায় এক বছর। যদি সঠিকভাবে ঠাণ্ডা পরিবেশে, সূর্যালোক ও তাপ থেকে দূরে সংরক্ষণ করা যায়। এটা বোতলে ঢাকনা খোলার বা বন্ধ- দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
কোনো ব্লিচের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ফেলে না দিয়ে কেবল জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড অনন্য। কোনো দাগ ছোপ দূর করতে, কাটাস্থানের জীবাণুনাশক হিসেবে চমৎকার কাজ করে। তবে এটাও চিরস্থায়ী নয়।
বোতলের মুখ খোলা হয়নি এমন হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড তিন বছর পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে মুখ খোলার পরে কেবল ছয় মাস স্থায়ী হয়।
বাসায় থাকা কোনো হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের বোতল কতদিন আগে খোলা হয়েছে, সেটা মনে করতে না পারলে একটি সিংকে কিছুটা পারঅক্সাইড ঢেলে দেখতে হবে বুদবুদ তৈরি হচ্ছে কিনা।
যদি বুদবুদ হয় তাহলে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। আর বুদবুদ সৃষ্টি না হলে বুঝতে হবে এর পরিবর্তনের সময় এসে গেছে।
মসলা
কোনো মসলাই চিরস্থায়ী নয়। শুকনা মসলা এক থেকে চার বছর ভালো থাকে। এটা নির্ভর করে কোন ধরনের মসলা, সেটার ওপর। তবে ভালো বিষয় হল মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়।
তাই অনেক ক্ষেত্রে খাবারে সামান্য পুরানো মসলা খাওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা সতেজ মসলার মতো অতটা শক্তিশালী স্বাদ বা ঘ্রাণ সমৃদ্ধ নয়।
বোতলের পানি
বোতলের পানিরও একটি মেয়াদকাল রয়েছে। এর প্রধান কারণ হল প্লাস্টিকের বোতলে পানির অণু ভেঙে যায়। এমনকি স্বাদেও পরিবর্তন আসে। তাছাড়া এই পানি পানের ক্ষেত্রেও অনিরাপদ।
উষ্ণ তাপমাত্রায় সংরক্ষিত বোতলের পানির অণু শীতল স্থানে রাখা পানির তুলনায় দ্রুত ভেঙে যায়।
যেমন- গ্যারেজ বা গাড়িতে রাখা প্লাস্টিকের বোতলের পানি দ্রুতই অনু ভেঙে যায়। তাই সেটা পান করা উচিত না। অন্যদিকে ঘরে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখা পানি তুলনামূলক ভালো।