Published : 11 Mar 2026, 07:06 PM
ঘুম ভাঙার পর দ্রুত প্রস্তুত হওয়া, নাশতা করা, যানজটের মধ্যে দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছানো- সব মিলিয়ে দিনের শুরুটা অনেক সময়ই ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে কর্মজীবীদের জন্য এই পথযাত্রা মানসিক চাপের বড় কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মনোচিকিৎসক ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “কর্মদিবসের সকালগুলো অনেক সময়ই ভারী মনে হয়, কারণ তখন শুধু ঘর থেকে বের হওয়া হচ্ছে এমন নয়, বরং ‘কাজ শুরু হয়ে গেছে’ সেটাও মনের মধ্যে বাজতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “কর্মস্থলে যাওয়ার সময় অনেকেই মনে মনে দিনের কাজের তালিকা তৈরি করেন, সম্ভাব্য সমস্যার কথা ভাবেন কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে কী কথা বলবেন তা কল্পনা করেন। এতে মস্তিষ্ক এমন কাজের জন্য শক্তি ব্যয় করে যা এখনও শুরুই হয়নি।”
এই মানসিক চাপ কমানোর কিছু সহজ উপায় রয়েছে। সামান্য কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে কর্মস্থলে যাওয়ার সময়টুকু অনেক বেশি শান্ত ও আনন্দময় হতে পারে।
মন শান্ত রাখে এমন শব্দ বা গল্প শোনা
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মন ভালো রাখতে গান বা গল্প শোনা ভালো অভ্যাস। শান্ত বা আনন্দদায়ক কিছু শোনা মেজাজকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে।
ছন্দময় শব্দ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে পারে। এতে মন ধীরে ধীরে চাপমুক্ত হয় এবং কর্মস্থলে পৌঁছানোর সময় নিজেকে বেশি মনোযোগী ও প্রস্তুত অনুভব হয়।
অফিসের যাত্রাপথে পরিচিত কোনো পুরোনো গান বা প্রিয় গল্প শোনা বিশেষ স্বস্তি এনে দিতে পারে।
দিনের শুরুতে একটি স্থির অভ্যাস তৈরি করা
সকালের ব্যস্ততার মাঝেও যদি ছোট একটি নিয়মিত অভ্যাস তৈরি করা যায়, তাহলে তা মানসিক স্থিরতা এনে দেয়। অর্থাৎ প্রতিদিনের রুটিনে একটি ছোট কিন্তু স্থায়ী কাজ রাখা খুব উপকারী।
এটি হতে পারে কয়েক মিনিটের ধ্যান, নিজের জন্য ইতিবাচক কিছু কথা বলা অথবা দিনের জন্য কৃতজ্ঞতার তালিকা মনে করা।
এই ধরনের অভ্যাস মস্তিষ্ককে একটি সংকেত দেয় যে- দিনটি চাপ দিয়ে নয়, সচেতনভাবে শুরু হচ্ছে। ফলে সকাল থেকেই মন একটু শান্ত থাকে।
স্বস্তি দেয় এমন অনুভূতি সঙ্গে রাখা
কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ছোট কিছু বিষয়ও মানুষের মানসিক অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন- হাতে গরম পানীয় রাখা বা গলায় আরামদায়ক একটি ওড়না বা স্কার্ফ জড়িয়ে নেওয়া।
শরীর যখন আরামদায়ক কোনো অনুভূতি পায় তখন তা মস্তিষ্ককে শান্ত হওয়ার বার্তা দেয়।
এই ধরনের ছোট ছোট আরামদায়ক অভিজ্ঞতা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই মানসিক স্থিরতা তৈরি হতে পারে।
দিনের শুরুতে হালকা নড়াচড়া
সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম করা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে সামান্য শারীরিক নড়াচড়া করলেও শরীর ও মন সতেজ থাকে।
মনোচিকিৎসক ক্রিস্টিন অ্যান্ডারসন মনে করেন- কর্মস্থলে যাওয়ার পথে যদি কেউ হেঁটে যান তাহলে কয়েক মিনিট বেশি হাঁটা যেতে পারে। এতে শরীর কিছুটা সক্রিয় হয় এবং মন সতেজ থাকে।
আবার কেউ যদি গাড়ি বা অন্য পরিবহন ব্যবহার করেন, তাহলে যাত্রা শুরুর আগে বা অফিসে এসে কয়েকটি সহজ শরীরচর্চা করা যেতে পারে।
এতে শরীরের পেশির টান কমে এবং কর্মস্থলে পৌঁছে নিজেকে বেশি স্থির অনুভব হয়।
নিজের ভাবনা রেকর্ড করা
সকালে নানান চিন্তা মাথায় আসতে পারে। সেগুলো লিখে রাখা বা রেকর্ড করা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নিজের ভাবনা বা অনুভূতি রেকর্ড করা অনেকটা ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো কাজ করতে পারে।
সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দিনের পরিকল্পনা, নিজের পর্যবেক্ষণ বা অনুভূতি রেকর্ড করলে তা এক ধরনের মানসিক মুক্তি দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলো এক ধরনের ব্যক্তিগত স্মৃতি হিসেবেও থেকে যায়।
কৃতজ্ঞতার অভ্যাস তৈরি করা
সকালে দিনের শুরুতেই যদি কয়েকটি বিষয় নিয়ে কৃতজ্ঞতা অনুভব করা যায় তাহলে তা মানসিক অবস্থাকে ইতিবাচক করে তোলে। কল্পনা বা ইতিবাচক ভাবনা মস্তিষ্কের একই স্নায়ুপথ সক্রিয় করে যেগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতায় কাজ করে।
অর্থাৎ, যদি কেউ সকালে কয়েকটি ভালো বিষয় মনে করেন, যেমন- পরিবার, স্বাস্থ্য বা কোনো আনন্দের মুহূর্ত তাহলে তার মস্তিষ্ক ইতিবাচকভাবে দিন শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়।
এতে কর্মস্থলে যাওয়ার সময়টাও কম চাপের মনে হয়।
কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগে যে অভ্যাসটি এড়িয়ে চলা উচিত
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে অনেকেই একটি বড় ভুল করে থাকেন। সেটা হল- তারা যাত্রাপথেই কাজ শুরু করে দেন।
যেমন- ইমেইল দেখা বা সহকর্মীদের বার্তার উত্তর দেওয়া। এই অভ্যাস খুবই ক্ষতিকর।
কারণ যাত্রাপথটি নিজের জন্য একটি মানসিক বিরতি হওয়া উচিত। যদি কেউ এই সময়েই কাজ শুরু করে দেন, তাহলে মস্তিষ্ক দিনের শুরুতেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে যায়।
তাই কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখাই ভালো।
আরও পড়ুন
ঘুমের সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে অফিসের কাজ