জুতা-স্যান্ডেল দরজার বাইরে রেখে ঘরে ঢুকে কোনো লাভ নেই, যদি না…

জুতা-স্যান্ডেল দরজার বাইরে রেখে আসলেও ঘর নোংরা থাকতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2024, 02:29 PM
Updated : 25 Jan 2024, 02:29 PM

বাইরে থেকে নিজেই ফিরুন বা কোনো অতিথি আসুক, দরজার বাইরে জুতা বা স্যান্ডেল খুলে রাখার একমাত্র কারণ হল ঘর যাতে নোংরা না হয়।

তবে অপ্রিয় সত্য বিষয় হল, তারপরও ঘর ময়লা থাকতে পারে।

যদিও মেঝে জীবাণু মুক্ত রাখতে ঘরের বাইরে পাদুকা রেখে আসাকে সেরা পন্থা হিসেবে আখ্যা দেন- ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি’র ‘এনভায়রনমেন্টাল রিজিলিয়েন্স ইন্সটিটিউট’য়ের নির্বাহী পরিচালক গ্যাবরিয়েল ফিলিপেলি।

ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি-পাজু ইউনিভার্সিটি ইন্ডিয়ানাপলিস’য়ের ‘আর্থ সায়েন্স’ বিভাগের এই অধ্যাপক সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলেন, “আমরা সব ধরনের ব্যাক্টেরিয়া চিহ্নিত করতে পেরেছি। বিশেষ করে ই.কলি- যা মারাত্মক ডায়রিয়া, পেটব্যথা, রক্ত-পায়খানার মতো বিপজ্জনক রোগের জন্য দায়ী। আর জুতার মাধ্যমে এসব ঘরে ঢোকে যা আমাদের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে।”

তবে এখানে একটা ‘কিন্তু’ থেকেই যায়।

ভারী ধাতু ও অন্যান্য

“শুধু ব্যাক্টেরিয়ার মতো বিপজ্জনক বিষয় যে ঘরের ভেতর ময়লার মাধ্যমে ‍ঢুকে তা নয়, শহুরে বাসা-বাড়িতে বিষাক্ত ধাতুও মেলে”- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন বর্তমানে ‘বার্সেলোনা ইন্সটিটিউট ফর গ্লোবাল হেল্থ’য়ে কর্মরত প্রধান গবেষক জিল লিট।

‘ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো’র এই অধ্যাপক আরও বলেন, “আমাদের গবেষণায় শহুরে এলাকায় ধুলার পাশাপাশি জুতাতেও লেড’য়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।”

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের বাগান রয়েছে তাদের ঘরে মিলেছে কীটনাশকের উপস্থিতি, যা কি-না জুতা বা স্যান্ডেলের মাধ্যমেই এসেছে।

শহুরে পার্ক বা উদ্যানগুলোর মাটিতে বহু বছর ধরে বিভিন্ন ভারী ধাতু, যেমন- লেড, কপার, জিঙ্ক মিশে চলেছে দূষণের কারণে। অন্যদিকে কৃষি প্রধান গ্রামীন পরিবেশে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় কীটনাশকের ‍উপস্থিতি- মন্তব্য করেন লিট।

যেসব বাড়ি পুরানো, বিশেষ করে ১৯৭৮ সালে আগে তৈরি হয়েছে, সেগুলো ব্যবহৃত রং ছিল লেড ভিত্তিক। কারণ ছিল সেটা সস্তা। এসব রং ওঠানোর সময় মারাত্মক ক্ষতিকর ধুলা তৈরি হয়- জানান এই বিশেষজ্ঞ।

কোনো বয়সের জন্যই লেড’য়ের নিরাপদ মাত্রা নেই। তবে শিশু ও দুর্বলদের জন্য দুষিত ধাতুর বিষাক্ততার প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ। আর এসব অতি ক্ষুদ্র কণা শুধু বাতাসেই নয় মেঝেতেও মিশে থাকতে পারে।

“শিশুদের বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শে আসার সহজ মাধ্যম হল হাত থেকে মুখে। কারণ তারা মেঝেতে গড়াগড়ি খায়”- বলেন লিট।

ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা

তাই অতিথি বা বাইরে থেকে নিজে এসে জুতা খুলে ঘরে ঢোকার আগে মেঝে পরিষ্কার রাখা জরুরি। এজন্য শুধু ঝাড়ু দেওয়া নয়, পাশাপাশি ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা বা মপ ব্যবহার করতে হবে।

তবে লিট পরামর্শ দেন, “আগে ঝাড়ু দিলে ময়লা উড়ে এসব বিষাক্ত ধাতু বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। তাই প্রথমে মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা উচিত। পানি দিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা হল বিষাক্ততা দূর করার সেরা উপায়।”

“একই কথা খাটে, দেয়াল বা লম্বালম্বি কোনো জায়গার ক্ষেত্রেও”- বলেন ফিলিপেলি।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, “তবে প্রতিদিন পরিষ্কার থাকতে দেয়াল, মেঝে, জানালা, টেবিল-চেয়ারের ওপর-নিচ অন্যান্য আসবাব ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা উচিত।”

এক্ষেত্রে ‘তিনটি বালতি’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়। এক বালতিতে থাকবে সব ধরনের ময়লা পরিষ্কারক মেশানো পানি। দ্বিতীয় বালতি হবে কাপড় বা মপ ধোয়ার জন্য আর তৃতীয় বালতিটা থাকবে খালি।

বাজারে অনেক ধরনের পরিষ্কার পাওয়া যায়। তবে ফিলিপেলি বলেন, “ওসব পরিষ্কারক ছাড়াও ভিনিগার পানির সাথে মিশিয়ে মুছলে ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস হয়। আর যেসব পরিষ্কারকের গন্ধ কড়া সেগুলো আবার মানব শরীরের জন্যও ক্ষতিকর।”

পরিষ্কারক মেশানো পানিতে মপ চুবিয়ে খালি বালতিতে পানি নিংড়ে নিতে হবে। তারপর সদর দরজার একদম কাছ থেকে মুছে আসতে হবে। দ্বিতীয় বালতির পানি দিয়ে মপ ধুয়ে নিতে হবে। পরিষ্কারক মেশানো পানি কালো হয়ে গেলে, ফেলে দিয়ে নতুন পানি নিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ঘর পরিষ্কারের জন্য নতুন পানি নেওয়া উচিত।

লিট বলেন, “ঘরে ঢোকার দরজার কাছের মেঝেতে জীবাণুর পরিমাণ বেশি থাকে। সেখান থেকে যত দূরে যাওয়া হবে ততই কমবে জীবাণুর উপস্থিতি। এছাড়া যারা কার্পেট ব্যবহার করেন তাদের ঘরে ধুলা জমার পরিমাণ বেশি হয়। তাই সেটা ব্যবহার করার কথা দ্বিতীয়বার চিন্তা করা উচিত।”

কার্পেট পরিষ্কার করতে ‘হাই-এফেসিয়েন্সি পার্টিকুলেট এয়ার’ বা ‘এইচইপিএ’ ফিল্টার সমৃদ্ধ ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ ব্যাগহীন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা যাবে না।

পরিষ্কারের পর ময়লা ভরা ব্যাগ বা ফিল্টার ফেলে আসতে হবে ডাস্টবিনে।

অতিথির পাগুলোকে সম্মান করুন

মেঝে তো পরিষ্কার হল। তবে বেড়াতে আসা অতিথির পাগুলো ঠাণ্ডায় কষ্ট পাক সেটা নিশ্চই চাইবেন না।

“এক্ষেত্রে পুনরায় ধোয়া যায় এরকম চপ্পল বা মোজা, অতিথিকে পরতে দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকর চিন্তা”- বলেন ফিলিপেলি।

এতে অতিথির পাগুলো যেমন মেঝেতে সরাসরি লাগবে না আবার খালি পায়ে থাকার জন্য তাদের অস্বস্তিও হবে না।

বাজারে ফুটপাথের ভ্যানে সস্তায় নানান মাপের চপ্পল পাওয়া যায়। সেগুলো বেশ কয়েক জোড়া কিনে অতিথিদের ব্যবহারের জন্য ঘরের ভেতর রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেন, ফিলিপেলি।

ব্যবহারের পর সেগুলো ধুয়ে উঠিয়ে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন

Also Read: দেহ পরিষ্কার করতে লুফা মোটেই নিরাপদ না

Also Read: দেহের যেসব স্থান গোসলে কম মনোযোগ পায়

Also Read: বাড়িতে অতিথি আসার আগে যেসব জিনিস পরিষ্কার করা প্রয়োজন

Also Read: ঘরের যে স্থানগুলো পরিষ্কার রাখা জরুরি