Published : 06 Jan 2026, 03:32 PM
কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই শৌচাগারে যাওয়া এড়িয়ে চলেন। এক চাকরিজীবী নারী সম্প্রতি এর মাশুল দিয়েছেন কষ্ট করে।
২৪ ঘণ্টায় মাত্র একবার প্রস্রাব করায় তার তলপেটে ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও জ্বর দেখা দেয়। পরে জানা যায়, প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়েছে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। প্রস্রাব কম হওয়া বা চেপে রাখা দেহে বিষাক্ত বর্জ্য জমাতে পারে। সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
এই তথ্য জানিয়ে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে’র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “প্রস্রাবের সংখ্যা ও পরিমাণ দেহের স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।”
দেহের নানান ক্রিয়ায় পানি অপরিহার্য। কোষের গঠন ঠিক রাখতে এবং ক্ষতিকর বর্জ্য বের করে দিতে প্রস্রাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে দৈনিক অন্তত দুই লিটার পানি পান করতে হবে। কায়িক শ্রম, অতিরিক্ত ঘাম বা গরম আবহাওয়ায় এর পরিমাণ আরও বাড়ে। তৃষ্ণা পেলে অবশ্যই পানি গ্রহণ করতে হবে।
প্রস্রাবের রং দেখে পানির চাহিদা বুঝুন— স্বাভাবিক রং হালকা খড়ের মতো। গাঢ় হলে বা পরিমাণ কম হলে পানি বাড়ান।
২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারবার প্রস্রাব হওয়া প্রয়োজন। এর কম হলে পানিশূন্যতা, কিডনি রোগ, মূত্রনালির পাথর, নিম্ন রক্তচাপ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
ডা. নয়ন বলেন, “পাতলা পায়খানার মতো সাধারণ সমস্যাতেও রক্তচাপ কমে প্রস্রাব হ্রাস পেতে পারে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।”
অন্যদিকে, দিনে আটবারের বেশি প্রস্রাব হলে সতর্ক হোন। চা, কফি, চকলেট বা মিষ্টি পানীয় কমান— এগুলো মূত্রবর্ধক।
বারবার অল্প প্রস্রাব হলে সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা থাকলে।
বয়স্ক পুরুষদের প্রোস্টেট বৃদ্ধি, গর্ভবতী নারীদের জরায়ুর চাপেও এমন হয়। যা স্বাভাবিক, যদি অন্য উপসর্গ না থাকে।
ডা. নয়ন বলেন, “তবে ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা রক্তে ক্যালসিয়াম বৃদ্ধিতেও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে সমাধান না হলে বা অন্য লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক দেখান।”
ডা. নয়নের পরামর্শ, “প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত পানি পান করুন, প্রস্রাবের রং ও সংখ্যা লক্ষ করুন। স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব।”
আরও পড়ুন
রাতে প্রস্রাবের বেগ পাওয়ার কারণ
প্রস্রাব চেপে রাখার স্বাস্থ্য ঝুঁকি
যেসব খাবার মূত্রত্যাগের মাত্রা বাড়ায়