দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে যে ক্ষতি হচ্ছে
শুধু পশ্চাতে নয় সারা শরীরেই পড়ছে ক্ষতিকর প্রভাব।
সকালে ক্লাসে বা অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে পড়াশোনা কিংবা কাজ, বাসায় ফিরে সোফায় বা বিছানায় গড়িয়ে মোবাইল স্ক্রল করা— এই অভ্যাসগুলো এখন এতটাই স্বাভাবিক যে আমরা তেমন একটা গায়ে মাখি না।
তবে এই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার প্রবণতা শরীরের ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে সচেতনতা এখনও অনেকের নেই।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম ‘ডেড বাট সিনড্রোম’ বা ‘গ্লুটিয়ল অ্যামনেইশা’। শুনতে মজার লাগলেও বিষয়টি মোটেও হাস্যকর নয়।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “নিতম্বের পেশি (গ্লুটিয়াল মাসলস) আমাদের শরীরের শক্তিশালী পেশিগুলোর একটি। হাঁটা, দাঁড়ানো, দৌড়ানো, শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা— সব কাজেই এই পেশির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে যখন আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকি, তখন এই পেশিগুলো প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা দুর্বল হয়ে যায় এবং ঠিকভাবে কাজ করা ‘ভুলে’ যায়।”
“একই সঙ্গে কোমরের সামনের পেশি শক্ত ও ছোট হয়ে যায়, যা শরীরের ভঙ্গি নষ্ট করে এবং নিতম্বের পেশির ওপর চাপ আরও কমিয়ে দেয়। এই অসম ভারসাম্য থেকেই জন্ম নেয় ‘ডেড বাট সিনড্রোম”- ব্যাখ্যা করেন তিনি।
লক্ষণগুলো যেমন দেখা দেয়
সমস্যাটি সবসময় সরাসরি নিতম্বে বোঝা যায় না। বরং ব্যথা বা অস্বস্তি দেখা দেয় শরীরের অন্য অংশে। যেমন:
কারণ হল, নিতম্বের পেশি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরের অন্য পেশিগুলো (বিশেষ করে কোমর ও হাঁটু) অতিরিক্ত চাপ নিতে বাধ্য হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কোমর ব্যথা, হাঁটুর সমস্যা এমনকি চলাফেরার ভঙ্গি স্থায়ীভাবে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
যারা অফিসে বসে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
যেভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা আধুনিক জীবনের বাস্তবতা। তবে একটু সচেতনতা ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এই নীরব সমস্যাকে দূরে রাখা সম্ভব।”
সহজ প্রতিরোধের উপায়
পড়া বা কাজের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। যদি নিয়মিত ব্যায়াম ও চলাফেরা বাড়ানোর পরও ব্যথা বা দুর্বলতা না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন
