Published : 04 Jan 2026, 01:59 PM
দীর্ঘ মিটিং, একটানা ক্লাস কিংবা টানা বক্তব্য— এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ চোখ ভারী হয়ে আসার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে ঘুমিয়ে পড়া কোনভাবেই ভালো দেখায় না, কিন্তু ঘুম যেন আর কথা শোনে না।
বিশেষ করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা দায়িত্বপূর্ণ কোনো আলোচনায় এমনটা হলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
তবে এই সমস্যার কিছু বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত সমাধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন ঘুম ও স্নায়ু বিশেষজ্ঞের মতে, সঠিক অভ্যাস ও ছোট কিছু কৌশলেই এই ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
আগের রাতের ঘুমই মূল ভরসা
মিটিংয়ে ঘুম না পাওয়ার সবচেয়ে বড় ভিত্তি তৈরি হয় আগের রাতেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য জনস হপকিন্স’ বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্কুল অব মেডিসিন’য়ের স্নায়ুবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. র্যাচেল সালাস সিএনএন ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক সতর্ক থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “মিটিংয়ের আগে নিজের লক্ষ্য ঠিক করে নেওয়া দরকার। অর্থাৎ আপনি সেখানে কী শিখতে চান বা কী বলতে চান। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।”
অল্প সময়ের ঘুমেও উপকার
অনেক সময় দিনের মাঝামাঝি হঠাৎ ক্লান্তি ভর করে। এক্ষেত্রে অল্প সময়ের জন্য চোখ বন্ধ করাও কাজে আসতে পারে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর স্লিপ অ্যান্ড কগনিশন’য়ের পরিচালক ডা. টনি কানিংহাম বলেন, "মাত্র ছয় মিনিটের ঘুমও সতর্কতা বাড়াতে পারে।"
তবে তিনি সতর্ক করে দেন, আধা ঘণ্টার বেশি ঘুমালে গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে ঘুম ভাঙার পর আরও ঝিমুনি আসতে পারে।
হালকা চলাফেরা শরীর জাগিয়ে তোলে
ঘুমঘুম ভাব কাটাতে শরীরকে একটু নড়াচড়া করানো বেশ কার্যকর।
দ্রুত পায়ে কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং শরীরে এমন কিছু হরমোন ও স্নায়ু-হরমোন নিঃসরণ করে, যা ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
মিটিংয়ের আগে সুযোগ পেলে খোলা জায়গায় কিছুক্ষণ হাঁটা মন ও শরীর দুটোকেই সতেজ করে।
ঠাণ্ডা পানির স্পর্শে সতেজতা
ঘুম কাটানোর আরেকটি সহজ উপায় হল- ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পেরেলম্যান স্কুল অব মেডিসিন’য়ের ক্রোনোবায়োলজি ও স্লিপ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. অমিতা সেহগাল পরামর্শ দেন, “মিটিংয়ের আগে বাথরুমে গিয়ে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে। এতে স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয় এবং ঝিমুনি অনেকটাই কমে।”
পানীয় বাছাইয়ে সচেতনতা
মিটিং চলাকালে বা আগে কী পান করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ক্ষেত্রে এক কাপ কফি সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে।
তবে দিনের শেষভাগে ক্যাফিন গ্রহণ করলে রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
যারা ক্যাফিন এড়িয়ে চলেন, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে পানি পান করা উচিত। মিটিং চলাকালে নিয়মিত পানি পান শরীরকে সতর্ক রাখতে সহায়তা করে।
সক্রিয় অংশগ্রহণে মনোযোগ ধরে রাখা
মিটিংয়ে চুপচাপ বসে থাকলে ঘুম আসার সম্ভাবনা বেশি। প্রশ্ন করা, নোট নেওয়া কিংবা আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলে মন সজাগ থাকে।
আলোচনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারলে সময়ও দ্রুত কেটে যায় এবং ঘুমঘুম ভাব দূরে থাকে।
নিয়মিত ঘুমঘুম ভাব হলে যা করবেন
যদি প্রায়ই দিনের বেলায় ঘুম পেয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন, যদিও বয়সভেদে এই চাহিদা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
নিয়মিত ঘুমের অভাব হলে শরীর তার প্রতিক্রিয়া দেখাবেই।
ঘুমের পরিবেশ ঠিক করা জরুরি
ভালো ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখে। ঘর যেন অন্ধকার, ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক হয়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার।
শোবার ঘরে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রাখা থেকে বিরত থাকা ভালো। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে এসব যন্ত্র বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবঘড়িকে সঠিক পথে রাখে।
সকালে যত দ্রুত সম্ভব প্রাকৃতিক আলোয় বের হলে শরীর বুঝতে পারে দিন শুরু হয়েছে, এতে ঘুমচক্র ঠিক থাকে।
আরও পড়ুন
রাতে বই পড়ার অভ্যাসে ঘুম হবে জম্পেশ