Published : 19 Apr 2026, 04:52 PM
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াতে ‘আডিলেইড কাপ ডে’ উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি থাকে। এ বছর যেটা ৯ মার্চ পালিত হয়েছিল। প্রতি বছর মার্চের দ্বিতীয় সোমবার এই দিবস উদযাপিত হয়।
একসময় এটি মে মাসে অনুষ্ঠিত হত। তবে বৃষ্টির কারণে দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়াতে ২০০৬ সালে প্রতিযোগিতাটি মার্চে স্থানান্তর করা হয়। মার্চ মাসে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক ও অনুকূল থাকে।
‘আডিলেইড কাপ ডে’ প্রাচীন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা, যার সূচনা হয় ১৮৬৪ সালে। সরকারি ছুটি থাকায় মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নিতে পারে, এবং আশপাশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বৃদ্ধি পায়। উল্লেখ্য, ‘আডিলেইড কাপ’য়ের তিন বছর আগেই ১৮৬১ সালে শুরু হয় বিখ্যাত ‘মেলবোর্ন কাপ’।
অস্ট্রেলিয়ার ছুটির ক্যালেন্ডারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। বেশিরভাগ সরকারি ছুটি এমনভাবে সাজানো হয় যাতে সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার–রবিবারের সঙ্গে মিলিয়ে লম্বা ছুটি তৈরি হয়। এতে মানুষ আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারে এবং পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে পারে।
যেমন- ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডে ঘিরে ‘গুড ফ্রাইডে’ ও ‘ইস্টার মান্ডে’ মিলিয়ে চার দিনের ছুটি আছে। যেহেতু এসব ছুটি আগেই নির্ধারিত থাকে, তাই সপ্তাহের মাঝখানে হঠাৎ ছুটি ঘোষণার প্রয়োজন হয় না।
তবে দুটি ছুটি নির্দিষ্ট তারিখেই পালিত হয়— ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ এবং ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন।
বড়দিনের পরদিন ‘বক্সিং ডে’তেও সরকারি ছুটি আছে, যা কেনাকাটা ও খেলাধুলার ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় একই দিনে ‘প্রোক্ল্যামেইশন ডে’-ও পালিত হয়, যা ওই জায়গার প্রতিষ্ঠা ঘোষণার স্মরণে উদযাপিত হয়।
২০২৬ সালে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি ছুটি রয়েছে মোট ১১টি, যার মধ্যে একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়ায় কার্যত ১০দিন কার্যদিবসে ছুটি পাওয়া যাবে। তবে অস্ট্রেলিয়াতে ‘স্টেটস’ ও ‘টেরিটরি’ ভেদে সরকারি ছুটির তালিকা ভিন্ন হয়ে থাকে।
‘স্টেটস’ ও ‘টেরিটরি’র নিজস্ব আঞ্চলিক ছুটি রয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ছুটির কাঠামো জাতীয়ভাবে এক নয়; বরং প্রতিটি ‘স্টেট’ ও ‘টেরিটরি’ তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ছুটির তালিকা নির্ধারণ করে।
যাই হোক, অস্ট্রেলিয়ায় পূর্ণকালীন চাকরিজীবী বছরে চার সপ্তাহ বার্ষিক ছুটি এবং দুই সপ্তাহ ‘সিক লিভ’ পান।
অনেক প্রতিষ্ঠান বড়দিনের সময় দুই সপ্তাহের ‘ক্রিসমাস শাটডাউন’ পালন করে, যেখানে কর্মীদের বার্ষিক ছুটি ব্যবহার করতে হয়। কেউ ছুটি জমিয়ে রাখলে চাকরি পরিবর্তনের সময় সেই ছুটির সমপরিমাণ অর্থও পান। যেমন- আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে।
তবে গত বড়দিনের সময় টানা দুই সপ্তাহ অফিস বন্ধ থাকায় সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে, আমার নয় দিন বার্ষিক ছুটি কমে যায়, ফলে ছুটির বড় অংশ সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
ডিসেম্বরে বিমান ভাড়া বেশি থাকায় সাধারণত এই সময় দেশে যাওয়া হয় না। অন্য মাসে ছুটি নিলে কখনও কখনও ‘নেগেটিভ’ ছুটি হয়ে যায়, যা পরে পূরণ করতে হয়, নইলে ‘আনপেইড’ ছুটি নিতে হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ২০২৬ সালে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে আরও ১৪ দিন ছুটি রয়েছে। মোট ২৮ দিনের মধ্যে ৯ দিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় কার্যত ১৯ দিন কর্মদিবসে ছুটি পাওয়া যাবে।
এছাড়া বিভিন্ন সময় সরকার অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে, যেমন- ঈদকে কেন্দ্র করে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে সরকারি ছুটি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
বাংলাদেশে বেশিরভাগ দিবস নির্দিষ্ট তারিখে পালিত হওয়াতে সেগুলো সাপ্তাহিক কার্যদিবসে পড়ে। কখনও দেখা যায় শুক্রবার–শনিবারের পর সোমবার ছুটি, কিন্তু রবিবার অফিস খোলা থাকায় অনেকেই এই ছুটি কাজে লাগাতে পারেন না।
যারা ছুটি ম্যানেজ করতে পারেন তারা চার দিনের ছুটি পান। যারা পারেন না তারা কর্মস্থলেই থাকেন।
সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে যদি একই নিয়ম মানা হতো, তাহলে সবার জন্যই সুবিধাজনক হতো।
বাংলাদেশে সাধারণ ও ‘সিক লিভ’ থাকলেও অনেক কর্মী সেটা ব্যবহার করতে পারেন না এবং ব্যবহার না করলে কোনো আর্থিক সুবিধাও পান না।
কিছু ছুটি কমিয়ে বাকিগুলো বার্ষিক ছুটির আওতায় আনলে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং চাকরিজীবী চাইলে ছুটি জমিয়ে রাখতে বা নগদায়ন করতে পারবেন।
লেখক: জসীম উদ্দিন রাসেল। ‘অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনাঃ কমপ্লিট গাইড’ বইয়ের লেখক।