সপ্তাহের মাঝামাঝিতে যে কারণে কাজের গতি কমে
মনের ওপর ‘ওয়েনসডে ইফেক্ট’ বা বুধবারের প্রভাবে মেজাজ খারাপও হতে পারে।
সপ্তাহের প্রতিটি দিনের সঙ্গে অবচেতন মনের আবেগ এবং উৎপাদনশীলতা বা প্রোডাক্টিভিটির এক অদৃশ্য মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ রয়েছে।
চিরাচরিতভাবে সোমবারের কাজের চাপ বা শুক্রবারের ছুটির আমেজ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হলেও, সপ্তাহের ঠিক মধ্যবর্তী দিন অর্থাৎ ‘বুধবার’ মনস্তত্ত্বে জটিল প্রভাব ফেলে।
মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক সাময়িকী ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মনস্তত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, কর্ম-সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ক্লান্তি, একাগ্রতা এবং সামাজিক আচরণের মধ্যে সুনির্দিষ্ট রূপান্তর ঘটে, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘দ্য ওয়েনসডে ইফেক্ট’ বা বুধবারের প্রভাব বলা হয়।
মার্কিন সমাজ বিজ্ঞানী, গবেষক এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এমিলি বালসেটিস এই বিষয়ে বলেন, “কর্মসপ্তাহের প্রথম দুই দিন, মানুষ তার সমস্ত মানসিক ও শারীরিক শক্তি দিয়ে নতুন লক্ষ্যপূরণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে বুধবার আসতে আসতেই সেই প্রাথমিক উদ্দীপনা অনেকটাই কমে আসে এবং মস্তিষ্কে এক ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্লান্তি বা ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ তৈরি হয়।
এর ফলে শরীরে স্ট্রেস বা চাপের হরমোন ‘কর্টিসল’-এর নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা মানুষকে কিছুটা খিটখিটে বা উদাসীন করে তুলতে পারে।”
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, বুধবার হল একটি ‘পরিবর্তনকালীন সন্ধিক্ষণ’; যেখানে মানুষ তার ফেলে আসা আড়াই দিনের কাজের ধকল অনুভব করে এবং একই সঙ্গে আর মাত্র দুই বা এক দিন পর আসন্ন ছুটির প্রতীক্ষায় দিন গুনতে শুরু করে।
২০১৯ সালে ‘কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন সাইকোলজি’-এত প্রকাশিত গবেষণাতেও এই বিষয়ে সমর্থন যোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির দুই গবেষক হেংচেন দাই এবং ক্লেয়ার লি পর্যবেক্ষণে দেখতে পান, বুধবার দুপুরের পর মানুষের অবচেতন মন প্রাকৃতিকভাবেই একটু ধীরস্থির বা কম প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ খোঁজে।
আর সপ্তাহের মধ্যবর্তী সময়ে অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া চরম অবৈজ্ঞানিক, যা ‘বার্নআউট’ বা তীব্র মানসিক অবসাদের ঝুঁকি বহুণ বাড়িয়ে দেয়।
এই মানসিক জড়তা বা স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে বিশেষজ্ঞরা বুধবারে বড় কোনও নতুন প্রজেক্ট শুরু না করে, রুটিনমাফিক সহজ কাজগুলো সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।
একই সঙ্গে দুপুরের বিরতিতে ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে একটু খোলা বাতাসে হাঁটা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের বাইরে হালকা কুশল বিনিময়, শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর জন্য মানসিক দীর্ঘায়ু অর্জনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
