স্নিগ্ধ সাজের হালকা ফ্যাশনে বাটিকের পোশাক
শুধু শাড়ি কেন, বাটিক নকশায় সাজানো যায় নানান ধরনের পোশাক।
হালকা শীতের আভাস আসলেই পোশাকেও যেন একটু রংয়ের পরিবর্তন আসে। হালকা, স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত রংয়ের প্রতি বাড়ে আগ্রহ। আর দেশীয় পোশাকের মধ্যে বাটিক হতে পারে বেশ স্বস্তিদায়ক ও নান্দনিক পছন্দ।
তবে বাটিক মানেই শুধু শাড়ি, এমন ধারণাও যথার্থ হবে না। কারণ শাড়ির পাশাপাশি কামিজ, কুর্তি, ওড়না, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, স্কার্ট, টপসসহ অনেক নিরীক্ষাধর্মী পোশাকে জায়গা পাচ্ছে এই মাধ্যম।
অন্যদিকে বাটিকের বিশেষত্ব হল, এর নকশায়। একই সঙ্গে কয়েক রংয়ের ব্যবহার ও নকশার বৈচিত্র্য পোশাকের ভিন্নতার কারণ।
কোথাও ফুল-পাতার নকশা, কোথাও জ্যামিতিক বিন্যাস, কোথাও আবার প্রকৃতির নানান অনুষঙ্গ। ফলে পোশাকের ধরন বদলালেও বাটিকের নিজস্ব সৌন্দর্যটি থেকে যায়।
শাড়ির গণ্ডি পেরিয়ে
বাটিকের সঙ্গে শাড়ির সম্পর্ক সব সময়েই থাকে। তাই বাটিক শাড়ি দেশীয় সাজের পরিচিত রূপও বটে। বিশেষ করে শরতের স্বচ্ছ আবহাওয়া বা উৎসবের দিনে উজ্জ্বল বা শান্ত রংয়ের বাটিক শাড়ি সহজেই আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করে।
সাদা জমিনে নীল বা লাল নকশা, নীলের সঙ্গে সাদা, হলুদের সঙ্গে লাল কিংবা মাটির কাছাকাছি রংয়ের সমন্বয়—প্রতিটি বিন্যাসেই তৈরি হতে পারে ভিন্ন আবহ।
বাটিকের সৌন্দর্যকে শুধু শাড়ির মধ্যে আটকে রাখার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন, ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ লিপি খন্দকার।
তার মতে, “কামিজ ও কুর্তিতে বাটিকের ব্যবহার বেশ বৈচিত্র্যময়। প্রতিদিন পরার জন্য হালকা নকশার কুর্তি যেমন বেছে নেওয়া যায়, তেমনি একটু বড় নকশা ও উজ্জ্বল রংয়ের পোশাক হতে পারে উৎসবের জন্য।”
সালোয়ার-কামিজের পুরো পোশাকে বাটিক থাকতেই হবে এমন নয়। শুধু কামিজে বাটিক রেখে একরঙা সালোয়ার ও ওড়না পোশাকে পরিপাটি ভাব আসে।
ওড়নায় বদলে যেতে পারে পুরো সাজ
বাটিকের একটি ওড়না বা স্কার্ফ দিয়েও সাধারণ পোশাকে নতুন মাত্রা যোগ করা সম্ভব। একরঙা কামিজের সঙ্গে নকশাদার বাটিক ওড়না ব্যবহারে আসে বৈচিত্র্য।
আবার বাটিকের কামিজের সঙ্গে একরঙা ওড়না রাখলে পোশাকের নকশাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
“এখানে রংয়ের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ”, বলেন লিপি খন্দকার।
পোশাকে যদি একাধিক রং থাকে, তাহলে গয়না বা অন্য অনুষঙ্গে খুব বেশি রং যোগ না করাই ভালো।
পাঞ্জাবি ও ফতুয়াতেও বাটিক
বাটিকের ব্যবহার পাঞ্জাবি ও ফতুয়াতেও বেশ মানানসই। বিশেষ করে উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার দিনে মেয়েদের বাটিকের পাঞ্জাবি, টপ, ফতুয়া হতে পারে স্বাভাবিক অথচ আলাদা ধরনের পোশাক।
সাদা, নীল, ধূসর, মাটি, জলপাই বা হালকা হলুদ রংয়ের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টপ বাটিকের নকশা থাকলে সেটি যেমন শান্ত ও মার্জিত দেখায়, তেমনি গাঢ় রংয়ের পোশাকে বড় নকশা তৈরি করতে পারে উৎসবের আবহ।
বিশেষভাবে ফতুয়ার ক্ষেত্রে বাটিকের ব্যবহার, পোশাকটিকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলতে পারে।
স্কার্ট ও টপসে নতুন বাটিক
লিপি খন্দকার বলেন, “বাটিকের আধুনিক ব্যবহার নিয়ে কথা বলতে গেলে, স্কার্ট ও টপসের কথা চলে আসে। কারণ পোশাকে বাটিককে নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ এখানে বেশি।”
বাটিকের স্কার্টের সঙ্গে একরঙা টপস পরা যায়। আবার বাটিকের টপসের সঙ্গে সাদামাটা স্কার্ট বা প্যান্ট রাখা যায়। এতে দেশীয় নকশা থাকলেও পোশাকের ধরন হয়ে ওঠে আধুনিক।
“আরও একটি নতুন ভাবনা হতে পারে, একই বাটিক কাপড়ের পুরো পোশাক না বানিয়ে এর ছোট অংশ ব্যবহার করা। যেমন- পোশাকের হাতা, গলার অংশ, পকেট বা কোমরের অংশে বাটিকের কাপড় ব্যবহার করা। এতে বাটিকের উপস্থিতি থাকে, তবে পোশাকটি গতানুগতিক দেখায় না”, পরামর্শ দেন এই পোশাক-সজ্জাকর।
শরতের পূজায় বাটিক
শরতের উৎসবের সাজে বাটিককে একটু অন্যভাবে দেখা যেতে পারে। পূজার দিনে শাড়ি পরার প্রচলন থাকলেও, এর বাইরেও বাটিকের কামিজ, কুর্তি বা ওড়না দিয়ে তৈরি করা যায় উৎসবের সাজ।
যারা শাড়িতে স্বচ্ছন্দ নন, তারা লাল-সাদা, হলুদ-লাল বা সাদা-নীল বাটিকের পোশাক বেছে নিতে পারেন।
পূজার অঞ্জলি, অনুষ্ঠান বা সন্ধ্যার আড্ডার জন্য পোশাকের ধরনেও পরিবর্তন আনা যায়।
দিনের বেলায় হালকা রংয়ের বাটিক কুর্তি বা কামিজ আর সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে গাঢ় রংয়ের বাটিক শাড়ি হতে পারে ভিন্ন পছন্দ।
সঙ্গে অতিরিক্ত সাজের বদলে দেশীয় গয়না ও সাধারণ চুলের সাজ রাখলে পোশাকের নকশাই হয়ে উঠবে আকর্ষণ।
বাটিকের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক
বাটিকের নকশায় প্রকৃতির উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। ফুল, পাতা, লতা, পাখি কিংবা জ্যামিতিক নকশা— সবকিছুই পোশাকে আলাদা ভাষা তৈরি করে।
তাই বাটিক যেন শুধু একটি কাপড়ের ধরন নয়, দেশীয় নকশার একটি চলমান গল্প হিসেবেও দেখা যায়।
ছবির মডেল: নওশীন নাবিলা।
