১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘড়ির রং বদলে সাজে ভিন্নতা

একই পোশাক, একই ব্যক্তিত্ব অথচ হাতের ঘড়ি বদলালেই পুরো সাজে আসতে পারে পরিবর্তন।

রিফাত পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Oct 2026, 08:00 PM

Updated : 14 Oct 2026, 07:15 PM

শুধু সময় দেখতেই নয়, রুপালি বা সোনালি হাতঘড়ির আভা পোশাকে যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা।

অনেক সময় কালো ডায়াল আর রুপালি বেল্টের ঘড়িতে তৈরি হতে পারে আধুনিক, দৃঢ় উপস্থিতি। আবার সাদা ডায়াল, সোনালি কাঠামো আর বাদামি চামড়ার ফিতার ঘড়ি এনে দিতে পারে উষ্ণ, আভিজাত্যপূর্ণ আবহ।

ঘড়ি তাই কেবল সময় দেখার অনুষঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশেরও মাধ্যম হয়ে ওঠে।

রুপা রঙা ঘড়িতে আধুনিকতা

রুপালি রংয়ের ঘড়ির বিশেষত্ব হল, পরিচ্ছন্ন ও পরিমিত উপস্থিতি। ধাতব বেল্ট, কালো ডায়াল বা সাদামাটা নকশা পোশাকে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

“সাজে অতিরিক্ত চাকচিক্যের বদলে আধুনিক ও পরিপাটি ভাব চাইলে রুপালি ঘড়ি হতে পারে পছন্দের অনুষঙ্গ”, বলেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও বিবিয়ানা’র প্রধান লিপি খন্দকার।

অফিসের পোশাক, আনুষ্ঠানিক জামাকাপড় বা সাধারণ সাজ— রুপালি ঘড়ির স্নিগ্ধ আভা মানিয়ে যায় সবখানেই।

নেভি নীল শার্টের সঙ্গে রুপালি বেল্টের কালো ডায়ালের ঘড়ি বা সাদা বা ধূসর পোশাকের সঙ্গে বেশ পরিচ্ছন্ন সমন্বয় তৈরি হয়।

আবার কালো পোশাকের সঙ্গে রুপালি ঘড়ির বৈপরীত্যও বেশ চোখে পড়ে। হালকা নীল, ‘সেজ সবুজ’ বা পাথুরে ধূসর-বাদামি রংযের পোশাকের সঙ্গেও এ ধরনের ঘড়ি মানানসই হতে পারে বলে মত দেন, লিপি খন্দকার।

রুপালি ঘড়ি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ডায়ালের আকার ও নকশাও গুরুত্বপূর্ণ। সরু বেল্টের ছোট ডায়ালের ঘড়ি সাজে কোমলতা আনতে পারে। অন্যদিকে প্রশস্ত ধাতব বেল্ট ও গাঢ় ডায়ালের ঘড়ি তৈরি করে তুলনামূলক দৃঢ় উপস্থিতি।

ফলে একই রংয়ের মধ্যেও নকশার পরিবর্তনে সাজের ধরন বদলে যায়।

সোনালি ঘড়িতে উষ্ণ আভিজাত্য

সোনালি রংয়ের ঘড়ির আবেদন কিছুটা আলাদা। এর উষ্ণ আভা সাধারণ পোশাকেও পরিশীলিত ভাব আনতে পারে।

বিশেষ করে সাদা বা হালকা রংয়ের ডায়াল, সোনালি কাঠামো এবং বাদামি চামড়ার ফিতার সমন্বয় ঘড়িতে যোগ করে চিরায়ত সৌন্দর্য।

সাজে ক্লাসিক নকশা ও আভিজাত্যের ছাপ রাখতে চাইলে এমন ঘড়ি যথাযথ।  

ক্রিম, ক্যামেল, চকলেট বাদামি ও অলিভ রংয়ের পোশাকের সঙ্গে সোনালি ঘড়ির সমন্বয়ও সুন্দর। এসব রংয়ের উষ্ণতার সঙ্গে সোনালি আভা সহজেই মিশে যায়।

আবার গাঢ় বারগান্ডি, জঙ্গল-সবুজ বা চারকোল রংয়ের পোশাকের সঙ্গেও সোনালি ঘড়ি বৈপরীত্য তৈরি করে। ফলে পোশাকের রং ও ঘড়ির নকশা অনুযায়ী কখনও পাওয়া যায় শান্ত, কখনও কিছুটা জমকালো সাজ।

তবে সোনালি ঘড়ি মানেই বড় ডায়াল বা ঝলমলে নকশা হতে হবে, এমন নয়। সরল ডায়াল, চিকন বেল্ট এবং সীমিত অলংকরণেও সোনালি ঘড়ি বেশ মার্জিত দেখাতে পারে।

আবার গাঢ় বাদামি ফিতার সঙ্গে সোনালি কাঠামোর ঘড়ি আনুষ্ঠানিক পোশাকের পাশাপাশি প্রতিদিনের সাজেও ব্যবহার করা যায়।

ত্বকের সঙ্গে মানানসই রং

ঘড়ির রং বেছে নেওয়ার সময় ত্বকের আভাও বিবেচনায় রাখা যায়। উষ্ণ আভাযুক্ত ত্বকে সোনালি ঘড়ি বেছে নেওয়া যায়। আবার শীতল আভাযুক্ত ত্বকের সঙ্গে রুপালি ঘড়ির সমন্বয়ও ভালো লাগে।

আবার ত্বকে দুই ধরনের আভাই থাকলে সেক্ষেত্রে রুপালি ও সোনালি, দুটিই মানিয়ে যেতে পারে।

“তবে কোনওটিই বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। ত্বকের রং বা আভা অনুযায়ী একটি ধাতব রংকেই বেছে নিতে হবে, এমন ধারণার প্রয়োজন নেই। হাতে ঘড়িটি কেমন দেখাচ্ছে, পোশাকের সঙ্গে কতটা মানাচ্ছে এবং পরতে স্বাচ্ছন্দ্য লাগছে কি-না, এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ”, মন্তব্য করেন লিপি খন্দকার।

এক ঘড়িতে দুই রং

রুপালি ও সোনালি ঘড়ির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হলে এমন নকশাও বেছে নেওয়া যায়, যেখানে ঘড়ি রয়েছে দুই রংয়ের সমন্বয়।

লিপি খন্দকারের কথায়, “এতে বিভিন্ন রংয়ের গয়না বা অন্যান্য অনুষঙ্গের সঙ্গে ঘড়ি মিলিয়ে পরা সহজ হতে পারে। তবে ঘড়ির নকশা, বেল্টের রং এবং পোশাকের সামগ্রিক বিন্যাসে সামঞ্জস্য রাখা ভালো।”

ছবি ও মডেল: নাফিসা নিধি।

পুরানো খবর:

জলপাই সবুজ সাজে নিসর্গের স্নিগ্ধতা
স্নিগ্ধ সাজের হালকা ফ্যাশনে বাটিকের পোশাক
হালকা রংয়ের পাদুকায় শুভ্রতার ছোঁয়া