চোখের পাতায় রংয়ের খেলা: গ্লিটার ও আইশ্যাডো মিশ্রণের কৌশল
সঠিক আইশ্যাডোর জুটিতে চোখের সাজে যোগ হতে পারে ভিন্ন মাত্রা।
কখনও গোলাপির কোমলতায় রুপালির ছোঁয়া, কখনও বাদামির আভিজাত্যে সোনালির উষ্ণ আভা, আবার কখনও কালো-সোনালির যুগলবন্দীতে জমকালো নাটকীয়তা— সঠিক আইশ্যাডোর জুটিতে চোখের সাজে যোগ হতে পারে ভিন্ন মাত্রা।
গোলাপি ও রুপালি: ঝিলমিলে কোমলতা
গোলাপি রংয়ের নিজস্ব কোমলতা আছে। এরসঙ্গে রুপালি মিশলে চোখের সাজে তৈরি হয় মিষ্টি কিন্তু উজ্জ্বল আবহ। দিনের কোনও বিশেষ আয়োজন বা সন্ধ্যার নিমন্ত্রণ, দুই সময়েই মানিয়ে যেতে পারে এই ‘জুটি’।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি বলেন, “চোখের পাতার ওপর হালকা গোলাপি রং দিয়ে শুরু করে মাঝখানে বা ভেতরের কোণে রুপালি আভা যোগ করা যায়। চোখের বাইরের কোণে গোলাপির গাঢ় শেইড ব্যবহার করলে সাজে আসে গভীরতা।
সঙ্গে চিকন করে আইলাইনার ও পাপড়িতে মাসকারা দিলেই চোখের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। গোলাপি বা রুপালি রংয়ের পোশাকের পাশাপাশি সাদা, ধূসর বা হালকা রংয়ের পোশাকের সঙ্গেও মানাবে এই সাজ।”
বাদামি ও সোনালি: আভায় আভিজাত্য
বাদামি ও সোনালি, দুটি রং সব সময় আভিজাত্য আনে। চোখের পাতায় গভীরতা তৈরি করে বাদামি রং আর সোনালি যোগ করে উজ্জ্বলতা।
চোখে খুব বেশি শ্যাডোর ব্যবহার না করেও সাজে পরিবর্তন যোগ করা যায়। আর এই রংয়ের মিশ্রণও বেশ মানানসই।
“সহজ সাজের জন্য চোখের পাতার বাইরের অংশে বাদামি রং ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে মাঝখানে সোনালি আভা দেওয়া যায়”, বলেন শারমিন কচি।
আর ভেতরের কোণে সামান্য সোনালি ব্যবহার করলে চোখ আরও উজ্জ্বল দেখায়।
“বিয়ের অনুষ্ঠান, সন্ধ্যার দাওয়াত বা উৎসবের সাজে এই রং বেশ মানায়। বিশেষ করে মেরুন, সবুজ, কালো, ক্রিম বা সোনালি কাজের পোশাকের সঙ্গে এটি সঠিক সমন্বয়”, বলেন এই রূপ-বিশারদ।
নীল ও রুপালি: সাহসী রং
চোখের সাজে একটু ব্যতিক্রমী ধারা আনতে চাইলে নীল ও রুপালির যুগল মানানসই। নীল রং চোখে আনে গভীরতা, আর রুপালি গ্লিটার উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
চোখের পাতায় নীল শ্যাডো আর মাঝখানে বা ভেতরের দিকে রুপালি আভা যোগ করা যায়।
আবার চাইলে নীলের সঙ্গে কালো রং মিশিয়ে বাইরের কোণ গাঢ় করা সম্ভব।
“তবে রং দুটি ব্যবহারের সময় ভালোভাবে মিশিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে আলাদা রেখার মতো না দেখায়”, পরামর্শ দেন শারমিন কচি।
রাতের অনুষ্ঠান, পার্টি বা বিশেষ কোনও আয়োজনে এই সাজ মানাবে। কালো, সাদা, রুপালি বা গাঢ় নীল পোশাকের সঙ্গে এর সমন্বয় বেশ ভালো।
পিচ ও রোজ গোল্ড: নরম রংয়ে গ্ল্যামার
পিচের হালকা উষ্ণতা আর রোজ গোল্ডের গ্লিটার মিলে সাজে কোমল, পরিশীলিত আবহ আনে। চোখের সাজে খুব গাঢ় রং পছন্দ না তবে ঝলমলেভাব চাইলে এই সমন্বয় ভালো পছন্দ।
চোখের পাতায় পিচ শ্যাডো ছড়িয়ে দিয়ে মাঝখানে রোজ গোল্ডের আভা যোগ করা যায়। আবার চোখের বাইরের কোণে পিচের একটু গাঢ় শেইড ব্যবহার করলে সাজে ভারসাম্য আসে।
এই শ্যাডোর জুটি দিনের অনুষ্ঠান থেকে সন্ধ্যার নিমন্ত্রণ, দুই ক্ষেত্রেই মানিয়ে যায়। পিচ, প্রবাল, গোলাপি, অফ হোয়াইট বা হালকা সোনালি রংয়ের পোশাকের সঙ্গে এই সাজ মানায়।
কালো ও সোনালি: সব সময় নাটকীয়
কালো ও সোনালি এমন শ্যাডো জুটি, যা চোখের সাজে গভীরতা ও গ্লামার দুটোই আনে। কালো শ্যাডো ব্যবহার করা যায় চোখকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে, আর সোনালি সঙ্গে যোগ করে উজ্জ্বল বৈপরীত্য।
সন্ধ্যার অনুষ্ঠান বা জমকালো আয়োজনে এই সাজ মানানসই।
চোখের বাইরের কোণে কালো শ্যাডো দিয়ে ধীরে ধীরে ভেতরের দিকে মিশিয়ে নিতে হবে। পাতার মাঝখানে সোনালি ব্যবহারে বৈপরীত্য আসে। আবার চোখের নিচের বাইরের অংশেও অল্প কালো রং টেনে নেওয়া যায়।
শারমিন কচি বলেন, “তবে কালো রং বেশি না দিয়ে বরং চোখের আকৃতি অনুযায়ী ব্যবহার করাই ভালো। কালো, লাল, মেরুন, সোনালি বা গাঢ় রংয়ের পোশাকের সঙ্গে এই সাজ ভালোই জমবে।”
