সম্ভাব্য সঙ্গীর মন জয় করার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কৌশল এক নয়
সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী নাকি দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেই হিসাব কষে আকর্ষণ, চাহিদা ও শারীরিক ভাষা ভিন্ন হয়।
রোমান্টিক বা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রাথমিক ধাপে, বিপরীত লিঙ্গের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং পারস্পরিক ভালোলাগা তৈরি করা স্বাভাবিক একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া।
আর সেটা করতে গিয়ে ‘ফ্লার্ট’ বা প্রেমেবিলাসী হয়ে হালকা কথা চালিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি নারী ও পুরুষ, দুজনেই করে থাকেন।
অনেকে একে কেবল হালকা লৌকিকতা বা চপলতা মনে করলেও, মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী নোয়াম শপাঞ্চার উল্লেখ করেন, “সফল ও কার্যকর ‘ফ্লার্টিং’য়ের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা এবং শারীরিক ভাষা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।”
নারীদের জন্য কার্যকর কৌশল: যৌনলভ্যতা ও ইতিবাচক সংকেত
প্রতিবেদনে নোয়াম শপাঞ্চার ‘নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ এবং আমেরিকার ‘টেক্সাস অ্যান্ড সাউথ বক ইউনিভার্সিটি’র গবেষকদের করা পর্যবেক্ষণটি উল্লেখ করেন।
যৌথভাবে মার্কিন ও নরওয়েজিয়ান কলেজ শিক্ষার্থীদের ওপর করা মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, পুরুষেরা প্রাকৃতিকভাবেই এমন নারীদের প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হয় যারা মানসিকভাবে উন্মুক্ত এবং যাদের শারীরিক ভাষায় এক ধরনের ইতিবাচক সংকেত থাকে।
গবেষকদের মতে, নারীদের জন্য কার্যকর ‘ফ্লার্টিং’ কৌশল হল সরাসরি দৃষ্টি বিনিময়, হাসিমুখে কথা বলা, আলিঙ্গন করা বা স্পর্শের মাধ্যমে অবচেতনে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করা।
এই আচরণগুলো পুরুষের অবচেতন মনকে সংকেত দেয় যে নারীটি তার সঙ্গে কথা বলতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে, যা সম্পর্কের প্রাথমিক দেয়াল ভাঙতে সাহায্য করে।
পুরুষদের জন্য কার্যকর কৌশল: সামাজিক মর্যাদা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রদর্শন
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পুরুষদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
নারীরা সাধারণত এমন পুরুষদের পছন্দ করেন, যারা মানসিকভাবে পরিপক্ক, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বা ‘কমিটেড’।
তাই পুরুষদের জন্য কার্যকর ‘ফ্লার্টিং’ কৌশল হল— নিজের আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করা, মার্জিত কণ্ঠস্বর এবং রসবোধ বা হিউমারের সঠিক ব্যবহার।
তবে ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের শারীরিক ছোঁয়া বা ‘বডি কন্টাক্ট’ পছন্দ করলেও, দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য তারা এমন পুরুষদের প্রতি আকৃষ্ট হন, যারা তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং যাদের আচরণে এক ধরনের দায়িত্বশীল আভিজাত্য প্রকাশ পায়, যা বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
রসবোধ ও হাসির গুরুত্ব
নরওয়ে ও আমেরিকার বিজ্ঞানীদের এই যৌথ গবেষণায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ উপাদান বা ‘ইউনিভার্সাল ল্যান্ডমার্ক’ উঠে এসেছে। যা হল ‘রসবোধ’ বা হিউমার।
গবেষণার বাস্তব উদাহরণ অনুযায়ী, কোনও পুরুষ যদি চমৎকার কৌতুক করতে পারে এবং কোনও নারী যদি সেই কৌতুক শুনে আন্তরিকভাবে হাসে, তবে দুজনের মধ্যকার আকর্ষণ ও রোমান্টিক রসায়নকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, হাসির এই ছোট মনস্তাত্ত্বিক আদান-প্রদান শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং অবচেতন মনকে সংকেত দেয় যে সামনের মানুষটি ইতিবাচক ও বন্ধুত্বপূর্ণ।
ফলে ক্ষোভ বা দ্বিধা পরিহার করে সম্পর্কের বন্ধন দ্রুত মজবুত হতে শুরু করে।
সাধারণ পরিচিতি থেকে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর উপায়
‘ফ্লার্টিং’য়ের সময় পুরুষ ও নারীর মধ্যে যোগাযোগের ভুল বোঝাবুঝি বা ‘মিসকমিউনিকেইশন’ হওয়া সাধারণ বিষয়।
অনেক সময় নারীদের সাধারণ সৌজন্যমূলক হাসি বা বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহারকে পুরুষেরা অবচেতনেই ভুলভাবে ‘রোমান্টিক’ সংকেত হিসেবে ধরে নেয়।
এই সমস্যা এড়াতে থেরাপিস্টরা ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
জোর করে অতিরিক্ত ব্যাকুলতা বা ‘চাহিদা’র স্বভাব প্রকাশ না করে, পরষ্পরের শারীরিক ভাষা এবং কথার প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কের গতি ও সীমানা নির্ধারণ করাই হল, ‘ডেইটিং সাইকোলজি’র জন্য নিরাপদ ও কার্যকর কৌশল।
