০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে চায় আলজেরিয়া

স্বাধীনতার জন্য কঠিন লড়াই এবং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে নিহিত দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, বলেন রাষ্ট্রদূত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 12:10 AM

Updated : 02 Nov 2026, 12:10 AM

বাংলাদেশের সঙ্গে তেল-গ্যাস, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য এবং জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছার কথা বলেছেন ঢাকায় আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদুলওয়াহাব সাইদানি।

রোবাবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে আলজেরিয়া বিপ্লবের ৭২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, অভিন্ন ঐতিহাসিক সংহতি, সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুদেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অবিচল আস্থার ওপর নির্মিত সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সাম্প্রতিক আলজিয়ার্স সফরের মধ্য দিয়ে ‘সম্পর্কের গতিময়তা জোরদার’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাইদানি বলেন, “তেল, গ্যাস, ওষুধ, পোশাক, চামড়া, স্বাস্থ্য এবং জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ঢাকার এ আয়োজনে মধ্য দিয়ে ১৩২ বছরের ফরাসি শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৫৪ সালের ১ নভেম্বর আলজেরীয় বিপ্লবের সূচনা উদযাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য, ‘নভেম্বর ১: দেশের স্মৃতি এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ’।

এ আয়োজনের প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু। কূটনৈতিক কোরের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, এবং ঢাকায় আলজেরীয় কমিউনিটির সদস্যরাও আয়োজনে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, স্বাধীনতার জন্য কঠিন লড়াই এবং ন্যায়বিচার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে নিহিত আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধন।

“১৯৭১ সালে প্রথম আরব দেশ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতির ঐতিহাসিক মর্যাদা বহন করে আলজেরিয়া।”

তিনি বলেন, আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, সার্বভৌমত্ব, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

ফিলিস্তিন ও পশ্চিম সাহারার জনগণের ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষার প্রতি আলজেরিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতি আবদুলমাজিদ তিব্বুনের নেতৃত্বে আলজেরিয়ায় চলমান অর্থনৈতিক রূপান্তরের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, হাইড্রোকার্বন-বহির্ভূত রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, খনি শিল্প, কৃষি, আবাসন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আলজেরিয়া।

আলজেরিয়া থেকে গ্যাস আনা এবং দেশটির সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ।

সেই প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানিমন্ত্রী তেল, গ্যাস ও খনি শিল্পে আলজেরিয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন এবং জ্বালানি প্রযুক্তি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা বলেন।

আলজেরিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন জ্বালানিমন্ত্রী টুকু।

তিনি বলেন, বস্ত্র, শিল্পপণ্য, খাদ্যপণ্য, সিরামিক এবং হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতে আলজেরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও আলজেরিয়ায় বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলেন মন্ত্রী।