২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কখন শারীরিক আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ আর কখন নয়

জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে সততা নাকি রূপ, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 03:56 PM

Updated : 29 Sep 2026, 03:59 PM

দীর্ঘমেয়াদী রোমান্টিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি সাধারণত কোন গুণগুলোকে বেশি প্রাধান্য দেন, সততা, ভালো স্বভাব, রসবোধ, বুদ্ধিমত্তা নাকি সুন্দর চেহারা?

মুখে মুখে বেশিরভাগ মানুষই সততা বা বুদ্ধিমত্তাকে এক নম্বরে রাখলেও, বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।

মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইটন সাইকোলজি টুডে-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের মুখের কথা ও বাস্তব আচরণের মধ্যে বড় ধরনের অমিল থাকে।

মুখে যা-ই বলা হোক না কেন, বাস্তব জীবনে ডেইটিং বা সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক আকর্ষণ বা বাহ্যিক রূপই ‘দ্বাররক্ষক’ হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ‘ইস্টার্ন কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটি’র সমাজ মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক এবং সম্পর্ক-বিষয়ক গবেষক ড. মেডেলিন এ. ফুগেরে, তার এক মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখিয়েছেন, মানুষ অবচেতনভাবেই সুন্দর চেহারার সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, উপযুক্ত বয়স এবং প্রজনন ক্ষমতার একটি ইতিবাচক সংযোগ তৈরি করে।

‘গতিশীল ডেটিং’ বা ‘স্পিড ডেইটিং’ এবং অনলাইন ডেটিংয়ের ওপর করা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, শারীরিক আকর্ষণ পুরুষ ও নারী উভয়ের কাছেই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তার চেয়েও বাহ্যিক সৌন্দর্য মানুষের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশি প্রভাব ফেলে।

এর মনস্তাত্ত্বিক কারণ হল, মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের বেশি সুখী এবং সফল জীবনের অধিকারী বলে মনে করে, যা বিশ্বজুড়ে সব সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেই কম-বেশি দেখা যায়।

তবে মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, শারীরিক আকর্ষণ বলতে মানুষ কিন্তু কোনও সুপারমডেলের মতো নিখুঁত সৌন্দর্য খোঁজে না; বরং বেশিরভাগ মানুষ কেবল ‘পর্যাপ্ত আকর্ষণীয়’ সঙ্গী খোঁজে।

মনোবিজ্ঞানের ‘প্রয়োজনীয়তা বনাম বিলাসিতা’ তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি ন্যূনতম বা মাঝারি স্তরের শারীরিক আকর্ষণ মানুষের কাছে একটি প্রাথমিক ‘প্রয়োজনীয়তা’। এই প্রাথমিক চাহিদাটি পূরণ হওয়ার পর বুদ্ধিমত্তা বা রসবোধের মতো অন্যান্য গুণগুলো ‘বিলাসিতা’ হিসেবে কাজ করে এবং সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়।

অধ্যাপক ফুগেরে আরও উল্লেখ করেন, “মানুষ যখন একে অপরকে গভীরভাবে জানতে শুরু করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ে, তখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যকার আকর্ষণও প্রাকৃতিক উপায়ে গভীর হতে থাকে।”

ফলে সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদী রূপ নেওয়ার পর বাহ্যিক সৌন্দর্যের গুরুত্ব অবচেতনভাবেই অনেক কমে আসে।

পুরানো খবর:

আকাঙ্ক্ষার বস্তু নাকি পরম যত্ন, সম্পর্কে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?
সম্পর্কের সূক্ষ্ম চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে বয়স
গ্যাসলাইটিং: অদৃশ্য মানসিক নির্যাতন চেনার উপায়